শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব

ভগবানের সর্বব্যাপীতা

-সত্যানন্দ মহারাজ

অর্জুন শ্রীকৃষ্ণের সখা, ভক্ত ও শিষ্য ছিলেন। সেই অর্জুন যখন ভগবানের বিশ্বরূপ দর্শন করতে চাইলেন ভগবান বললেন- ‘তুমি এই চর্মচক্ষু দিয়ে আমার সেই রূপ দেখতে পাবে না। তোমাকে আমি দিব্য চক্ষু প্রদান করছি- সেই দিব্য চক্ষু দিয়ে তুমি সেই অসীম-অনন্ত, সর্বভূতে বিরাজিত বিশ্ব-ব্রহ্মাণ্ডময় সেই বিশালরূপ দর্শন করো।’

এই অজ্ঞানময় ভাবনার চোখ দিয়ে ভগবানের সর্বব্যাপীতা দর্শন করা সম্ভব নয়। তার জন্য প্রয়োজন দিব্যচক্ষু। যাঁকে অনেকে তৃতীয় নয়ন বা জ্ঞানচক্ষুও বলে।

এবং তা আমাদের দিব্য, পবিত্র, নিষ্কাম, নিষ্কলুষ শুদ্ধ মন, ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ বললেন, ‘ঈশ্বর শুদ্ধমনের গোচর।’

তাই প্রার্থনা- হে প্রভু আমার এই কলুষিত মনটাকে শুদ্ধ মন করে দাও।

মহাত্মারা বলেন, ‘একমাত্র প্রার্থনাই পারে তোমাকে ঈশ্বরের সাথে মিলিয়ে দিতে।’

ছোট্ট গোপাল মাটি খাচ্ছে। মা যশোদা দৌড়ে এসে গোপালের মুখ থেকে মাটি বের করার জন্য যখন গোপালকে মুখটা হাঁ করতে বললেন। তখন গোপাল মুখটা হাঁ করতেই মা যশোদা সেই ছোট্ট মুখের মধ্যে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড এমন কি নিজেকেও দর্শন করে অজ্ঞান হয়েছিলেন।

ভগবান তাঁর ভক্তকে কৃপা করে তার সর্বব্যাপী সত্তা দর্শন করালেন। কিন্তু লীলা করার কারণে যোগমায়া দ্বারা মা যশোদার সেই ভগবানের অখণ্ড সত্তা পুনরায় মুছে দিলেন তাঁর মন থেকে। কারণ মা যশোদা ভগবানকে সন্তান রূপে চেয়েছিলেন- অখণ্ড, জ্ঞানী, পরমাত্মারূপে নন।

তাই সাধু-সন্ত-ভক্তগণ-ভগবৎ সাধনার দ্বারা এবং সদগুরু কৃপায়- ভগবানের বিশ্বমাতা ও সর্বব্যাপীতা অনুভব করে প্রসন্ন হন ও সর্বদা অমৃতময় পরমানন্দের স্বাদ গ্রহণ করেন।

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

……………………………………
আরো পড়ুন:
গুরুজ্ঞান
গুরু শিষ্য ধারণা
ত্রিতাপ জ্বালা

সদগুরু সঙ্গ
এটা মহাপুরুষের দেশ
জীবাত্মা ও পরমাত্মা
ভগবান কোথায় থাকেন?

সংসার ধর্ম
কি ভাবে সংসার করবো?

ভগবানের সর্বব্যাপীত
ভগবানকে কেন ডাকি?
পরশ পাথর
খারাপ দিন
রথ ও রথের মেলা
জীবনধারা
আমরা সাধারণ মানুষ
সব থেকে বড় হৃদয়
আমার জীবন জুড়িয়ে দাও

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!