ধ্যান-২

ধ্যান-২

-দ্বীনো দাস

সপ্তচক্র-লতিফা
(Aura-দেহজ্যোতি, etheric body- অতিসূক্ষ্ম দেহ বা বায়বীয় শরীর)

etheric body সূক্ষ্ম শরীর- (ভৌত) বা কায়া শরীরের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ এক কথায় কায়া শরীরের সুরক্ষা কবজ। কায়া শরীরের সম্পূর্ণ আচ্ছাদিত করার আবরন। এই কবজ বা আবরনকে খালি চোখে দেখা যায় না, তবে কঠোর অধ্যবসায়ের অভ্যাসের দ্বারা অনুভব করা যায়।

এই কবজ বা আবরণ দুই রকমের-

১. প্রথম আবরণ- কায়া শরীরের ৩ থেকে ৮ ইঞ্চির মধ্যে সূক্ষ্ম শরীর অবস্থান করে আচ্ছাদিত করে রাখে। এই সূক্ষ্ম শরীর আমাদের অনুকূল (positive Energy) ইতিবাচক শক্তি। যা কিনা বাইরের জগতের প্রতিনিয়ত বিষক্রিয়া অশুভকর শক্তিকে প্রতিহত করে আমাদের কায়া শরীরকে রক্ষা করে।

২. দ্বিতীয় আবরণ- একে বিশ্ব আবরণ, উন্মুক্ত আবরণ শরীর বা মনোময় আবরণ শরীর বলে। এই কবজ চম্বুক শক্তির মতো আমাদের ঐ সূক্ষ্ম আবরণকে ঘিরে রেখেছে। এই মনোময় শরীরের কাজ হলো ভাবনা তৈরি করা এবং সূক্ষ্ম শরীরের মাধ্যমে কায়া শরীরে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া।

এই মনোময় শরীর কায়া শরীর হতে ৩-৪ ফুটের মধ্যে থাকে। ঘুমের সময় এই মনোময় শরীর বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডে উন্মুক্ত ভাবে চরে বেড়ায়।

মানুষের মস্তিষ্কে একদিনে মোটামুটিভাবে ৬০ হাজার ভাবনার উদ্রেক হয়। আর সেগুলো দুই ভাবে আমাদের কায়া শরীরে প্রবেশ হয়। জগৎ সংসারের সঙ্গে সম্পৃক্ত যে ভাবনাগুলো, সেগুলো আমাদের মস্তিষ্কে প্রবেশ করে। এবং যে ভাবনাগুলো নিজের আত্মশুদ্ধি বা আত্মজ্ঞানের জন্য, সেগুলো হৃদয়ের মধ্যে গিয়ে প্রবেশ করে।

মনোময় শরীরের কেবল একটায় কাজ। দিন রাত নিরন্তর ভাবনা চিন্তার উৎপাদন করা। কিন্তু আমরা অনেকাংশে টের পাইনা। তার কারণে সংখ্যাতীত ভাবনা উদ্রেক হয় এবং সেগুলো আপনা আপনি লোপ হয়ে যায়।

ঐ সুরক্ষা শরীরের মোট ৭টি চক্র বা শক্তি স্রোত নিহিত আছে। এর বাস্তব ভিত্তিক বৈজ্ঞানিক প্রমাণ করেছেন বৈজ্ঞানিক ড. সেমিয়ন ক্রিলিয়ন। তিনি ছায়াচিত্র পদ্ধতিতে দেখেছেন ও চিকিৎসা করেছেন। সেই ছায়াচিত্রের ক্যামেরার নাম ক্রিলিয়ন ফটোগ্রফি।

এর দ্বারা দেখা গেছে কায়া শরীরের চারিদিকে নিহিত সূক্ষ্ম শরীরের ছবি ও ৭টি চক্র (Seven Energy centres) দেখা গেল। এই ফটো দ্বারা শরীরের প্রাণ কোষ দেখে, এতে নিহিত রোগ খোঁজ করে, তাদের উর্জা শক্তি দ্বারা সুস্থ করা যায়। এই উর্জা শক্তির ব্যাখ্যা পরে দেওয়া হবে।

পঞ্চতত্ত্ব দ্বারা গঠিত আমাদের এই কায়া ভৌত শরীর বটে কিন্তু শক্তি কেন্দ্রিক ৭ শক্তি। বাংলায় ইহাকে ষট্চক্র বলে, এই ৭ এর মধ্যে স্রষ্টার শক্তি ২টা চক্র আর বাকি ৫টি আমাদের শরীরের। ৫ তত্ত্বের পোষনের কাজ করে। এই পঞ্চতত্ত্বের দেহ- আকাশ, বায়ু, অগ্নি, জল ও পৃথিবী দ্বারা নির্মিত।

শরীরের অধিকাংশ রোগ সৃষ্টির প্রধান কারণ হল মনের প্রতিকূল ভাবনা যা বিকারের রূপে কায়া শরীরে ব্যাধিরূপে দেখা দেয়। রোগ সৃষ্টির ৭০ ভাগই মনের নেগেটিভ মনোভাবের জন্য হয়। আমরা নিজেরাই আমাদের নিজেদের রোগের জন্য দায়ী কিন্তু আমরা বলি কি! এ সব সৃষ্টিকর্তার ইচ্ছা বা কপালের লেখা।

(চলবে…)

…………….
আরো পড়ুন:
ধ্যান-১
ধ্যান-২

ধ্যান-৩
ধ্যান-৪
ধ্যান-৫
ধ্যান-৬
ধ্যান-৭
ধ্যান-৮
ধ্যান-৯
ধ্যান-১০
ধ্যান-১১
ধ্যান-১২

…………….
আরো পড়ুন:
অবশ জ্ঞান চৈতন্য বা লোকাল অ্যানেস্থেসিয়া
ঈশ্বর প্রেমিক ও ধৈর্যশীল ভিখারী
সুখ দুঃখের ভব সংসার
কর্ম, কর্মফল তার ভোগ ও মায়া
প্রলয়-পূনঃউত্থান-দ্বীনের বিচার

ভক্তি-সংসার-কর্ম

………..
বি.দ্র.
আমার এই লেখা কিছু ইতিহাস থেকে নেওয়া কিছু সংগৃহীত, কিছু সৎসঙ্গ করে সাধুগুরুদের কাছ থেকে নেওয়া ও আমার মুর্শিদ কেবলা ফকির দুর্লভ সাঁইজি হতে জ্ঞান প্রাপ্ত। কিছু নিজের ছোট ছোট ভাব থেকে লেখা। লেখায় অনেক ভুল ত্রুটি থাকতে পারে তাই ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।। আলেক সাঁই। জয়গুরু।।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!