ভবঘুরেকথা
ফকির লালন শাহ্

ফকির লালনের বাণী : প্রবর্তদেশ

৮০১.
বনের পশু হনুমান
রাম বিনে তার নাই রে ধিয়ান।

৮০২.
কইট্ মনে মুদে নয়ন
অন্যরূপ না ফিরে চায়।

৮০৩.
তার প্রমান দেখ চাতকেরে
তৃষ্ণায় জীবন যায় মরে।

৮০৪.
তবু অন্য বারি খায় না সে রে
থাকে মেঘের জলের আশায়।

৮০৫.
রামদাস মুচির ভক্তিতে
গঙ্গা মেলে চাম-কেঠোতে।

৮০৬.
ঐ-রূপ সাধল কত মহতে
লালন কূলে কূলে বায়।

৮০৭.
যাতে যায় শমন যন্ত্রণা।
ভুল নারে মন
গুরুর শীতল চরণ ভুল না।

৮০৮.
বেদ বৈদিকের ভোলে ভুলে
গুরু ছেড়ে গৌর বলে,
মনের ভ্রম এ সকলে
শেষে যাবে রে যাবে জানা।

৮০৯.
চৈতন্য আজব সুরে
থেকে নিকটে দেখায় দূরে,
গুরু রূপ আশ্রয় করে
কর রূপের ঠিকানা।

৮১০.
অবোধ জীবের তরে
নিজ রূপ সম্ভব না রে,
লালন বলে, তাইতে গোঁসাই রে
দেখায় স্বরূপে রূপ নিশানা।

৮১১.
চরণ পাই যেন অন্তিমকালে।
ফেলো না দূর অধম বলে।

৮১২.
সাধলে পাবো চরণ তোমার
সে-ক্ষমতা নাই গো আমার।

৮১৩.
দয়াল নাম শুনিয়ে আশায়
চেয়ে আছি কাঙ্গালে।

৮১৪.
জগাই-মাধাই পাপী ছিল
কাধা ফেলে গায় মারিল।

৮১৫.
তাহে প্রভুর দয়া হল
দয়া কর সেই হালে।

৮১৬.
ভারত-পুরাণেতে শুনি
পতিতপাবন নামের ধ্বনি,
লালন বলে সত্য জানি
এই অধীনে চরণ দিলে।

৮১৭.
ও যার আপন খবর আপনার হয় না।
একবার আপনারে চিনতে পারলে
যাবে অচেনারে চেনা।

৮১৮.
ও সাঁই নিকট থেকে দূরে দেখায়
যেমন কেশের আড়ে পাহাড় লুকায় দেখ না।

৮১৯.
ঢাকা দিল্লী হাতড়ে ফিরি
কোলের ঘোর তো যা না।

৮২০.
আত্মারূপে কর্তা হরি
নিষ্ঠা হলে মিলবে তারি ঠিকানা।

৮২১.
বেদ বেদান্ত পড়বি যত
বাড়বে তত লখনা।

৮২২.
আমি আমি যে বলে মন
যে জানে তার চরণ স্মরণ নে না,
লালন বলে মনের ঘোরে
হলাম চোখ থাকিতে কানা।

৮২৩.
তারে চিনবে কেরে এই মানুষে।
মেরে সাঁই ফেরে যে রূপে সে।

৮২৪.
মায়ের গুরু পুত্রের শিষ্য
দেখে জীবের জ্ঞান নৈরাশ্য।

৮২৫.
কিবা তাহার মনের উদ্দেশ্য
ভেবে বোঝা যায় কিসে।

৮২৬.
গোলকে অটল হরি
ব্রজপুরে বংশীধারী।

৮২৭.
হলো নদীয়াতে অবতারি
ভক্ত রূপে প্রকাশে।

৮২৮.
আমি ভাবি নিরাকার
সে ফেরে স্বরূপ আকার।

৮২৯.
সিরাজ সাঁই কয় লালন তোমার
কই হলো রে সে দিশে।

৮৩০.
উপরোধের কাজ দেখরে ভাই
ঢেঁকি গেলার মতো।

৮৩১.
সে তো যায় না গেলা, তলাগলা
ছিঁড়ে হয় হত।

৮৩২.
মনটা যাতে রাজি হয়
প্রাণটা তাতে আপনি যায়।

৮৩৩.
পাথর দেখে শোলার মতো
ব্যাগার ঠেলা ঢেঁকি গেলা
টাকশালে সই না তো।

৮৩৪.
মুচিরামের কেটোয় গঙ্গা মা
কোন গুণে যায় দেখো না
কেউ ফুল দিয়ে পায় না তো।

৮৩৫.
মন যাতে নাই, পূজতে কী হয়
ফুল দিতে শতশত।

৮৩৬.
যার মনে যা লাগে ভাই
সে করুক সদাই
গোল কেন আর এতো।

৮৩৭.
ফকির লালন কয়, লাথিয়ে পাকায়
সে ফল কভু হয় না মিঠেতো।

৮৩৮.
সোনার মান গেলরে ভাই
ব্যাঙ্গা এক পিতলের কাছে।

৮৩৯.
শাল ফটকের কপালের ফের
কুস্টার বানাত দেশ জুড়েছে।

৮৪০.
বাজিলো কলির আরতি
প্যাঁচ প’ল ভাই মানীর প্রতি,
ময়ূরের নৃত্য দেখি
প্যাঁচায় পেখম ধরতে বসে।

৮৪১.
শালগ্রামকে করে নোড়া
ভূতের ঘরে ঘন্টা নাড়া।

৮৪২.
কলির তো এমনি দাঁড়া
স্থুল কাজে সব ভুল পড়েছে।

৮৪৩.
সবাই কেনে পিতলদানা
জহরের মূল্য হলো না।

৮৪৪.
লালন কয় গেলো জানা
চটকে জগৎ মেতেছে।

৮৪৫.
আয় কে যাবি ওপারে।
দয়াল চাঁদ মোর দিচ্ছে খেয়া
অপার সাগরে।

৮৪৬.
যে দিবে সে নামের দোহাই
তারে দয়া করবেন গোঁসাই,
এমন দয়াল আর কেহ নাই
ভবের মাঝারে।

৮৪৭.
পার কর জগৎ বেড়ি
নেয় না পারের কড়ি,
সেরে সুরে মনের দেড়ি
ভার দেনা তারে।

৮৪৮.
দিয়ে ঐ শ্রীচরণে ভার
কত অধম হল পার।

৮৪৯.
মন বিবাগী বাগ মানে নারে।
যাতে অপমৃত্যু ঘটে
মন সদাই তাই করে।

৮৫০.
কিসে হবে আমার ভজন সাধন
মন হল না মনের মতন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!