রথ ও রথের মেলা

রথ ও রথের মেলা

-সত্যানন্দ মহারাজ

রথের আনন্দ আমাদের জীবনে এক মহতি নির্মল আনন্দ। ভগবান রথে চড়ে যাচ্ছেন। সেই পূর্ণব্রহ্ম পরমেশ্বর ভগবানের সেই রথের রশি (দড়ি) ধরে টানলে বা রথযাত্রা দর্শন করলে মোক্ষ প্রাপ্তি হয় এমন কথা মহাপুরুষেরা বলেন।

কিন্তু এ বছর বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাবে সেই আনন্দ লাভে মানুষ অনেকখানিই বঞ্চিত। কিন্তু কিছু করারও তো নেই। সার্বিক মঙ্গলের কথা ভেবে ভগবানের বিধান তো মানতেই হয়।

শ্রীক্ষেত্র পুরী ধামের রথ, বাংলার মহেশের রথ এবং পাড়ার পল্টু বা ছোটুর সেই ছোট্ট রথ টানা- এ আমাদের জীবনের অঙ্গ। তার ওপর রথের মেলার প্রাপ্তি পুরীর জগন্নাথদেবের প্যারাপ্রাসাদ ও গ্রাম্য বা পাড়ার মেলার পাঁপড় ভাজা ও জিলাপী।

জগন্নাথ-বলরাম-সুভদ্রা ভগবানের ভাই বোনের একসাথে রথে চড়ে বেড়াতে যাওয়ার দৃশ্য কে না দেখতে চাইবে? কার না ইচ্ছে করে ভগবানের এই বেড়ানোর সাথী হতে?

রথ নিয়ে রবীঠাকুরের লেখা- ‘পথ ভাবে আমি দেব, রথ ভাবে আমি, মুর্ত্তি ভাবে আমি দেব, -হাসে অন্তর্যামী।’

লাইনগুলো অনেকেই বলেন বা বলতে পারার সুযোগ ছাড়েন না। আবার এই কথাগুলোর মর্মার্থ উপলব্ধি করতে গিয়েও হোঁচট খেতে হয়।

কারণ মহাত্মারা বলেন- ‘জগতে জড় বলে কিচ্ছু নেই, যা কিছু দেখছ-সবই চৈতন্যময়।’

এবং তিনি অণু-তে পরমাণু-তে বিরাজ করেন এবং ভগবান অবশ্যই অন্তর্যামী।

তিনি প্রতিটি প্রাণেরও প্রাণ, অন্তরে বাহিরে সর্বত্র বিরাজমান। রথও তিনি, পথও তিনি আবার মূর্তিও তিনি, আমি-তুমি-সবই তিনি।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!