গ্রীক পৌরাণিকে সৃষ্টিতত্ত্ব

-মূর্শেদূল কাইয়ুম মেরাজ

প্রাচীন গ্রীক পুরাণ মতে, আদি অন্ধকার থেকে জন্মলাভ করে ক্যায়োস নামক দেবতা। তারপর ক্যাওস থেকে জন্ম নেন ইউরোনোমে। ক্যায়োস থেকে জন্ম নেয়ায় ইউরোনোমের ক্যায়োস কন্যা হিসেবে পরিচিত। ক্যায়োস স্বয়ং সৃষ্ট ; তাকে কেউ সৃষ্টি করে নি। তিনি নিজেই নিজেকে সৃষ্টি করেছেন। আর ইউরোনোমের সৃষ্টি হয়েছে সেই স্বসৃষ্ট ক্যায়োস থেকে।

কিন্তু ইউরিনোমের ছিল সর্বত্র। ইউরোনামের মূলত সৃষ্টির সুবিস্তৃত বস্তুরাশি। এই সুবিস্তৃত বস্তুরাশি ইউরোনামের যখন নিজেকে ক্রমশ প্রকাশ করছে তখন আকাশ ও সাগর ছিল একত্রিত। তাই ক্যায়োস কন্যা ইউরোনোমের ব্রহ্মাণ্ড জুড়ে পা রাখার কোন জায়গা পেল না। সে কারণে তিনি আকাশ থেকে সাগরকে আলাদা করলেন।

সেসময় এই সাগর ছিল একটিমাত্র জলধারার সমান। সাগরের দেবতার নাম ছিল ওসিনাস। ইউরোনোমের সাগর দেখে তার উপর নৃত্য করতে শুরু করলেন।

ইউরোনোমের যখন সাগরে নৃত্যে মত্ত্ব সেসসয় ক্যায়োস অন্ধকারের সাথে মিলিত হয়ে সৃষ্টি করলেন রাত্রি, দিন, অন্ধকার ও বাতাস। ইউরিনোমে যখন নাচতে নাচতে দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হলেন, তখন এর অনুগামী হলো বাতাস। তিনি বাতাসের গতিকে নির্ধারণ করে দিলেন। এরপর তিনি উত্তরের বাতাসকে ধরলেন এবং দুই হাতের ভেতর সেই বাতাসকে ঘসতে শুরু করলেন।

এরপর তিনি ক্যায়োস থেকে উৎপন্ন ওফিয়োন নামক একটি বিরাট সাপ দেখতে পেলেন। ইউরিনোমের এরপর বিশাল অঞ্চল জুড়ে নাচতে থাকলেন। ধীরে ধীরে এই নাচের সাথে সাথে ওফিয়োন কামাশক্ত হয়ে পরলো। সে তার কুণ্ডলী দিয়ে ইউরিনোমেকে আকর্ষণ করলো। এরপর ইউরিনোমের একটি ঘুঘুর রূপ ধরে ডিম প্রসব করলেন, আর ওফিয়োন সাতটি পাকে কুণ্ডলি তৈরি করে সেই ডিমকে তা দেয়া শুরু করলো।

অবশেষে এই ডিম দুটি ভাগে বিভক্ত হয়ে সেখান থেকে তৈরি হলো সূর্য, চন্দ্রসহ অন্যান্য গ্রহ নক্ষত্র। একই সাথে ক্রমে ক্রমে পৃথিবীর পাহাড়, নদী সাগর সহ সকলকিছু সুসজ্জিত হলো। সৃষ্টি হলো বিভিন্ন গাছপালা ও প্রাণীকুল। 

গ্রীক পুরানে ক্যায়োস কন্যা ইউরোনোমের নৃত্যমূলত বস্তুপুঞ্জের সৃষ্টির প্রবাহের গতি। সেই গতি ঘুরতে ঘুরতে বৃত্তকার কেন্দ্রে ঘূর্ণায়মান গতির সৃষ্টি করে তখন তা বিশালকার গতিময় কুণ্ডলিত অবয়বে পরিণত হয়। যাকে হয়তো গ্রিক পৌরাণিক কাহিনীতে অফিয়ন নামক একটি বিরাট সাপের কুণ্ডল হিসাবে কল্পনা করা হয়েছে। 

সেই গতি চক্র ও কেন্দ্রকেই পরবর্তীতে বিজ্ঞান বিগব্যাং হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গ্রিক পুরাণের সেই আদি ডিম্ব ফেটে গিয়ে মহাকাশ ও এর অন্যান্য উপকরণ সূর্য, চন্দ্র, নক্ষত্র ইত্যাদি তৈরি হয়।

<<বাইবেলে সৃষ্টিতত্ত্ব ।। বলরাম অবতারের কাহিনী>>

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

…………………
আরো পড়ুন:
গ্রীক পৌরাণিকে সৃষ্টিতত্ত্ব
বাইবেলে সৃষ্টিতত্ত্ব
সৃষ্টিতত্ত্ব : জালালী মত
মৎস্য অবতারের কাহিনী
কূর্ম অবতারের কাহিনী
বরাহ অবতারের কাহিনী
নৃসিংহ অবতারের কাহিনী
বামন অবতারের কাহিনী
পরশুরাম অবতারের কাহিনী
শ্রীরাম অবতারের কাহিনী

বলরাম অবতারের কাহিনী

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!