চুরাশির ফেরে: আট: পরকাল

চুরাশির ফেরে: আট: পরকাল

-মূর্শেদূল কাইয়ুম মেরাজ

‘পরকাল: এক’

স্বামী অভেদানন্দ বলেছিলেন, “মৃত্যুর পর পঞ্চপ্রাণ, পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয়, মন ও বুদ্ধির মতো সতেরোটা উপাদানে তৈরি সূক্ষ্মদেহ ধারণ করে আত্মা যায় স্বপ্নলোকের মতোই মনলোকে।”

আর স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন, “মৃত্যুর পর মানুষ স্বর্গে যায় এটা কল্পনা মাত্র। সজ্জন ব্যক্তি মৃত্যুর পর স্বর্গে গিয়ে অনন্ত সুখময় জীবনযাপন করে এ ধারণা স্বপ্ন মাত্র। স্বর্গ, নরক এসব আদিম ধারণা।”

আব্রাহামিক ধর্মগুলোর দেখা যায়, মৃত্যুর পর আত্মা জীবদ্দশায় কৃতকর্মের ভিত্তিতে স্রষ্টা বা স্বর্গীয় বিচারের মধ্য দিয়ে নির্ধারিত বিশেষ স্থানে যায়। আর ভারতীয় ধর্মগুলোতে দেখা যায়, মৃত্যুর পর সকল জন্মের কৃতকার্য অনুসারে আত্মার প্রকৃতি সরাসরি নির্ধারিত হয়।

অধিবিদ্যায় বিশ্বাসীদের অনেকেও একধরনের পরকালের কথা বিশ্বাস করে। মৃত্যুর পর আত্মা সেখানে যায়। আবার অবিশ্বাসীদের কেউ কেউ পরলাকে বিশ্বাস করলেও সেখানে কোনো স্রষ্টার কথা তারা স্বীকার করে না। স্যাডিউসিজ নামে প্রাচীন এক ইহুদি সম্প্রদায়ের কথা জানা যায়, তারাও স্রষ্টায় বিশ্বাস রাখলেও পরকালে বিশ্বাস করতো না।

আব্রাহামিক ধর্মগুলো অনুসারে মৃত্যুর পর জীবদ্দশায় কৃতকর্মের ভিত্তিতে পরকালের ভাগ্য নির্ধারিত হয় বা মৃত পুনরুত্থানের সময় পর্যন্ত শেষ বিচারে ভাগ্য নির্ধরনের জন্য অপেক্ষা করে। পুণ্যকর্মের ফল স্বরূপ অনন্ত স্বর্গবাস আর পাপকর্মের ফলস্বরূপ অনন্ত বা সাময়িক নরকভোগ করতে হয়।

ইসলাম ধর্মে পরকাল
ইসলাম ধর্ম মতে, মৃতকে সমাহিত করে সকলে চলে গেলে মুনকার-নকির নামক দু’জন ফেরেশতা কবরে আসে। তারা মৃতকে শোয়া থেকে উঠিয়ে বসিয়ে ৩টি প্রশ্ন করে- মান রাব্বুকা বা তোমার রব কে? মা দ্বীনুকা বা তোমার দ্বীন কি? মান নাবিয়্যুকা বা তোমার নবী কে?

সঠিক উত্তরদাতার কবরের সঙ্গে জান্নাত বা স্বর্গের যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়া হয়। জান্নাতের হাওয়া আর সুঘ্রাণ তাদের কবরে আসতে শুরু করে। আর যারা উত্তর দিতে ব্যর্থ হয় তাদের কর্ম অনুযায়ী দুনিয়া ধ্বংস বা কেয়ামত হওয়ার আগ পর্যন্ত শাস্তি ভোগ করতে হয়।

অনেক ইসলামী স্কলার মনে করেন, মৃত্যুর পর পুন্যবানরা ‘ইল্লিয়্যীন’ নামক জায়গায় অবস্থান করে। সেখানে তারা কেয়ামত পর্যন্ত পরম শান্তিতে অবস্থান করে। হাশরের দিন বিচারকাজ শেষে তাদের জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে। আর পাপীদের আত্মা ‘সিজ্জিন’ নামের বন্দিখানায় অবস্থান করে। সেখানে তারা শেষ বিচারের আগ পর্যন্ত অশান্তি ভোগ করতে থাকবে। বিচার শেষে তাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। (সুরা মুতাফিফফীন, ৭-১৮)

