নবী হজরত মোহাম্মদ নবীজী মুস্তফা

১৫১.
নিজের জন্যে যা পছন্দ করো, অন্যদের জন্যেও তাই পছন্দ করবে, তবেই হতে পারবে মুমিন। (সহীহ মুসলিম)

১৫২.
নিশ্চয়ই আমি উত্তম নৈতিকতার পরিপূর্ণতা দানের জন্য প্রেরিত হয়েছি। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৬৭, পৃ ৩৭২)

১৫৩.
কিয়ামতে আল্লাহর নিকট মর্যাদার দিক দিয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি হবে সে, যে নিজের এলেম দ্বারা উপকৃত হতে পারে নি।

১৫৪.
তোমরা ক্রয়-বিক্রয়ে অধিক শপথ করা হতে সাবধান থাকবে। কেন না এতে লাভ হলেও পরে তা বিনাশ ডেকে আনে।

১৫৫.
যখন তোমার সৎ কাজ তোমাকে আনন্দ দিবে এবং অসৎ কাজ তোমাকে পীড়া দিবে, তখন তুমিই প্রকৃত মুমিন।

১৫৬.
প্রতিটি জ্ঞান তার বাহকের জন্যে বিপদের কার‌ণ, তবে যে সে অনুযায়ী কাজ করে তার জন্যে নয়। (তাবরানী)

১৫৭.
আল্লাহ’র নিকট সেই আমলই সব চাইতে প্রিয় যা নিয়মিত করা হয়, যদিও তা পরিমাণে অল্প হয়। (বোখারী)

১৫৮.
সবচেয়ে মন্দ লোক জ্ঞানীদের মধ্যে যারা মন্দ তারা, আর সবচেয়ে ভালো লোক জ্ঞানীদের মধ্যে যারা ভালো তারা। (দারমী)

১৫৯.
তোমাদের সন্তানদের সম্মান করো এবং তাদের সাথে আদবের সাথে আচরণ করো। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ২৩, পৃ ১১৪)

১৬০.
গোটা সৃষ্টি আল্লাহর পরিবার। যে ব্যক্তি আল্লাহর পরিবারের জন্যে বেশী উপকারী, সে তাঁর কাছে বেশী প্রিয়। (সহীহ মুসলিম)

১৬১.
তোমরা একে অপরের প্রতি হিংসা করো না, ঘৃণা বিদ্বেষ কারো না এবং পরস্পর থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ো না। (সহীহ মুসলিম)

১৬২.
আল্লাহর পথে একটি সকাল কিংবা একটি সন্ধ্যা ব্যয় করা গোটা পৃথিবী এবং পৃথিবীর সমস্ত সম্পদের চেয়ে উত্তম। (সহীহ বুখারী)

১৬৭.
তোমাদের কেউ মুমিন হবে না, যতক্ষণ সে নিজের জন্যে যা পছন্দ করে, তার ভাইয়ের জন্যেও তাই পছন্দ না করবে। (সহীহ বুখারী)

১৬৮.
ঐ ব্যক্তি বীর নয় যে কুস্তিতে লোকজনকে পরাভূত করে বরং বীর ঐ ব্যক্তি যে ক্রোধের সময় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখে। (বোখারী)

১৬৯.
গুনাহ হতে তওবা করা সর্বদা পছন্দনীয় কাজ, কিন্তু যুবক বয়সে এ কাজটি অধিক পছন্দনীয়। (মাজমুয়াতুল ওয়ারাম, খণ্ড ২, পৃ ১১৮)

১৭০.
কোন মানুষের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এটাই যথেষ্ট যে, সে যাই শোনে তাই যাচাই না করেই অন্যের কাছে বর্ণনা করে দেয়। (মুসলিম)

১৭১.
সুখবর তার জন্যে, যে আমাকে দেখেছে। সাতবার সুখবর ঐ ব্যক্তির জন্যে যে আমাকে দেখেনি, অথচ আমার প্রতি ঈমান এনেছে। (আহমদ)

১৭২.
যে ব্যক্তি অত্যাচার করে অর্ধ হাত জমিন দখল করতে, নিশ্চয়ই ক্বিয়ামতের দিন অনুরূপ সাতটি জমিন তার কাঁধে ঝুলিয়ে দেয়া হবে। (বোখারী)

১৭৩.
নম্রতা, বান্দার মর্যাদা বৃদ্ধি করে; সুতরাং নম্র হও যাতে মহান আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতের শামিল হতে পারো। (নাহজুল ফাসাহাহ, পৃ ২৭৭)

১৭৪.
মহান আল্লাহর পবিত্র সত্ত্বার প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি রূপ হচ্ছে মুসলিম বৃদ্ধ ও বয়োজেষ্ঠ্যদের প্রতি সম্মান করা। (আল-কাফী, খণ্ড ২, পৃ ১৬৫)

১৭৫.
বান্দার উপর আল্লাহর অধিকার হলো, তারা কেবল তাঁরই আনুগত্য ও দাসত্ব করবে এবং তাঁর সাথে কোনো অংশীদার বানাবে না। (সহীহ বুখারী)

