শ্রী লাহিড়ী মহাশয়ের বাণী: তিন

শ্রী লাহিড়ী মহাশয়ের বাণী: তিন

৩৬.
যোগীরাজ কখনও তাঁর নিজের ছবি তুলতে চাইতেন না। একদিন যোগীরাজের প্রিয় শিষ্য ও ভক্তবৃন্দ তাঁর ছবি তোলার জন্য কাশীর সবচেয়ে সুদক্ষ ফটোগ্রাফার গঙ্গাধর রায়কে ডেকে আনে। অনেক অনুনয় বিনয়ের পর ফটো তুলতে তাঁকে রাজী করানো হলো। কিন্তু ছবি তোলার সময় মহাবিপদে পড়ল ফটোগ্রাফার।

ক্যামেরার ভিউফাইন্ডারে কোন ভাবেই যোগীরাজের মূর্তি প্রতিফলিত হচ্ছে না। অথচ পরীক্ষা করে দেখা গেল অন্য সকলের মূর্তি প্রতিফলিত হচ্ছে। ক্যামেরায় যান্ত্রিক কোন গোলযোগ নেই। যোগীরাজ এবার হাসিচ্ছলে ফটোগ্রাফারকে জিজ্ঞেস করলেন এবিষয়ে তোমার বিজ্ঞান কি বলে?

ফটোগ্রাফার বলেন দূর হোক আমাদের বিজ্ঞান। আমি আপনার চরণে শরণ দিচ্ছি। আপনি ছবি তুলে ভক্তদের মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করুন। যোগীরাজ এবার ক্যামেরার সামনে প্রস্তুত হয়ে বসতেই সব ঠিক হয়ে গেল। ক্যামেরায় তাঁর ভাল ছবি উঠে গেল।

৩৭.
শ্যামাচরণ একদিন বাড়ির সামনে ঘুরে বেড়ানোর সময় দেখেন একটি গাছের তলায় একজন সাধু বসে গাঁজা খাচ্ছেন। তাঁর বর্হিবাস ছেঁড়া ও ময়লা। এ ধরনের সাধু দেখলেই ভণ্ড ও প্রবঞ্চক বলে শ্যামাচরণের মনে হতো। সাধুটির কাছে গিয়ে এক অভাবনীয় দৃশ্য দেখে চমকে উঠেন শ্যামাচরণ।

তিনি দেখেন তাঁর গুরু সেই সাধুর পাশে বসে লোটা মাজছেন। শ্যামাচরণ আশ্চর্য হয়ে গুরুজীকে জিজ্ঞেস করলেন একি করছেন? লোটাটি মাঝতে মাঝতে গুরুজী শান্ত কণ্ঠে বললেন আমি এখানে সাধু সেবা করছি। সকল ঘটে সকল জীবের মধ্যেই নারায়ণ বিরাজ করছেন।

তাঁর চৈতন্যময় সত্ত্বাটি সকল জীবের মধ্যেই বিদ্যমান এটা তুমি কেন বুঝতে পার না বলতো? শ্যামাচরণ নিজের ভুল বুঝতে পারলেন। বুঝতে পারলেন তিনি অতীতে অনেক সাধুকে অবজ্ঞা করেছেন। পরম সমাদরে ভক্তিভাবে গুরুজীকে বাড়িতে নিয়ে গেলেন। সেবা পরিচর্যা করলেন নিষ্ঠার সঙ্গে। গুরুজী সাধনার ব্যপারে কিছু নির্দেশ ও উপদেশ দিয়ে সেদিনই অর্ন্তধান করলেন।

৩৮.
দানাপুর আফিসের সাহেবকে কয়েকদিন দিন যাবৎ বিষন্ন দেখাচ্ছে। শ্যামাচরণ সাহেবের নিকট কারণ জানতে চাইলেন। সাহেব বলেন ইংল্যান্ডে তার স্ত্রী গুরুতর রোগে আক্রান্ত। বাঁচার আশা খুব কম। তদুপরি কিছুদিন যাবৎ তার কোন খবরা খবরও পাওয়া যাচ্ছে না।

