শ্যমাচরণ লাহিড়ী মহাশয়

১.
কর্ম সত্য বাকিটা মিথ্যা।

২.
ক্রিয়া যে করে আমি তার কাছেই থাকি।

৩.
নিজরূপ বিন্দু সকলের ভিতরেই বর্ত্তমান।

৪.
সমস্ত কালেই কালরূপী হংসের (শ্বাস-প্রশ্বাস) শরণাপন্ন হইয়া থাকা।

৫.
এই শরীরে যে কূটস্থ আছেন, তাঁহাকে যে গুরুর উপদেশে না দেখে, সে অন্ধ।

৬.
কেহ পাপী নয়, কেহ পুণ্যাত্মাও নয়। কূটস্থে মন রাখিলে পাপ নাই, মন না রাখিলেই পাপ।

৭.
গুরুকৃপা চাহিতে হয় না, গুরুর আজ্ঞামতে কার্য করিলে আপনা আপনি না চাহিতে পাইয়া থাকে।

৮.
ভুলোনা ভুলোনা তাঁরে যে ঘন সৃষ্টি সংহারে, সর্ব্বদা আছে সম্মূখে দেখোনা তারে। সদা স্মরণ কর ওঁকারের তারে।

৯.
যতদিন পশুবৃত্তি বশীভূত না হয় ততদিন প্রাণ, মন ও বৃদ্ধির মধ্যে যে অলৌকিক শক্তি আছে মানুষ তাহার সন্ধান পায় না।

১০.
দেহত্যাগ করিবার সময় যে যাহা চিন্তা করে পরবর্তী জীবনে সে তাহাই হয়। প্রকৃতপক্ষে তু সৎ চিত্তানন্দ ও নিজরূপ।

১১.
কেহই কিছু করে না, সমস্তই ভগবান করেন, উপলক্ষ্য মাত্র। সেই গুরু-ভগবানে লক্ষ্য রাখিতে বিধিপূর্ব্বক চেষ্টা করুন, ইহাতেই মঙ্গল।

১২.
সকল জীবদেহে এ চিৎ অণু অর্থাৎ চেতনপূর্ণ অণু বর্তমান। উহা সূক্ষ্মাদপীসূক্ষ্ম। সেই চেতন অণু হইতে যে জ্যোতির্ময় প্রকাশিত তিনিই কূটস্থ।

১৩.
সাধনাও করতে হবে, আবার নিজের রোজগারে জীবিকা নির্ব্বাহ করিতে হবে। পরের মুখাপেক্ষী হয়ে জীবন চালান উচিত নয়। নিজের সংসার নিজেই চালান উচিত।

১৪.
সত্যিকারের বিশ্বাস নিয়ে তোমরা যদি আমার শরণাপন্ন হও, তাহলে যত দূরেই আমি থাকি না কেন উপস্থিত না হয়ে উপায় কি? ক্রিয়া যে করে আমি তার কাছে উপস্থিত থাকি।

১৫.
সর্বদা নিজেকে ছোট ভাবা উচিত। কারো অপেক্ষাই কোন বিষয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করা উচিত নয়। নিজেকে ছোট বলে না জানা পর্যন্ত হাজার সাধন, ভজন চেষ্টা, তপস্যায়ও কিছু হবে না।

১৬.
মুক্ত যে পুনর্বার ক্রিয়ার পর অবস্থার পর থাকিয়াও মুক্ত কারণ তাঁহার পুনরাবৃত্তি দুইতে থাকে না, সকলেতেই ব্রহ্ম দেখে ব্রহ্মে আটকিয়া বিনা প্রয়াসে থাকে। ইহা না হইলে অপুরুষার্থ।

১৭.
বিনা অনুশীলনে মহিলারা যেমন মাথায় কলসী নিয়ে ঐ প্রকারে যেতে পারে না। তেমনি বিনা সাধনায় কূটস্থে মন রেখে সকল কর্ম করা যায় না। উহা প্রাণ কর্ম সাপেক্ষ। বিনা অভ্যাসে কোন কর্ম হয় না।

১৮.
আমি নিশ্চিত করিয়া বলিতেছি ক্রিয়াযোগে সাধন কর। ক্রিয়াযোগ সাধন করিলেই মুক্ত, না করিলেই বন্ধন। ক্রিয়াই সত্য। সাধনার দ্বারা যতক্ষণ নিজেকে উদ্দীপ্ত করা না যায় ততক্ষণ দেব দেবীরাও সাহায্য করেন না।

১৯.
আমি ব্রাহ্মণের মধ্যে চণ্ডাল দেখি, আবার চণ্ডালের মধ্যে ব্রাহ্মণও দেখি। সৌভাগ্যক্রমে একটি ভাল পথ পাইয়াছি। যখন মানুষের ভিতর মানুষ দেখি আর সে যদি জিজ্ঞাসা করে তবে তাহাকে বলিয়া দেওয়া আমার কর্তব্য।

২০.
সন্ন্যাস জীবন বড় কঠিন। কোন কারণে ভুল করিলেও সংসারীর ক্ষমা আছে, কিন্তু সন্ন্যাসীর ক্ষমা নাই। সন্ন্যাসীর বেশভূষায় আধ্যাত্মিকতার বহিঃপ্রকাশ থাকে, কিন্তু আত্মপ্রকাশে অনিচ্ছুক, নীরব গৃহী সাধকের অনাড়ম্বার সাধনায় বহিঃপ্রকাশ নাই।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!