হাশরের ময়দান: কেয়ামত হল ইসলামের ছয়টি বিশেষ দিনের মধ্যে একটি। কেয়ামতের পর বিশ্বজগৎ ধ্বংস হলে আল্লাহ্ মানুষ ও জ্বীন জাতির পুনরুত্থান ঘটাবেন। হাশরের ময়দানে সকলকে জড়ো করে বিচার করে চিরস্থায়ীভাবে কর্মফল প্রদান করবেন। বিচার দিনের আগ পর্যন্ত মৃত আত্মারা সমাধিতে পুনরুত্থানের জন্য অপেক্ষা করে। ইসলাম অনুসারে, মৃত্যুর পর আত্মার চিরস্থায়ী অস্তিত্ব এবং পরাবর্তিত শারীরিক অবস্থাও থাকবে।

নবীজী বলেছেন, মানুষকে হাশরের মাঠে উঠানো হবে শূন্য পা, উলঙ্গ দেহ এবং খাৎনা বিহীন অবস্থায়। (বুখারী- হা/হা/৬৫২৭)

শেষ বিচার: কেয়ামতের পর হাশরের ময়দানে পাপ-পুণ্যের ভিত্তিতে প্রত্যেককে বিচার করে তাদের পরবর্তী গন্তব্য নির্দিষ্ট করা হবে। দেবদূত ইসরাফিলের বাঁশি বাজানোর পর শেষ বিচার শুরু হবে। বিচারের পরে বান্দারা জান্নাত বা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। জান্নাতীরা অনন্তকাল জান্নাতে অবস্থান করবে। জাহান্নামীদের মধ্যে যারা পুণ্যবান তারা এক পর্যায়ে জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ করে জান্নাতে প্রবেশ করবে। জাহান্নামের অবশিষ্ট বাসিন্দারা অনন্তকাল জাহান্নামে অবস্থান ও শাস্তিভোগ করবে। এ প্রসঙ্গে কোরানে বলা হয়েছে-

বিচারের পর আল্লাহ্‌ পুন্যবানদের জান্নাত এবং পাপীদের জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। যারা বিচারে সাময়িকভাবে শাস্তির জন্য বিবেচিত হবে তাদেরকেও শাস্তি প্রদান করার পর আল্লাহ্‌ জান্নাত দান করবেন। (আল মুরশিদুল আমিন, ৩২-৩৩)

নবীজী বলেছেন, হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপরও আল্লাহ্‌ জাহান্নামীদেরকে বিশাল আকৃতির দেহ দান করবেন। যেমন- তাদের এক একটি দাঁত হবে উহুদ পাহাড়ের সমান, এক কাঁধ থেকে অপর কাঁধের দূরত্ব একজন দ্রুতগামী অশ্বারোহীর তিন দিনের পথ, চামড়া হবে তিন দিনের পথ পরিমাণ মোটা। এতো বিশালাকৃতির হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন মানুষ জাহান্নামে প্রবেশ করলেও তা পূর্ণ হবে না। শেষ পর্যন্ত আল্লাহ্‌ তাঁর নিজের পাঁ জাহান্নামে প্রবেশ করাবেন। আল্লাহ্‌ জাহান্নামকে বলবেন, ‘সেদিন আমি জাহান্নামকে জিজ্ঞেস করব, তুমি কি পূর্ণ হয়ে গেছ? জাহান্নাম বলবে, আরও কিছু আছে কি?’ (সুরা ক্বাফ: ৩০)

জান্নাত: স্বর্গের আরবি শব্দ জান্নাতের অর্থ বাগান। ফার্সী ভাষায় বেহেশত। কৃতকর্মের ভিত্তিতে পুণ্যবানদের স্থায়ী আবাস হলো জান্নাত। জান্নাতে সাতটি দরজা আর সাতটি স্তর। সর্বোচ্চ স্তরটি সবচেয়ে উত্তম। পুণ্যবানরা সেখানে সবচেয়ে সুখে থাকবে।

নবীজী বলেন, ‘জান্নাতে শত স্তর আছে। প্রত্যেক স্তরের মাঝে দূরত্ব হল আকাশ ও যমীনের দূরত্বের সমান। আর ফেরদাউস তার মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে আছে। আর সেখান থেকেই জান্নাতের চারটি ঝর্ণা প্রবাহমান। এর উপরে রয়েছে আরশ। (তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ)

‘আল্লাহ জান্নাত তৈরি জিব্রাইলকে বললেন, যাও জান্নাত দেখে আস। সবকিছু দেখে এসে জিব্রাইল বললেন, হে আমার প্রতিপালক! যে জান্নাতের এ সুব্যবস্থার কথা শুনবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে। অতঃপর আল্লাহ জান্নাতের চারিদিকে অপসন্দনীয় বস্তু দিয়ে ঘিরে দিয়ে বললেন, আবার যাও। জিব্রাই দেখে এসে বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমি আশংকা করছি যে, জান্নাতে কোন ব্যক্তিই প্রবেশ করতে পারবে না।’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৬৯৬)

