মতুয়া সংগীত

বহিল প্রেমের বন্যা

প্রেম প্লাবন ও বিনা রতিতে কর্ণের জন্ম
পয়ার

বহিল প্রেমের বন্যা ওঢ়াকাঁদি হ’তে।
দ্বিজ মুচি শৌচাশুচি ডুবে গেল তাতে।।
আইল প্রেমের বন্যা বীজ হ’ল নাশ।
তাহা দেখি পঞ্চ জনের বাড়িল উল্লাস।।
ব্রাহ্মণ ক্ষত্রিয় বৈশ্য শূদ্র চারি জাতি।
রেচক পূরক কুম্ভকাদি নেতি ধৌতি।।
শাক্ত শৈব গাণপত্য বৈষ্ণব তাপন।
সবে করে সম পুত প্রণয় প্লাবন।।
কল্‌ কল্‌ শব্দ ওঢ়াকাঁদি গোলাঘাটে।
হতাশ নিঃশ্বাসে সদা সে তুফান উঠে।।
ক্ষত্র-বংশ জাত রাম ভরত ত্যজি দেশ।
পাদপদ্ম ভৃঙ্গ বিশ্বনাথ দরবেশ।।
দেশে কি বিদেশ বেগে চলিল তুফান।
যবন পাবনকারী হরিপ্রেম বাণ।।
রাউৎখামার আর গ্রাম মল্লকাঁদি।
হরি দরশনে সবে যায় ওঢ়াকাঁদি।।
নারিকেলবাড়ী মাতে সহ সাহাপুর।
সুরগ্রাম বারখাদিয়া গান্দিয়াসুর।।
হরমোহন বাড়ই গোপাল বিশ্বাস।
ঠাকুরে ঈশ্বর বলি করিল প্রকাশ।।
গোপাল নেপাল তারা দু’টি সহোদর।
গোলোক গোঁসাই জয় গায় নিরন্তর।।
ঘোষালকাঁদি নিবাসী মহিমাচরণ।
সকলে মাতিয়া করে নাম সংকীর্তন।।
ঠাকুর দেখিয়া তারা প্রেমেতে মাতিয়া।
নয়ন মুদিয়া রাখে হৃদয় ধরিয়া।।
মল্লকাঁদি গ্রামবাসী মাতিল সকল।
সকালে বিকালে বলে জয় হরিবোল।।
সেই সব মহাভাব অগ্রে লেখা আছে।
হীরামন যেইরূপ মাতিয়া উঠিছে।।
সেই সময়েতে যত মহাভাব হয়।
মৃত্যুঞ্জয় ভবনেতে আগে লেখা যায়।।
শ্রীনিতাই চৈতন্য অদ্বৈত তিন ভাই।
তাহাদের প্রেমভক্তি তুলনাই নাই।।
নিত্যানন্দ পুত্র যিনি মৃত্যুঞ্জয় নাম।
চৈতন্যের দুটি পুত্র অতি গুণধাম।।
রামকৃষ্ণ জ্যেষ্ঠ ছোট রামনারায়ণ।
হরিচাঁদ গতপ্রাণ তারা দুই জন।।
এক মন এক ভাব নাহি ব্যতিক্রম।
ঠাকুরের ভক্ত বৃন্দাবনের নিয়ম।।
রামদেব মহাদেব অদ্বৈতের পুত্র।
ঠাকুরের ভক্ত হয় পরম পবিত্র।।
এই বাড়ী সবে মিলে হ’ল হরিভক্ত।
মৃত্যুঞ্জয় সঙ্গে মত্ত সকলে থাকিত।।
রামকৃষ্ণ নির্জনেতে যখন থাকিত।
আরোপে ঠাকুররূপ নিরীক্ষে দেখিত।।
ওঢ়াকাঁদি যে ভাবেতে ঠাকুর থাকিত।
বাটীতে থাকিয়া রামকৃষ্ণ তা জানিত।।
রামনারায়ণ করে ঠাকুরের ধ্যান।
একদিনে ঠাকুর বলেন তার স্থান।।
শোন বাছা তোরে নিতে পারিবে না যম।
সপ্তবর্ষ অনিদ্রিত কর এ নিয়ম।।