একথা শুনে তিনি সাহেবকে বললেন আপনি ভাববেন না আমি আজই তার খবর এনে দেব। এই কথা বলে অফিসের একটি নির্জণ ঘরে যোগাসনে বসেন। কিছুক্ষণ পর এসে সাহেবকে বললেন আমি জেনেছি মেম সাহেব রোগমুক্ত হয়েছেন। আপনার চিন্তার কোন কারণ নেই।

কয়েকদিনের মধ্যেই চিঠি পাবেন। চিঠির ভাষা ও বিষয়বস্তু ও বলে দিলেন। কয়েকদিনের মধ্যে সাহেব মেম সাহেবের চিঠি পেলেন। চিঠি পড়ে দেখেন পাগলা বাবু যা যা বলেছেন সত্যিই তাই। মাস কতক পরে মেম সাহেব দানাপুরে বেড়াতে আসেন।

একদিন হঠাৎ তার শ্যামাচরণের সাথে দেখা হলে তিনি চমকে উঠেন। মেম সাহেব তার স্বামীকে বলে ইংলেন্ডে রোগশয্যায় থাকাকালে এই সাধুকেই দর্শন করি আমি। তিনি আমার বিছানার পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। আমার জীবনের কোন আশাই ছিল না। আমি বেশ বুঝতে পারছি তাঁরই কৃপায় রোগমুক্ত হয়ে উঠি আমি। সাহেব পাগলা বাবুর যোগ শক্তির পরিচয় পেয়ে বিস্ময়ে স্তম্ভিত হয়ে যান।

৩৯.
অভয়া নামে তাঁর এক শিষ্যা ছিল। তার স্বামী কলিকাতায় ওকালতি করতো। মাঝে মাঝে গুরুদর্শণের জন্য কাশী আসতো। তাদের পরপর আটটি সন্তানের জন্মের কিছুদিনের মধ্যেই মৃত্যু হয়। মৃতবৎসা অভয়ার গুরুদেবের নিকট আকুল প্রার্থনা এর পরের সন্তানটি যেনো বেঁচে থাকে।

গুরুদেব বললেন আচ্ছা তাই হবে। তিনি অভায়াকে বলেন, তোমার একটি কন্যা সন্তান হবে এবং সে বেঁচে থাকবে। তবে একটি নির্দেশ মানতে হবে। সন্তানের জন্ম হবে রাতের প্রথম প্রহরে। সুতিকাগারে সেই সময় থেকে সকাল পর্যন্ত একটি তেলের প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখতে হবে।

দেখবে প্রদীপটি যেন নিভে না যায়। অভয়ার ঘরে কন্যা সন্তানের জন্ম হলো রাতের প্রথম প্রহরেই। গুরুর নির্দেশানুসারে তেলের প্রদীপ জ্বালানো হলো। ধাত্রী ও প্রসূতি প্রদীপ দেখার জন্য দু’জনে জেগে রইল। ভোর রাতে দুজনই ঘুমিয়ে পড়ল। এদিকে তেলের অভাবে প্রদীপটি নিভে যাবার উপক্রম হলো।

সহসা অভয়ার ঘুম ভেঙ্গে গেল। দমকা হাওয়ায় বন্ধ দরজা খুলে গেল সঙ্গে সঙ্গে গুরুদেবের জ্যোতির্ময় মূর্তি আভির্ভূত হলো। তিনি নির্বাপিতপ্রায় প্রদীপটির দিকে হাত বাড়িয়ে বলেন, করছ কি তেলের অভাবে প্রদীপ যে নিবে যাচ্ছে। ব্যাস্ত হয়ে অভয়া প্রদীপে তেল ঢেলে দিল। অদৃশ্য হয়ে গেল গুরুদেবের মূর্তি।