জান্নাতের বর্ণনায় কোরান হাদিস-

একটা ইট রৌপ্যের এবং আরেকটি ইট স্বর্ণের। তার গাঁথুনি হল সুগন্ধিযুক্ত মেশক আম্বর। তার কংকর মোতি ও ইয়াকুতের। তার মাটি জাফরানের। যে ব্যক্তি সেখানে প্রবেশ করবে সে জীবন উপভোগ করবে, তার কোন কষ্ট হবে না। চিরকাল জীবিত থাকবে, মৃত্যু হবে না। জান্নাতীদের কাপড় কখনো পুরানো হবে না। আর তাদের যৌবন কখনো বিনষ্ট হবে না। (তিরমিজী- কিতাবুল জান্নাহ)

জান্নাতের মধ্যে ফাঁপা মোতির একটা তাঁবু থাকবে। এর প্রশস্ততা হবে ষাট মাইল। এর প্রতি কোণে থাকবে হুর-বালা। এদের এক কোণের জন অপর কোণের জনকে দেখতে পাবে না। ঈমানদাররা তাদের কাছে যাবে। এতে থাকবে দুটি বাগান, যার সকল পাত্র এবং ভেতরের সকল বস্তু হবে রূপার তৈরি। (সহীহ বুখারী, ৪৮৭৯)

তাদের সামনে ঘুরে ঘুরে রুপার পাত্র পরিবেশন করা হবে আর সাদা পাথরের পানপাত্র। সেই সাদা পাথরও হবে রুপার তৈরি। তারা এগুলোকে যথাযথ পরিমাণে ভর্তি করবে। তাদেরকে পান করানোর জন্য এমন পাত্র পরিবেশন করা হবে যাতে আদার মিশ্রণ থাকবে। সেখানে আছে একটা ঝর্ণা, যার নাম সালসাবীল। (সুরা আদ্‌-দাহ্‌র, ১৫-১৮)

জাহান্নাম: নরকের আরবি শব্দ জাহান্নামের অর্থ গভীরকূপ। স্রষ্টা পাপীদের শাস্তির জন্য যে অগ্নিময় আবাস তৈরি করেছেন তাই জাহান্নাম। কোরানে উল্লেখিত জাহান্নামের অপর নাম- জাহীম (জ্বলন্ত আগুন), হুতামাহ (চূর্ণবিচূর্ণকারী), হাবিয়াহ (অতল গহ্বর), লাযা, সা’ঈর (উজ্জ্বল অগ্নিকাণ্ড), সাকার, আন-নার প্রভৃতি। জাহান্নামে স্তর যত নিচে যাবে তা ততই কঠোর হবে।

‘আল্লাহ জাহান্নাম তৈরি করে বললেন, হে জিব্রাইল! যাও, জাহান্নাম দেখে আস। জাহান্নাম দেখে এসে তিনি বললেন, হে আমার প্রতিপালক! যে কেউ এ জাহান্নামের ভয়াবহ অবস্থার কথা শুনবে, সে কখনও তাতে প্রবেশ করতে চাইবে না। অতঃপর আল্লহ জাহান্নামের চারদিক প্রবৃত্তির আকর্ষণীয় বস্তু দিয়ে ঘিরে জিব্রাইলকে বললেন, আবার যাও। তিনি দেখে বললেন, হে আমার প্রতিপালক! আমার আশংকা হচ্ছে সকলেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’ (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৬৯৬, হাদীছ হাসান)

জাহান্নামের শাস্তির বর্ণনায় কোরান-হাদিস-

যারা কুফরি করে তাদের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে আগুনের পোশাক, তাদের মাথার উপর ঢেলে দেওয়া হবে ফুটন্ত পানি, এর দ্বারা তাদের পেটে যা আছে তা এবং তাদের চামড়া বিগলিত করা হবে এবং তাদের জন্য থাকবে লৌহ মুদগর। যখনই তারা যন্ত্রণায় কাতর হয়ে জাহান্নাম থেকে বের হতে চাইবে তখনই তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে তাতে, আর তাদেরকে বলা হবে, আস্বাদ কর দহন যন্ত্রণা। (সুরা হাজ্জ, ২২:১৯-২২)