তাহা শুনি নিদ্রা ত্যজে মনে হ’য়ে হর্ষ।
মহাযোগী নিদ্রা নাহি যান সপ্তবর্ষ।।
হেন হেন মহাজন এই বংশে রয়।
এই বংশে রামতনু সাধু অতিশয়।।
জনমিয়া নারীসঙ্গ না করেন তিনি।
বিবাহ করেছে মাত্র স্পর্শে না রমণী।।
ঠাকুরানী মনে করে পুত্রের কামনা।
সাধু বলে স্ত্রী ক্রিয়া করিতে পারিব না।।
ঠাকুরানী ওঢ়াকাঁদি যাইয়া বলিল।
একটি পুত্রের মম কামনা রহিল।।
ঠাকুর বলেন আমি পারি না বলিতে।
যে লোকের মন নাই স্ত্রীসঙ্গ করিতে।।
স্ত্রীসঙ্গ করিতে যার নাহি লয় মন।
তাহাকে কেমনে বলি হেন কুবচন।।
তবে যদি সাধ কর পুত্র কামনায়।
থাকগে নির্জনে রামতনুর সেবায়।।
নিদ্রা না যাইয়া যদি থাকিবারে পার।
এক পুত্র হ’বে তব দিলাম এ বর।।
পঞ্চ বর্ষ নিশিদিনে অনিদ্রিতা র’য়ে।
তনুর চরণ পার্শ্বে রাত্রিতে বসিয়ে।।
পতি প্রতি রতি মতি প্রীতি অতিশয়।
পুত্রেষ্টি যজ্ঞের ফল তাতে পাওয়া যায়।।
শুনিয়াছি শতানন্দ অস্তিকের জন্ম।
পুত্র পাবে কর যদি সেইরূপ কর্ম।।
তবে তব পুত্র হবে বিনা সঙ্গমেতে।
বাঞ্ছাপূর্ণ হবে তব সেই পুত্র হ’তে।।
একদিন রামতনু গেল ওঢ়াকাঁদি।
ঠাকুর বলেন রামতনু শুন বিধি।।
তব নারী করে এক পুত্র আকিঞ্চন।
আমি কহিয়াছি এক নিগুঢ় কারণ।।
পঞ্চ বৎসরের মধ্যে নিদ্রা নাহি যাবে।
বিনা সঙ্গমেতে এক সন্তান জন্মিবে।।
পঞ্চবর্ষ পূর্ণ হ’লে কনিষ্ঠ অঙ্গুলি।
নাভি পদ্মে স্পর্শ কর কর্ণ কর্ণ বলি।।
তা হ’লে ঠাকুরানীর বাঞ্ছা হবে পূর্ণ।
সেই পুত্র হ’লে তার নাম রেখ কর্ণ।।
রামতনু শস্যাদির শীল রাখিতেন।
মাঠে গিয়া ফুঁক দিয়া শিঙ্গা বাজাতেন।।
একা গিয়া ধান কিংবা তিলের ডাঙ্গায়।
শীল যেন নাহি পড়ে বলিত তথায়।।
আমার মহান মধ্যে ধান আর তিল।
এর মধ্যে ইন্দ্রবেদ না ফেলিও শীল।।
এতবলি শিঙ্গা ধরি ধ্বনি দিত তায়।
পড়িত না শীল হরিচাঁদের আজ্ঞায়।।
হেন সাধু ঠাকুরের আজ্ঞামাত্র রাখে।
পাদ পার্শ্বে নারী বসা সাধু শুয়ে থাকে।।
পঞ্চবর্ষ পরিপূর্ণ হইল যখনে।
নাভিতে অমৃতাঙ্গুলি স্পর্শিল তখনে।।
সেই হ’তে ভাগ্যবতী পুত্রবতী হ’ল।
বিনা রমণেতে এক পুত্র জনমিল।।
সেইত পুত্রের নাম রাখে কর্ণধর।
রচিল তারকচন্দ্র কবি সরকার।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!