৪০.
জীবে দয়া করিলে যে ঈশ্বরের সেবা করা হয় ইহা সম্পূর্ণ সত্য। কিন্তু তোমরা জীবে দয়া বলিতে যাহা বোঝ তাহা প্রকৃত দয়া নহে এবং ঐ প্রকারে দয়া করিলে আত্মলাভ হয় না। সাধারণতঃ তোমরা দীন, দুঃখী, অনাথ, আতুর ব্যক্তিকে অর্থ,অন্ন, বস্ত্র, ঔষধ প্রভৃতি দ্বারা দয়া বা সেবা প্রদর্শন কর।

এই প্রকারে জীবের প্রতি প্রকৃত দয়া বা সেবা করা হয় না কারণ তাহা অস্থায়ী। দেহ মধ্যে প্রাণের চঞ্চল অবস্থাকেই জীবন বলা হয়। জীবে দয়া বলিতে প্রাণের ঐ চঞ্চল অবস্থার প্রতি দয়া করিলেই জীবের সেবা করা হয়। অর্থাৎ প্রাণ-কর্মের দ্বারা চঞ্চল অবস্থার প্রতি দয়া প্রদর্শন করিয়া উহাকে স্থির প্রাণে পুনরায় রূপান্তর ঘটালেই ঈশ্বরের সেবা করা হয়।

কারণ স্থির প্রাণই ঈশ্বর। সেই স্থির প্রাণের সেবা করিতে হইলে চঞ্চল প্রাণকে ধরিয়াই করিতে হইবে। যেমন কাঁটা দিয়া কাঁটা তুলিতে হয়। প্রাণের সেবা প্রাণের দ্বারাতেই সম্ভব বাহ্য বস্তু দ্বারা প্রাণের সেবা সম্ভব নহে। দেহ,মন,বচন ও কর্ম এই চারটিকে একত্র করিয়া অর্থাৎ স্থির করিলে যে অবস্থার উদয় হয় তাহাকে অহিংসা বলে।

বচন- ব শব্দে কণ্ঠ, চ-শব্দে চক্ষু, ন- শব্দে নাসিকা। নাসিকা দ্বারা যে শ্বাস আসিতেছে কণ্ঠের দ্বারায় লক্ষ্য করিয়া বলা। কর্ম অর্থ প্রাণ কর্ম। এই প্রকার অহিংসা প্রাণকর্ম সাপেক্ষ, তখন কায়মনোবাক্যে সকল কর্মে হিংসার অভাব হওয়াই অহিংসা।

৪১.
যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহেরী মহাশয়কে পরীক্ষা করার জন্য একদিন এক নাস্তিক ভদ্রলোক ১০-১২ জন সঙ্গী নিয়ে যোগীরাজের বাড়িতে উপস্থিত হয়। যোগীরাজ তাদের উদ্দেশ্য বুঝতে পারেন। তিনি তাদের সামনে বসে জিজ্ঞেস করেন তোমরা কি আজ এক আদ্ভূত দৃশ্য দেখতে চাও? সকলে উৎসুক হয়ে উঠলো।

এমন সময় দেখা গেল তাদের সামনে লালপাড় শাড়ী পরা এক তরুণী দাঁড়িয়ে আছে। যোগীরাজ এবার সেই নাস্তিক ভদ্রলোককে জিজ্ঞেস করলেন, দেখুন ত মশাই, এই নারীকে আপনি চিনতে পারছেন কি না। ভদ্রলোক নিজের ভুল বুঝতে পেরে লজ্জিত হয়ে বলল, হ্যাঁ।

ইনি আমার পরিচিত। সঙ্গে সঙ্গে অদৃশ্য হয়ে গেল তরুণীটি। ভদ্রলোকের মুখখানা লজ্জায় রাঙ্গা হয়ে উঠল। ভদ্রলোকটি যোগীরাজের নিকট সবকথা অকপটে স্বীকার করে। তরুণীটি আসলে তার উপপত্ন। নিজের স্ত্রী পুত্র থাকা সত্ত্বেও উক্ত ভদ্রলোক তার উপপত্নীর পিছনে বহু টাকা খরচ করছে।