নবীজী বলেন, জাহান্নামিদের মধ্যে যে ব্যক্তির আজাব সবচেয়ে সহজ এবং কম হবে তার পায়ে জাহান্নামের দুটি জুতা ও ফিতা পরিয়ে দেওয়া হবে। আর এ অগ্নি জুতার তাপ এত প্রচণ্ড হবে যে, চুলার উপর হাড়ির পানি যেভাবে ফুটতে থাকে ঐ ভাবে তার মস্তিষ্কও ফুটতে থাকবে। তার আজাবকে সর্বাধিক কঠিন আজাব বলে ধারণা করা হবে অথচ তার আজাব হলো সবচেয়ে কম ও হালকা। (মিশকাত শরিফ, ৫০২)

পুনরায় জান্নাতে প্রেরণ: জাহান্নাম চিরস্থায়ী কিনা এ ব্যাপারে বিতর্ক রয়েছে। কিছু হাদিসে সকল নরকবাসীকেই নরক থেকে মুক্ত হবার কথা লেখা আছে। নবীজী বলেছেন, “আল্লাহ্‌ সকল মানুষকেই আগুন থেকে তুলে আনবেন এবং তাদেরকে স্বর্গে স্থান দেবেন। …অবশ্যই নরকে একটা সময় আসবে যখন এর দরজা বাতাসের দমকায় উড়ে যাবে, সেখানে তখন আর কেউ থাকবে না, আর এটা হবে তাদের নরকে অনেক বছর থাকার পর।

“…শেষ বিচারের দিনে বা তারপরে নবীজী ও আল্লাহ্‌ পাপীদেরকে জাহান্নাম থেকে সরিয়ে নেয়া বিষয়ে মধ্যস্থতা করবেন। কিন্তু এই মধ্যস্থতায় কেবল সেই সব পাপীই অন্তর্ভুক্ত হবেন যারা আন্তরিকভাবে কালেমা স্বীকার করেছেন। এরপর যাদের হৃদয়ে তিল পরিমাণেও ধার্মিকতা আছে তাদেরকে স্বর্গে স্থান দেয়া হবে।”

কিন্তু এই মধ্যস্থতায় যারা শিরক (বহুঈশ্বরবাদ) করেছেন তারা থাকবে না। কাজি থানাউল্লাহ হানাফি ফিকহ’য় লিখেছেন, “অবিশ্বাসীরা জাহান্নামে অনন্তকালব্যাপী কষ্ট ভোগ করবে, যেখানে পাপী মুসলিমরা দীর্ঘ বা স্বল্প কাল পর ছাড়া পেয়ে স্বর্গে গমন করবে, যা সঠিক।”

তবে এ সকল হাদিস সকলে স্বীকার করেন না। তাদের মতে, যারা জাহান্নামে একবার প্রেরিত হবে তারা সেখানে চিরস্থায়ীভাবেই থাকবে।

হিন্দু ধর্মে পরকাল
সনাতন বিধান মতে, পূর্বজন্মে কৃত পাপের শাস্তি স্বরূপ পরের জন্মে পশু বা নিম্নশ্রেণীর জীবদেহে পুনর্জন্ম লাভ করতে হয়। অপরদিকে সু-পরিবারে মানুষ হিসেবে জন্মগ্রহণের সুযোগ পায় পুণ্যবানরা। দুই জন্মের মাঝে পাপকর্মের জন্য নরকে শাস্তি ভোগ এবং পুণ্যকর্মের জন্য স্বর্গে প্রশান্তি উপভোগ করতে হয়।

শাস্তি বা পুরস্কার ভোগের সময়কাল শেষ হলে পুনরায় পৃথিবীতে পাঠানো হয়; যাকে মৃত্যুলোকও বলা হয়। আর এভাবে বারবার জন্মান্তরের মধ্য দিয়ে মোক্ষ লাভের মাধ্যমে প্রকৃত মুক্তি ঘটতে পারে। জীবনের চূড়ান্ত উদ্দেশ্য হল মোক্ষলাভ করা। যা বেদ অনুসারে জ্ঞানযোগ এবং ভগবতগীতা অনুযায়ী কর্ম ও ভক্তিযোগের মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব।

বলা হয় সাধারণভাবে মানুষের দেহ তিনটি-

১. স্থূলদেহ:
স্থূল দেহ পঞ্চভূতে তৈরি। পঞ্চ কর্মেন্দ্রিয়, পঞ্চ জ্ঞানেন্দ্রিয় এবং অঙ্গতন্ত্র ইত্যাদি অবয়বের সমষ্টি। পঞ্চভূত কারণ আর দেহ হল কাজ। স্থুলদেহ অন্নময় কোষে গঠিত। স্থূল দেহের মৃত্যুকেই লোকে মৃত্যু বলে।

