পরিব্রাজকাচার্য্যবর শ্রীশ্রীমৎ দূর্গাপ্রসন্ন পরমহংসদেব

তোমরা শত্রুকে ক্ষমা করিতে অভ্যাস কর। পরস্পর পরস্পরের সুখে সুখী দুঃখে দুঃখী হইতে শিক্ষা করিতে হইবে, তবেই প্রকৃত সুখের অনুসন্ধান পাইবে ও সুখ সহজলভ্য হইবে। আত্ম সুখ চিন্তা, একমাত্র দুঃখকে নিমন্ত্রণ করে আনা মাত্র।

সুখে, দুঃখে, সম্পদে, বিপদে একমাত্র ভগবানই মানুষের প্রকৃত বন্ধু। মহাবিপদ আসিলে ও ভগবানে বিশ্বাস অটুট রাখিয়া বিপদ হইতে উর্ত্তীণ হইবার চেষ্টা করিলে সহজেই বিপদ অতিক্রম করিতে পারিবে। বিপদে ভীত হওয়া কাপুরুষের লক্ষণ।

ধৈর্যের সহিত বিপদের সম্মুখীন হও। দুঃখ, দৈন্য, বিপদ, আপদ, সকলই শ্রীশ্রীভগবানের দান। বিপদেই মানুষের মনুষ্যত্বের পরীক্ষা হয়। সুতরাং মহাবিপদেও ধৈর্য হারা হইবে না। যে ব্যক্তি সম্পদের সময়ে ভগবানে বিশ্বাস করে আর বিপদ আসিলে সে বিশ্বাস হারাইয়া ফেলে।

অথবা বিপদের সময় উর্ত্তীণ হইবার জন্য ভগবানকে ডাকে আবার সম্পদের সময়ে তাঁহাকে ভুলিয়া যায় যে ব্যক্তির ভগবানে প্রকৃত বিশ্বাস জন্মে নাই। সব অবস্থায় যাহার বিশ্বাস অচল থাকে সেই ভগবানে প্রকৃত বিশ্বাসী। প্রহ্লাদের ন্যায় অবলীলাক্রমে সে সকল বিপদ অতিক্রম করিতে পারে।

মানুষের ধর্মই তাহাকে বাঁচাইয়া রাখে, ধর্ম দ্বারাই প্রকৃত সুখ ও শান্তি লাভ হয়। সুতরাং কোন ক্রমেই ধর্মভ্রষ্ট হইবে না, অসুরগণ ধর্ম বিরোধী বলিয়া ধর্মানুরত সাধু মহাপুরুষগণের প্রতি কত অত্যাচার করিয়াছে।

মহাপুরুষগণ কী তাহাদের ভয়ে স্বধর্মানুষ্ঠানে বিরত হইয়াছেন?

তোমার ধর্মকে তুমি দৃঢ় রূপে ধরিয়া থাক। কোন প্রকার ভয়ের কারণ উপস্থিত হইলেও ধর্মানুষ্ঠান পরিত্যাগ করিবে না। নিষ্কাম কর্মানুষ্ঠানেই শ্রেষ্ঠ ধর্ম লাভ হয়। অতএব নাম, যশ ও স্বার্থের চিন্তা পরিহার করিয়া মনে প্রাণে পরহিতে রত থাক।

বৃক্ষের জীবনকে আদর্শ রূপে গ্রহণ কর। বৃক্ষ সারাজীবন অপরকে ছায়া দান, আশ্রয় দান, ফলদান ও ফুলদান করিয়া থাকে। অবশেষে নিজের দেহ পর্যন্ত দান করিয়াও পরের অন্ন প্রস্তুত করাইয়া দেয়।

ভোগ অপেক্ষা ত্যাগেই আনন্দ, ত্যাগেই প্রকৃত শান্তি আসে।

সব ধর্মের লোককে শ্রদ্ধা কর। হিন্দু, মুসলমান, খ্রীষ্টান, প্রভৃতি সমস্ত ধর্মের লোকদের সঙ্গে মিত্রতা স্থাপন করিলে দেশে শান্তি আসিবে।

প্রত্যেক নর-নারীকে সঙ্ঘবদ্ধ হইতে হইবে। সমাজে সঙ্ঘবদ্ধ উপাসনা প্রণালী প্রচলন দ্বারা ভগবৎ কৃপালাভের চেষ্টা করিবে, তাহা হইলেই পরম পিতা পরমেশ্বরের আশীর্বাদ লাভ করিয়া নিরাপদে অবস্থান করিতে পারিবে।

শ্রীশ্রীভগবানে বিশ্বাস হারাইও না, তাহার প্রতি নির্ভরশীল লোককে তিনিই বিপদ মুক্ত করেন। সুখে, দুঃখে, সম্পদে, বিপদে কদাপি তাহার নাম ভুলিও না। তারকব্রহ্ম নাম দৈনিক কীর্তনে বিপদ দূর হইয়া যাইবে।

শ্রী শ্রী ভগবানে অটল বিশ্বাস, উদ্যম ও ধৈর্য-এ তিনটির সাহায্যে সকল বিপদ উর্ত্তীণ হওয়া যায়। সুতরাং হুজুগের বশে সহসা কিছু না করিয়া ধৈর্য্যের সঙ্গে বিপদের সম্মুখীন হও। যাহাকে তোমরা অমঙ্গল ভাব শ্রীভগবান্‌ তাহার মধ্যেই মহা মঙ্গলের বীজ নিহিত করিয়াছেন।

…………………………………
আরও আধ্যাত্মিক তথ্য পেতে ও জানতে : ভারতের সাধক-সাধিকা
পুণঃপ্রচারে বিনীত -প্রণয় সেন

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!