১৭৬.
আল্লাহ তায়ালা তিন শ্রেণীর লোকের সাথে শেষ বিচারের দিন কথা বলবেন না। বয়সপ্রাপ্ত যেনাকারী, মিথ্যুক শাসক ও অহংকারী দরিদ্র। (মুসলিম)

১৭৭.
আমি এবং আমার উম্মতের মধ্যে পরহেজগার ব্যক্তিরা, অন্যের উপর কষ্টসাধ্য কোন কাজ চাপিয়ে দেওয়া হতে অনেক দূরে। (এহইয়াইল উলুম, পৃ ২)

১৭৮.
তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে সাহসী ব্যক্তি হচ্ছে সে, যে নিজের নাফসের চাহিদার উপর বিজয়ী হয়। (মান লা ইয়াহযারহুল ফাকীহ, খণ্ড ৪, পৃ ৩৯৫)

১৭৯.
যে ব্যক্তি কোন মুসলিম বৃদ্ধকে সম্মান করে, মহান আল্লাহ্ তাকে কেয়ামতের দিনের ভয় হতে নিরাপত্তা দান করেন। (লি-আলি’ল আখবার, পৃ ১৮১)

১৮০.
যে ঘোষণা দেবে: ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নাই আর মুহাম্মদ (স) আল্লাহর রসুল’- আল্লাহ তাকে জাহান্নামের জন্যে নিষিদ্ধ করে দেবেন। (সহীহ বুখারী)

১৮১.
তোমরা আল্লাহর কিতাবকে আঁকড়ে ধরো। এর হালালকে হালাল বলে গ্রহণ করো এবং এর হারামকে হারাম কাজ নির্ভর করে নিয়্যতের উপর। (সহীহ বুখারী)

১৮২.
যে ব্যক্তি জনগণের মাঝে সবচেয়ে প্রিয় হতে চায়, তার উচিত গুনাহ হতে দূরে সরে মহান আল্লাহর তাকওয়া অর্জন করা। (কানযুল ফাওয়ায়েদ, খণ্ড ২, পৃ ১০)

১৮৩.
মুনাফিকের তিনটি চিহ্ন- ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে, ২. যখন প্রতিশ্রুতি দেয় তা ভঙ্গ করে, ৩. আমানতের খেয়ানত করে। (সহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, পৃ ৮৯)

১৮৪.
যে কোন মুসলমান কোন বৃক্ষ রোপণ করল, অত:পর তা হতে কোন পশু বা মানুষ কিছু অংশ খেল, তাতে ঐ ব্যক্তি দান-খয়রাত করার সওয়াব লাভ করবে। (বোখারী)

১৮৫.
যে ব্যক্তি একটি গুনাহ হতে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তার জন্য মহান আল্লাহর নিকটে ৭০টি কবুল হওয়া হজ্বের সওয়াব রয়েছে’। (মেশকাতুল আনওয়ার ফি গুরারিল আখবার, পৃ ৩১৬)

১৮৬.
যে ব্যক্তি জ্ঞান অর্জনের লক্ষ্যে ক্ষণিকের জন্য হেয় ও প্রতিপন্ন হতে প্রস্তুত হয় না, সে সারা জীবন অজ্ঞতার কারণে হেয় ও প্রতিপন্ন হয়। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১, পৃ ১৭৭)

১৮৭.
ঈমানদার ব্যক্তিদের সম্মান জনগণ হতে তাদের অমুখাপেক্ষীতার মাঝে নিহিত, আর মুক্তি ও আত্মমর্যাদা অল্পে তুষ্টতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। (আদাব ওয়া আখলাক দার ইসলাম, পৃ ৩১৮)

১৮৮.
যে আলেম নিজের জ্ঞানের উপর আমল করে তার জ্ঞান তার জন্য পরিত্রাণদাতা হয়। আর যে আলেম নিজের জ্ঞানকে ত্যাগ করে সে ধ্বংস হয়ে যায়। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ২, পৃ ৩৬)

১৮৯.
যে ব্যক্তির অধিকার রক্ষার বিষয়ে তুমি সতর্ক কিন্তু সে তোমার অধিকার রক্ষায় সতর্ক নয়, সে তোমার জন্য উত্তম বন্ধু নয় এবং সে তোমার সাথে ওঠাবসার যোগ্য নয়। (নাহজুল ফাসাহাহ, পৃ ৬৭৬)

১৯০.
লোকদের উপর কর্তৃত্ব অর্জন ও বিজয়ী হওয়া সাহসিকতা ও বীরত্ব নয়, বরং নিজের লাগামহীন নাফসের উপর কর্তৃত্ব লাভ করাই হচ্ছে প্রকৃত সাহসীকতা ও বিজয়। (মাজমুয়াতু ওয়ারাম, খণ্ড ২, পৃ ১১)

১৯১.
লজ্জা দুই প্রকারের, বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক লজ্জা এবং বোকামীপূর্ণ লজ্জা। বুদ্ধিবৃত্তি ভিত্তিক লজ্জা জ্ঞান হতে উৎসারিত এবং বোকামীপূর্ণ লজ্জা অজ্ঞতা ও মূর্খতা হতে উৎসারিত হয়। (উসুলে কাফী, খণ্ড ২, পৃ ১০৪)