২. সূক্ষ্মদেহ:
মন, বুদ্ধি, অহঙ্কার, প্রাণ-আপান-সমান-বিহান এই পঞ্চ প্রাণ এবং শব্দ-স্পর্শ-রূপ-রস-গন্ধের প্রতিকৃয়া নিয়ে গঠিত সূক্ষ্মদেহ। সূক্ষ্মদেহ শক্তি রূপে অবস্থান করে, সূক্ষ্মদেহের পুষ্টিতেই মানসিক উন্নতি। সূক্ষ্ণ দেহ প্রাণময় ও বিজ্ঞানময় কোষে গঠিত ।

৩. কারণদেহ:
সত্ত্ব, রজ ও তম গুণের সাম্যবস্থার নাম কারণ প্রকৃতি, ইহা দ্বারাই কারণ দেহ নির্মিত। এই দেহের পুষ্টি হইলেই মনুষ্য যোগী এবং ঈশ্বরের ভক্ত হয়। কারণ দেহ অনন্দময় কোষে গঠিত।

আত্মা থেকে সূক্ষ্ণদেহ ও কারণদেহ বিচ্যুত হলেই মোক্ষ বা নির্বাণ প্রাপ্তি হয়। আর তার জন্যই জন্মজন্মান্তরের এতো আয়োজন। মোক্ষ বা পরমে লীন হয়ে যাওয়াই সৃষ্ট সকল কিছুর চূড়ান্ত লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতেই দানস্বরূপ জীব পায় মানবদেহ।

আর জন্ম-জন্মান্তরের পাপ-পুণ্যের হিসেবের মাপকাঠিতে মানুষ পায় নবদেহ বা স্বর্গ-নরক। মোক্ষ না পাওয়া পর্যন্ত পরকালীন সময় কাটিয়ে মানুষকে নবজন্ম নিতে হয় ধরাধামে। কৃতকর্মের ভিত্তিতে সে কি রূপে জন্মাবে তার নির্ধারিত হয় পরকালীন বিধানমতে।

বৌদ্ধধর্মে পরকাল
তিব্বতীয় বৌদ্ধধর্মে মৃত্যু ও পুনর্জন্মের মধ্যবর্তী একটি অবস্থার কথা বলা হয়েছে। এই মধ্যবর্তী অবস্থায় ধার্মিক ও ইতিবাচক হওয়া এবং নেতিবাচকতা এড়িয়ে চলা গুরুত্বপূর্ণ। যারা ঊর্ধ্বে যাবার সরল রাস্তা দেখবার জ্ঞানের উজ্জ্বল আলোর সন্ধান পাবে তারাই পুনর্জন্মের চক্র ত্যাগ করতে সক্ষম হবে।

পুনর্জন্ম পূর্বনির্ধারিত নয়। এটা কর্মের উপর নির্ভরশীল। থেরবাদে পুনর্জন্ম লাভ করতে পারে এমন ৩১টি জগতের অস্তিত্বের কথা বলা হয়েছে। মহাযান এই ৩১টি জগৎ ছাড়াও ‘পবিত্র ভূমি’ নামে আরেকটি বিশেষ স্থানের কথা বিশ্বাস করে। সচেতন সমনোযোগে বুদ্ধকে স্মরণ করলে পবিত্র ভূমিতে পুনর্জন্ম লাভ হয় এবং বুদ্ধ হবার জন্য প্রশিক্ষিত হতে পারে।

খ্রিষ্টধর্মে পরকাল
মূলধারার খ্রিষ্টধর্ম নাইসিন মতে, ‘তারা মৃতের পুনরুত্থান এবং আগামী জগতের জীবনকে সন্ধান করে থাকে।’

যীশু বলেন, একটা সময় আসবে যখন মৃতেরা স্রষ্টাপুত্রের কণ্ঠস্বর শুনতে পাবে। তখন সমাধিতে যারা আছে সকলে বের হয়ে আসবে। যারা ভাল কাজ করেছে তারা পুনরুত্থিত হয়ে জীবন পাবে, যারা পাপ করেছে তারা পুনরুত্থিত হয়ে দণ্ড ভোগ করবে। ম্যাথিউয়ের গসপেল অনুসারে, যীশুর পুনরুত্থানের সময় মৃত সেইন্টরা তাদের সমাধি থেকে পুনরুত্থিত হবেন এবং পবিত্র শহর নতুন জেরুজালেমে যাত্রা করবে।

বুক অব ইনক-এ মৃতদের জন্য নির্ধারিত স্থান শেওলকে চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এরমধ্যে বিশ্বাসী সেইন্টরা স্বর্গে পুনরুত্থিত হবার জন্য অপেক্ষা করবে। সামান্য ধার্মিকরা পুরস্কারের জন্য অপেক্ষা করবে।

