শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব

-সত্যানন্দ মহারাজ

তখন হরিদ্বার কিছুদিনের জন্য তীর্থ ভ্রমণে গিয়েছিলাম। তীর্থ নগরী হরিদ্বার। কিছুটা গেলে ঋষিকেশ। পতিত পাবনী মা গঙ্গাঁ ও পর্বতরাজ হিমালয়ের খণ্ড-বিখণ্ড ধ্যান-গম্বীর রূপ মাধুর্য্য। মুনি-ঋষি-সাধক-ভক্তদের পদরজ পুষ্ট দিব্য পবিত্র স্থান এই হরিদ্বার।

হর-কী-গৌড়ির ঘাটে খরস্রোতা পতিত পাবনী গঙ্গাঁবক্ষে স্নান ও সন্ধ্যারতী দর্শন মনের মধ্যে দিব্য স্বর্গীয় স্মৃতি রেখে যায় চিরস্মরণীয় করে।

পরিব্রাজক সাধুদের ও আবাসিক সাধু-মহাত্মাদের দর্শন ও বাণী ভারতীয় আধ্যাত্ম-চেতনার জাগরূক ভূমিকা নিয়ে চলে আসছে সেই পৌরাণিক যুগ হতে।

পথে চলতে চলতে রাস্তার এখানে-সেখানে দেওয়ালে লেখা মুনি-ঋষিদের অভিজ্ঞতা পুষ্ট ও শাস্ত্রের উল্লিখিত দিব্য চেতনাময় বাণী ও কথাগুলো মাঝে মাঝে নজরে পড়ছে। হিন্দি বিশেষ একটা জানি না।

একটা বাণী পড়ে খুব ভাল লাগলো। হিন্দিতে লেখা- ‘তন্ পবিত্র সেবা মে, ধন্ পবিত্র করে দান, মন পবিত্র হরি ভজন মে, জাগ্ মে এ তিনো কল্যাণ।’

অর্থাৎ দীন-দু:খী, অতিথি, আতুর, সাধু-সন্ত ও দেবতার সেবা করলে এই শরীর পবিত্র হয়।

সৎভাবে অর্জিত ধন সৎ পাত্রে দান করলে এই শরীর পবিত্র হয়।

হরি গুণ-কীর্তন বা হরি ভজন করলে- মন পবিত্র হয়।

জগতে এই তিনটি কর্মই একমাত্র কল্যাণকারী।

প্রতিটি মানবের করণীয় কর্ম, অথচ কি সুন্দর সহজ ও সরল ভাষায় লিখিত। মনটা ভরে গেল। সত্যিই কি অপূর্ব কথা।

আমাদের চলার পথের দিক-নির্দেশিকা। কথাটা গুরু-কৃপায় মনে গেঁথে গেল। এরকম কত না জানি মণি-মুক্ত ছড়িয়ে আছে ভারতের তীর্থে-তীর্থে, অলিতে-গলিতে।

মনে হল এগুলিই যেন পরশপাথর বা জীবনকে সমৃদ্ধ করে, জীবনকে সার্থক করে।

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

……………………………………
আরো পড়ুন:
গুরুজ্ঞান
গুরু শিষ্য ধারণা
ত্রিতাপ জ্বালা

সদগুরু সঙ্গ
এটা মহাপুরুষের দেশ
জীবাত্মা ও পরমাত্মা
ভগবান কোথায় থাকেন?

সংসার ধর্ম
কি ভাবে সংসার করবো?

ভগবানের সর্বব্যাপীত
ভগবানকে কেন ডাকি?
পরশ পাথর
খারাপ দিন
রথ ও রথের মেলা
জীবনধারা
আমরা সাধারণ মানুষ
সব থেকে বড় হৃদয়
আমার জীবন জুড়িয়ে দাও

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!