১৯২.
তোমারা ধ্বংস হয়ে যাওয়ার জন্য সৃষ্টি হওনি, বরং তোমরা অবশিষ্ট থাকার জন্য সৃষ্টি হয়েছ। আর তোমরা (মৃত্যুর মাধ্যমে) এক স্থান হতে অন্য স্থানে স্থানান্তরিত হবে। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ৩, পৃ ১৬১)

১৯৩.
উভয় দলই আমার পছন্দের, কিন্তু জ্ঞানচর্চাকারী দলটি প্রার্থনায়রত দলটি অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। আর আমি মহান আল্লাহর পক্ষ হতে মানুষকে শিক্ষা দানের লক্ষ্যে প্রেরিত হয়েছি। (বিহারুল আনওয়ার, খণ্ড ১, পৃ ২০৬)

১৯৪.
পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করিও না, একে অন্যের ছিদ্রান্বেষণ করিও না, পরস্পরে ঈর্ষা পোষণ করিও না, একে অন্যকে হিংসা করিও না এবং হে আল্লাহ’র বান্দা তোমরা সকলে ভাই ভাই হইয়া বাস কর। (বোখারী)

১৯৫.
যে মুমিন মানুষের সাথে মেশে এবং তাদের ঝামেলা সহ্য করে, মহান আল্লাহর দরবারের তাদের পুরস্কার ঐ মুমিন অপেক্ষা বৃহৎ যে মানুষের সাথে মেশে না এবং তাদের ঝামেলাও সহ্য করে না। (মেশকাতুল আনওয়ার ফি গুরারিল আখবার, পৃ ১৯৩)

১৯৬.
যে ব্যক্তি কথায় অধিক সত্যবাদী, আমানত রক্ষায় অধিক সতর্ক, প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অধিক ওয়াফাদার, যার চরিত্র অধিক উত্তম এবং তোমাদের মধ্য হতে জনগণের সাথে যার সম্পর্ক অতি নিকটের, সে কেয়ামতের দিন তোমাদের মধ্য হতে আমার সবচেয়ে নিকটবর্তী ব্যক্তি। (তারিখে ইয়াকুবী, খণ্ড ২, পৃ ৬০)

১৯৭.
বিজ্ঞজনদের মাঝে গর্ব করার উদ্দেশ্যে, মূর্খদের সাথে তর্ক করার উদ্দেশ্যে, সভায় প্রশংসা কুড়ানোর জন্য, জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য, নেতৃত্ব লিপ্সুতার জন্য ও শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনের উদ্দেশ্যে জ্ঞানের সন্ধান করো না। যদি জ্ঞান অর্জনের ক্ষেত্রে কারো উদ্দেশ্য এমন হয় তবে তার স্থান হবে জাহান্নাম। (লি-আলীল আখবার, পৃ ১৯৩)

১৯৮.
কোন নারীকে তার সৌন্দর্য্যের কারণে বিবাহ করো না, কেন না তার সৌন্দর্য তার নৈতিক অবনতির কারণ হতে পারে। একইভাবে তার সম্পদের দিকে দৃষ্টি রেখে তাকে বিবাহ করো না, কেননা তার সম্পদ তার ঔদ্ধত্য ও অবাধ্যতার কারণ হতে পারে। বরং কোন নারীকে তার ঈমানের কারণে বিবাহ করো’। (মাহাজ্জাতুল বাইদ্বা, খণ্ড ৩, পৃ ৮৩)

১৯৯.
তিনটি এমন জিনিষ আছে যাতে কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হয়নি; ১. প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা, চাই অপর পক্ষ মুসলমান হোক বা কাফের। ২. পিতা মাতার প্রতি দয়াশীল হওয়া, চাই তারা মুসলমান হোক বা কাফের। ৩. আমানত রক্ষা করা, চাই অপর পক্ষ মুসলমান হোক বা কাফের। (মাজমুয়াতুল ওয়ারাম [তানবিহুল খাওয়াতের, খণ্ড ২] পৃ ১২১)

২০০.
বিচারক তিন প্রকার। এক শ্রেণীর বিচারক জান্নাতী, আর দুই শ্রেণীর বিচারক জাহন্নামী। ১. যে বিচারক সত্য উপলব্ধি করে এবং তদনুযায়ী বিচার করে সে জান্নাতী। ২. যে বিচারক সত্য উপলব্ধি করতে পারে কিন্তু তদনুযায়ী বিচার করে না, সে জাহান্নামী। ৩. আর এক শ্রেণীর বিচারক সত্য উপলব্ধি করতে পারে না। অজ্ঞতার ভিত্তিতে বিচার করে সেও জাহান্নামী। (আবু দাউদ)

………………………………….
আরো পড়ুন:
মহানবীর বাণী: এক
মহানবীর বাণী: দুই
মহানবীর বাণী: তিন
মহানবীর বাণী: চার
………………………………….

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!