রাধা কৃষ্ণ

।। কেদার।।

কুসুমিত বৃন্দাবনে নাচত শিখিগণে
পিককুল ভ্রমর ঝঙ্কারে।
প্রিয় সহচরী সঙ্গে গাইয়া যাইবে রঙ্গে
মনোহর নিকুঞ্জ-কুটীরে।।
হরি হরি মনোরথ ফলিবে আমারে।
দুহুঁক মন্থর গতি কৌতুকে হেরব অতি
অঙ্গ ভরি পুলক-অন্তরে।।

চৌদিকে সখীর মাধ্যে রাধিকার ইঙ্গিতে
চিরুণি লইয়া করে করি।
কুটিল কুন্তল সব বিথারিয়া আঁচড়িব
বনাইব বিচিত্র কবরী।।
মৃগমদ মলয়জ সব অঙ্গে লেপব
পরাইব মনোহর হার।
চন্দন কুঙ্কুমে তিলক বনাইব
হেরব মুখ-সুধাকর।।

নীল-পটাম্বর যতনে পরাইব
পায়ে দিব রতন-মঞ্জীরে।
ভৃঙ্গারের জলে রাঙ্গা চরণ ধোয়ায়ব
মাজব আপন চিকুরে।।
কুসুমক নব দলে শেজ বিছায়ব
শয়ন করাব দোঁহাকারে।
ধবল চামর আনি মৃদু মৃদু বীজব
ছরমিত দুহুঁক শরীরে।।

কনক-সম্পুট করি কর্পূর তাম্বুল ভরি
যোগাইব দোঁহার বদনে।
অধর-সুধা-রসে তাম্বূল সুরসে
ভুঞ্জব অধিক যতনে।।
শ্রীগুরু করুণা-সিন্ধু লোকনাথ দীনবন্ধু
মুঞি দীনে কর অবধান।
রাধাকৃষ্ণ বৃন্দাবন প্রিয়-নর্ম্ম-সখীগণ
নরোত্তম মাগে এই দান।।

……………………
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল) ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা-২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা, ৩০৭৪-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!