ভদ্রলোক যোগীরাজের নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করে এবং যোগীরাজের নিকট নিকট তাকে দীক্ষা প্রদান করে তাঁর শ্রীচরণে স্থান দেওয়ার মিনতি করে। কিন্তু যোগীরাজ বুঝলেন ভদ্রলোকের সত্যিকারের চৈতন্য হয়নি। তাই তিনি ভদ্রলোককে বললেন বেশ ত আপনি যদি ছয় মাস সংযত হয়ে থাকতে পারেন তাহলে আপনি আমার কাছে আসবেন আমি আপনাকে দীক্ষা দেব।

কিন্তু তা আর হয়নি কারণ তিন মাস পর পুনরায় ভদ্রলোক ঐ তরুণীটির সঙ্গে মিলিত হয় এবং ছয়মাসের মধ্যে তার মৃত্যু হয়।

৪২.
বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ের বড়সাহেব ভগবতীচরণ ঘোষও শ্যামাচরণের কথা টের পেয়েছিলেন। ভগবতীবাবুর অধস্তন কর্মচারী ছুটি নিয়ে বারাণসী যাবেন তাঁর গুরু শ্যামাচরণ লাহিড়ীর কাছে। ভগবতীবাবু ছুটি দেননি, বিকেলবেলা বাড়ি ফেরার পথে তাঁর চোখে পড়ল, সেই কর্মচারী মাঠের রাস্তা ধরে বিষন্ন ভাবে বাড়ির দিকে হেঁটে যাচ্ছেন।

তিনি পালকি থেকে নেমে তাঁকে ‘অযথা ছুটি কেন নেবে? চাকরিতে উন্নতি করো’ ইত্যাদি বোঝাচ্ছেন। আচমকা সেই মাঠে শূন্য থেকে ফুটে উঠল একটি লোক। কণ্ঠে ভর্ৎসনা, ‘ভগবতী! তুমি কর্মচারীদের প্রতি খুব নির্দয়।’ পরক্ষণেই মিলিয়ে গেল সেই মূর্তি।

অধস্তন কর্মীটি ততক্ষণে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি, গুরুদেব বলে কেঁদে ফেলেছেন। সে দিনই ছুটি মঞ্জুর। পুরো রহস্যটা ভাল ভাবে বুঝতে সেই কর্মচারীর সঙ্গে সস্ত্রীক বারাণসীতে রওনা হলেন ভগবতীবাবু। গিয়ে দেখেন, চৌকিতে পদ্মাসনে বসা সেই লোক, ফের গম্ভীর ভাবে সে বলল, ‘ভগবতী, তুমি কর্মচারীদের প্রতি খুব নির্দয়।’

সে দিনই সস্ত্রীক লাহিড়ীমশাইয়ের কাছে দীক্ষা নিলেন ভগবতীবাবু। পরবর্তীতে এই ভগবতীবাবুর ছেলে মুকুন্দচরণ, লাহিড়ী মশাইয়ের শিষ্য যুক্তেশ্বর গিরির কাছে ক্রিয়াযোগে দীক্ষা নেন। তাঁর নাম পরমহংস যোগানন্দ।

ইউরোপ-আমেরিকা ঘুরে ক্রিয়াযোগের প্রচার করে ‘যোগদা সৎসঙ্গ সোসাইটি’ স্থাপন তাঁরই কীর্তি। এই মুকুন্দচরণের ছোট ভাই বিষ্ণুচরণ ঘোষ ব্যায়ামবিদ। কুস্তি, যোগাসনের জন্য এই বিষ্টু ঘোষের আখড়া এক সময় কলকাতায় বিখ্যাত ছিল।