পাপীরা শাস্তির জন্য অপেক্ষা করবে আর যারা ইতিমধ্যে শাস্তি পেয়েছে তারা বিচারের দিন পুনরুত্থিত হবে না। যদিও খ্রিষ্ট এবং ইহুদিধর্মের বেশিভাগ সম্প্রদায়ই এ গ্রন্থটিকে প্রামাণিক হিসেবে বিবেচনা করে না। হিব্রু বাইবেলে শেওলকে মৃতের স্থান হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেওল হল সমাধি বা অপেক্ষার স্থান।

দ্বিতীয় ম্যাকাবিজ গ্রন্থে ভবিষ্যতে পুনরুত্থান এবং বিচারের জন্য অপেক্ষারত মৃতের সংখ্যা, মৃতেদেরকে পাপের বোঝা থেকে মুক্ত করার প্রার্থনা এবং দানের বিধানও দেয়া আছে।

অন্যদিকে অর্থোডক্স খ্রিষ্টানরা মনে করেন, স্বর্গ-নরক নামে দুটা আলাদা স্থান নেই। সকলের জন্যই একটি চূড়ান্ত নিয়তি অপেক্ষা করছে। ফাদার থমাস হপকো বলেছেন, “এটা সঠিকভাবেই স্রষ্টার করুণা এবং ভালবাসা যা পাপীকে পীড়িত করে। স্রষ্টা শাস্তি দেন না; তিনি ক্ষমা করে… স্রষ্টার করুণা সকলের উপরেই বর্ষিত হয়, তা পছন্দ করুক বা নাই করুক। আমরা যদি তা পছন্দ করি এটা স্বর্গ; আর যদি না করি, তবে এটা নরক।”

দ্য চার্চ অব লেটার ডে সেইন্টস এর জোসেফ এফ স্মিথ বলেছেন, স্বর্গের পুণ্যাত্মা ব্যক্তিরা নরকে বসবাসকারীদের প্রতি ব্যাপক ধর্মপ্রচারে লিপ্ত। পরকাল দুই ভাগে বিভক্ত- স্পিরিট প্রিজন এবং স্বর্গ। একত্রে তারা স্পিরিট ওয়ার্ল্ড বা আত্মার জগৎ নামে পরিচিত। (ল্যুক ১৬:১৯-২৫)

“যীশু স্পিরিট প্রিজনে ভ্রমণ করেছিল এবং যারা কৃতকর্মের জন্য অনুতাপ করেছিল তাদের জন্য এই কারাগারের দরজা খুলে দিয়েছিলেন।” (১ পিটার ৩:১৮-২০)

স্পিরিট প্রিজন ও স্বর্গ উভয়ই অস্থায়ী। পুনরুত্থানের পর কৃতকর্মের ভিত্তিতে আত্মারা সেলেস্টিয়াল, টেরেস্ট্রিয়াল এবং টেলেস্টিয়াল নামের তিনটি মাত্রার স্থায়ী স্বর্গীয় সম্মান লাভ করে। (১ কোরিন্থিয়ানস ১৫:৪৪-৪২; ডক্ট্রাইন এন্ড কোভেনান্টস, সেকশন ৭৬)

“সরু দরজা দিয়ে ঢোকো, কারণ যে পথ ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায় তার দরজাও বড় এবং রাস্তাও চওড়া। অনেকেই তার মধ্য দিয়ে ঢোকে। কিন্তু যে পথ জীবনের দিকে নিয়ে যায় তার দরজাও সরু, পথও সরু। খুব কম লোকই তা খুঁজে পায়।

…যারা আমাকে ‘প্রভু, প্রভু’ বলে তারা প্রত্যেকে যে স্বর্গ-রাজ্যে ঢুকতে পারবে তা নয়, কিন্তু আমার স্বর্গস্থ পিতার ইচ্ছা যে পালন করে সে-ই ঢুকতে পারবে। সেই দিন অনেকে আমাকে বলবে, ‘প্রভু, প্রভু, তোমার নামে কি আমরা নবী হিসাবে কথা বলি নি?

