ফকির লালন

ফকির লালনের বাণী : গৌরলীলা : চার

ফকির লালনের বাণী : গৌরলীলা

১৫১.
গোলকের চাঁদ গোকুলেরই চাঁদ
নদীয়ায় গৌরাঙ্গ সেহি পূর্ণ চাঁদ।

১৫২.
আর কি আছে চাঁদ সে আর কেমন চাঁদ
আমার ঐ ভাবনা মনে মনে।

১৫৩.
লয়েছি এই গলে গৌর চাঁদের ফাঁদ
আবার শুনি আছে পরম চাঁদ,
থাক সে চাঁদের গুণ কেঁদে কয় লালন
আমার নাই উপায় চাঁদ গৌর বিনে।

১৫৪.
হরি বলে হরি কাঁদে কেনে,
ধারা বহে দু’নয়নে।

১৫৫.
হরি বলে হরি গোরা
নয়নে বয় জলধারা,
কী ছলে এসেছে গোরা
এ নদীয়া ভুবনে।

১৫৬.
আমরা যত পুরুষ নারী
দেখতে এসেছি হরি,
হরিকে হরিল হরি
সে হরি কোনখানে।

১৫৭.
গৌরহরি দেখে এবার
কত পুরুষ- নারী ছাড়ল ঘর,
হরি কী করে এবার
লালন ভাবে মনে।

১৫৮.
কোন রসে প্রেম সেধে হরি
গৌর বরণ হলো সে।

১৫৯.
না জেনে সেই রসের মর্ম
প্রেম যাজন তাঁর হয় কিসে।

১৬০.
প্রভুর যে মত সেই মত সার
আর যত সব যায় ছারেখারে।

১৬১.
তাইতে ঘুরি কিবা করি
ব্রজের পথের পাই নে দিশে।

১৬২.
অনেকে কয় অনেক মতে
ঐক্য হয় না মনের সাথে।

১৬৩.
কার্মে থেকে নিস্কামী হয়
আজব একটা এও জানা যায়।

১৬৪.
নতুন দেশের নতুন রাজন
দেখ দেখ এসেছে এ নদেভুবন।

১৬৫.
যার অঙ্গে এ অঙ্গ ধারণ
তারে তো চিন নাই তখন,
মিছে কেন করছ রোদন
ওগো যশোদা এখন।

১৬৬.
ভাবনা কি আর আছে তোমার
তোমার তো গৌরাঙ্গ কুমার,
সাঙ্গপাংগ নিয়ে এবার
শান্ত করি এ ছার জীবন।

১৬৭.
ভক্তি ভক্তের সঙ্গধারি
অভক্তের অঙ্গ হেরি।

১৬৮.
আঁচলা ঝোলা তিলক মালা
মাটির ভাঁড় দেবে হাতে,
গৌর কলঙ্কিনী ধনী
হোসনে লো কোনমতে।

১৬৯.
মোটা মোটা মালা গলে
তিলক চন্দন তাঁর কপালে,
থাকতে হবে গাছের তলে
মালাতে হবে জল খেতে।

১৭০.
বৃন্দাবনের ন্যাড়ান্যাড়ি
বেড়ায় ব্রজের বাড়ি বাড়ি,
তারা যোগাড় করে সেবা কাড়ি
শাক চচ্চড়ি ওল ভাতে।

১৭১.
গৌর প্রেমের করে আশা
দেখে যা আমাদের দশা,
ঘর ছেড়ে জঙ্গলে বাসা
কামড়ায় মশা মাছিতে।

১৭২.
গৌর প্রেম এমনই ধরণ
ব্রজ গোপীর অকৈতব করণ।

১৭৩.
ও সে প্রেম করা কি কথার কথা।
প্রেমে হরির হলো গলায় কেঁতা।

১৭৪.
একদিন রাধে মান করিয়ে
ছিলেন ধনী শ্যাম ত্যাজিয়ে,
মানের দায় শ্যাম যোগি হয়ে
মুড়ালে মাথা।

১৭৫.
আরেক প্রেমে মজে
শ্মশানে-মশানে খেলে,
শক্তি হাড়ের মালা গলে
পাগল অবস্থা।

১৭৬.
রূপ সোনাতন উজির ছিল
প্রেমে মজে ফকির হল,
লালন বলে এমনি জেন
প্রেমের ক্ষমতা।

১৭৭.
গৌর আমার কলির আচার বিচার
কি আইন আনিলে।

১৭৮.
কি ভাবে হয়ে বৈরাগী গৌর
কুলের আচার-বিচার সব ত্যাজিলে।

১৭৯.
হরি বলে গৌর রাই প্রেমে আকুল হয়
নয়নের জলে বদন ভেসে যায়।

১৮০.
দেখে উহার দশা সবাই জ্ঞান নৈরাশা
আপনি কেঁদে জগতকে কাঁদালে।

১৮১.
এ ভাব জীবের সম্ভব নয় দেখে লাগে ভয়
চন্ডালেরে প্রভু আলিঙ্গন দেয়।

১৮২.
নাই জাতের বোল বলে হরিবোল
বেদ পুরাণাদি সব ছাড়িলে।

১৮৩.
গৌর সিংহের হুংকার ছাড়েন বারেবার
নদীয়াবাসী সব কাঁপে থরথর।

১৮৪.
প্রেমতত্ত্ব রাগতত্ত্ব জানালে সব অর্থ
লালন কয় ঘটলো না মোর কপালে।

১৮৫.
মোরা গৌর স্বয়ং কার শিক্ষায় বলি।

১৮৬.
গৌর বলে হরি বলতে
শুনতে পাই তো সকলই।

১৮৭.
শুধাই যদি কোনোজনও
বলে আমি নই চৈতন্য।

১৮৮.
সে বাক্য হলে অমান্য
কই থাকে গুর প্রনালী।

১৮৯.
গুরু বাক্য লঙ্ঘাইলে
আন্দাজি পণ্ডিত হলে,
নিকাশী ফাঁস বাঁধবে গলে
জেনে শুনে কেন ভুলি।

১৯০.
চৈতন্য চেতন সদাই
জন্মমৃত্যু তাঁর কিছুই নাই।

১৯১.
লালন ভাবে সে মূল কোথায়
কেন বাঁধাই গোলমালই।

১৯২.
জানবো এই পাপী হতে।
যদি এসেছো হে গৌর জীব ত্বরাতে।

১৯৩.
নদীয়া নগরে ছিলো যতোজন
সবারে বিলালে প্রেমরত্ন ধন।

১৯৪.
আমি নরাধম, না জানি মরম
চাইলে না হে গৌর আমা পানেতে।

১৯৫.
তোমার সুপ্রেমেরই হাওয়ায়
কাষ্ঠের পুতুল নলিন হয়।

১৯৬.
আমি দীনহীন, ভজনবিহীন
অপার হয়ে পড়ে আছি কূপেতে।

১৯৭.
মলয় পর্বতের উপর
যতো বৃক্ষ সকলই হয় সার।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!