তোমার নামে কি মন্দ আত্মা ছাড়াই নি? তোমার নামে কি অনেক আশ্চর্য কাজ করি নি? তখন আমি সোজাসুজিই তাদের বলব, ‘আমি তোমাদের চিনি না। দুষ্টের দল! আমার কাছ থেকে তোমরা দূর হও।” (মথি ৭:১৩-২৩)

ক্যাথলিক চার্চ: দেহের মৃত্যুর পর আত্মার বিচার হয়। পাপমুক্তরা স্বর্গে যাবে। যারা পাপ করে অনুশোচনা না করে মারা যাবে তারা নরকে যাবে। আর যারা স্রষ্টার করুণায় মারা যায় কিন্তু তারপরও জন্মগত পাপ বহন করে তারা পারগেটরি নামক স্থানে যায় এবং স্বর্গে যাওয়ার জন্য শুদ্ধিকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান।

১৯৯০ এর দশকে ক্যাথলিক চার্চের নীতি অনুসারে নরককে পাপীদের উপর বর্ষিত শাস্তি হিসেবে নয় বরং স্রষ্টার কাছ থেকে আত্মবর্জন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্টস: সেভেন্থ ডে অ্যাডভেন্টিস্টস চার্চ শেখায়, অসুস্থতা, বার্ধক্য, দুর্ঘটনা ইত্যাদি কারণে যে মৃত্যু হয় তা হলো প্রথম মৃত্যু। এই মৃত্যু কেবলই আত্মার নিদ্রা। ব্যক্তির শরীর + ঈশ্বরের শ্বাসপ্রশ্বাস = একটি জীবন্ত আত্মা।

জিওভাস উইটনেসেস এর মত এডভেন্টিস্টগণও বাইবেল থেকে নেয়া কিছু মূল অংশ ব্যবহার করেন যেমন, “জীবিতদের বেলায় জেনে রেখো তারা মরবে: কিন্তু মৃতরা কিছুই জানবে না, তারা আর কোন পুরস্কারও পাবে না; তাদের স্মৃতি বিস্মৃত হবে।” (একলেসিয়াসতেস ৯:৫ কেজেভি)

…পাপের পরিণাম হল মৃত্যু এবং কেবল ঈশ্বরই অমর। যখন যীশু দ্বিতীয়বারের মত আসবেন, সৎ ব্যক্তিরা অক্ষত অবস্থায় পুনরুত্থিত হবেন এবং তাদেরকে ঈশ্বরের সাথে সাক্ষাতের জন্য মেঘে নিয়ে যাওয়া হবে। সৎ ব্যক্তিরা এক হাজার বছর যাবৎ স্বর্গে জীবনযাপন করবেন, যেখানে তারা উদ্ধার হয় নি এমন ব্যক্তি এবং পতিত দেবদূতদের বিচারকার্য ঈশ্বরের সাথে বসে দেখবেন।

যখন উদ্ধারকৃতরা স্বর্গে থাকবেন তখন পৃথিবীতে মানুষ ও পশুপাখি বসবাস করবে না। কেবল পতিত দেবদূতরাই সেখানে জীবিত বসবাস করবে। দ্বিতীয় পুনরুত্থান হবে অসৎ ব্যক্তিদের যখন যীশু নতুন জেরুজালেমকে স্বর্গ থেকে পৃথিবীতে এনে স্থাপন করবে। যীশু সকল অসৎ ব্যক্তিকে জীবনে ফিরিয়ে নিয়ে আসবেন।

শয়তান ও তার দেবদূতরা অসৎ ব্যক্তিদেরকে নতুন জেরুজালেম শহরকে ঘিরে ফেলতে প্ররোচিত করবে। কিন্তু স্বর্গ থেকে নরকের আগুন ও এর জ্বালানিকে পৃথিবীতে ফেলা হবে। এতে জগৎ চিরকালের জন্য পাপ হতে মুক্ত হয়ে যাবে। একে বলা হয় দ্বিতীয় মৃত্যু।

নতুন পৃথিবীতে ঈশ্বর উদ্ধারকৃতদের জন্য একটি চিরস্থায়ী আবাস এবং চিরকাল বাঁচার জন্য একটি উপযুক্ত পরিবেশ দান করবেন যেখানে ইডেন পুনস্থাপিত হবে। এর ফলে বাদানুবাদের নিষ্পত্তি ঘটবে এবং আর পাপ থাকবে না। ঈশ্বর তখন যথার্থ ঐকতানে চিরকাল জুড়ে শাসন করবেন।

জিহোভাস উইটনেসেস: জিহোভাস উটনেসেস প্রায়ই পরকাল শব্দটিকে মৃতদের আশা বোঝাতে ব্যবহার করে। ঈশ্বর কর্তৃক বিচারকৃত হওয়া কোন পাপী ব্যক্তিকেই পরকালের আশা দেয়া হয় না।

আরমাগেডনের পর সৎ ও অসৎ উভয়েরই মৃতদেহের পুনরুত্থান ঘটবে, কিন্তু পাপী বা বিদ্বেষপূর্ণ ব্যক্তির পুনরুত্থান ঘটবে না। আরমাগেডনে বেঁচে যাওয়ারা এবং পুনরুত্থিতরা ধীরে ধীরে স্বর্গপ্রাপ্ত হবে। আরমাগেডনের পর যেসব পাপী অনুতপ্ত হবে না তাদেরকে চিরমৃত্যুর শাস্তি দেয়া হবে।

লেটার ডে সেইন্টস চার্চ অনুসারে সালভেশন বা উদ্ধারের নকশা: সেলেস্টিয়াল রাজ্যকে একটি স্থান বলে মনে করা হয়। যেখানে ব্যক্তি তার পরিবার নিয়ে বাস করতে পারবে। একবার সেলেস্টিয়াল রাজ্যে গেলেই কারও উন্নয়ন শেষ হয় না। বরং এই উন্নয়নের সময় অনন্তকাল পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়।

ট্রু টু দ্য ফেইথ অনুযায়ী, সেলেস্টিয়াল কিংডম কেবল তাদের জন্যই তৈরি হয়ে আছে যারা যীশুকে প্রামাণ্য হিসেবে মানবে এবং যারা রক্ত ঝড়িয়ে সঠিক প্রায়শ্চিত্তের মধ্য দিয়ে যাবে। (ডকট্রাইন এন্ড কোভেনান্টস ৭৬:৫১,৬৯)।

লিম্বো: খ্রিষ্টধর্মের জনপ্রিয় বিশ্বাস লিম্বো মধ্যযুগের ধর্মতাত্ত্বিকদের দ্বারা বিকশিত হয়। লিম্বো মত অনুসারে পবিত্র পানি দিয়ে খ্রীষ্টধর্মে দীক্ষা না নিয়ে কোন নিষ্পাপ আত্মা যেমন শিশু অবস্থায়, যীশুখ্রিষ্টের জন্মের পূর্বে মৃত আত্মা স্বর্গ বা নরক কোথাও অবস্থান করে না।

ব্যক্তিগত পাপে দোষী না হওয়ায় তারা সময় শেষ হবার আগ পর্যন্ত প্রাকৃতিক সুখের অবস্থায় থাকবে। তা হলেও জন্মগত পাপের বোঝা বহন করার কারণে অতিপ্রাকৃতিক সুখ লাভ করবে না। লিম্বোকে একটি মধ্যবর্তী বা বন্দী অবস্থাও বলা হয়। জনপ্রিয় হলেও রোমান ক্যাথলিক চার্চ একে মতবাদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।

পারগেটরি: ক্যাথলিক চার্চ অনুসারে, যারা স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভ করে মারা গেছে, কিন্তু সম্পূর্ণ শুদ্ধ হননি তাদের মৃত্যুর পর পরিশোধন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়।

অ্যাংলো-ক্যাথলিক মেথোডিজম মতবাদের উদ্ভাবক জন ওয়েসলি মৃত্যু এবং পুনরুত্থানের মধ্যে একটি মধ্যবর্তী অবস্থার ধারণায় বিশ্বাস করতেন। যেখানে আত্মার মাঝে পবিত্রতা বৃদ্ধি পাবার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়। যদিও মেথোডিজম আনুষ্ঠানিকভাবে এই মতবাদকে স্বীকৃতি দেয় না।

(চলবে…)


সূত্র:
বাংলাপিডিয়া
উইকিপিডিয়া

…………………………………..
আরো পড়ুন:
চুরাশির ফেরে: এক
চুরাশির ফেরে: দুই
চুরাশির ফেরে: তিন : আত্মা-১
চুরাশির ফেরে: চার: আত্মা-২
চুরাশির ফেরে: পাঁচ : সৎকার
চুরাশির ফেরে: ছয় : কর্মফল-১
চুরাশির ফেরে: সাত : কর্মফল-২
চুরাশির ফেরে: আট : পরকাল-১
চুরাশির ফেরে: নয় : পরকাল-২
চুরাশির ফেরে: দশ : জাতিস্মর
চুরাশির ফেরে: এগারো : প্ল্যানচেট
চুরাশির ফেরে: বারো : ওউজা বোর্ড
চুরাশির ফেরে: তেরো : প্রেতযোগ
চুরাশির ফেরে: চৌদ্দ : কালাজাদু
চুরাশির ফেরে: পনের: গুপ্তসংঘ–১

চুরাশির ফেরে: ষোল: গুপ্তসংঘ–২
চুরাশির ফেরে: সতের: ইলুমিনাতি

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!