সেই আখড়াতে হঠযোগ শিখেই জাপান, আমেরিকা পাড়ি দিয়েছেন বিক্রম চৌধুরী, আজকের ‘বিক্রমযোগা’র স্রষ্টা। আধুনিক যোগের ইতিহাসে শ্যামাচরণ লাহিড়ীর পরম্পরা এই ভাবেই ছড়িয়ে গিয়েছে বিভিন্ন ঘাটে।

৪৩.
গুরুর্ব্রহ্মা গুরুর্বিষ্ণুঃ গুরুর্দেবো মহেশ্বরঃ।
গুরুরেব পরং ব্রহ্ম তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।
ওঁ অজ্ঞান-তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন-শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং যেন তস্মৈ শ্রীগুরবে নমঃ।।

দ্রোণগিরি পাহাড়ের শিবকল্প লীলাভূমিতে মহাবতার বাবাজী শ্যামাচরণকে চাকুরীর সূত্রে টেনে নিয়ে আসনে। বাবাজীর সাথে সাক্ষাৎ এর পর তিনি তাঁকে বলেন এতদিন আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করেছিলাম। তোমাকে দীক্ষা দেব বলে এখানে এসেছি।

তিনি শ্যামাচরণের দীক্ষার দিনক্ষণ ঠিক করে দেন। সেই অনুসারে এক সন্ধ্যায় শ্যামাচরণকে তিনি দীক্ষা দান করেন দ্রোণগিরি পহাড়ের গুহায়। গুরু তাঁকে যোগ বিদ্যা শিখিয়ে দিলেন। তিনি রাণীক্ষেত্র হইতে বদলী হওয়ায় পূর্ব পর্যন্ত প্রতিদিন অফিসের শেষে গুরুর নিকট সাধনা ও যোগ শিক্ষা করেন।

গুরুও অকৃপনভাবে তাঁর শক্তি ও ঐশ্বর্য ঢেলে দিলেন শিষ্যকে। গুরু শ্যামাচরণকে বললেন তুমি সংসারে থেকেই যোগসাধনা কর। শ্যামাচরণ যোগসাধনা শুরু করেন এবং অল্পদিনের মধ্যেই তিনি সাফল্য লাভ করেন।

৪৪.
শ্যামাচরণ লাহেরী মহাশয়ের ওপরওয়ালা ইংরেজ সাহেব খুব চিন্তিত। ইংল্যান্ডে সাহেবের স্ত্রী অসুস্থ, গত এক মাস তাঁর খবরাখবর, চিঠিপত্রও নেই। হেড ক্লার্ক বললেন, ‘চিন্তা কোরো না। আমি একটু পরে বলে দেব।’ আধ ঘণ্টা পরে লাহেরী মহাশয় জানালেন, মেমসাহেব ভাল আছেন। এখন স্বামীকে চিঠি লিখছেন। চিঠিতে এই-এই লেখা।

সাহেব অবিশ্বাসের হাসি হাসলেন। সপ্তাহ কয়েক পরেই এল স্ত্রীর চিঠি। আশ্চর্য! কেরানিবাবু যা বলেছিলেন, চিঠিতে হুবহু তা লেখা। পরের ঘটনাটা আরও আশ্চর্যের! জীবনে প্রথম বার ভারতে, স্বামীর কাছে এসে শ্যামাচরণকে দেখে চমকে উঠেছেন বিদেশিনি, ‘আরে, ইনিই তো সেই ভদ্রলোক, যিনি আমার অসুস্থতার সময়ে এসেছিলেন!’ স্থূল দেহ অফিসে পড়ে থাকলেও সূক্ষ্ম দেহে, আলোর গতিতে যত্রতত্র যেতে পারতেন শ্যামাচরণ।

৪৫.
যোগীরাজ শ্যামাচরণ লাহেরী মহাশয়ের এক শিষ্য কালীকুমার রায় তাঁর গুরু সম্পর্কে নানা কাহিনী বর্ণনা করেন। কালীকুমার রায় গুরুদেবের কাশীর বাড়িতে সপ্তার পর সপ্তা কাটাতেন। তিনি তখন দেখতেন গভীররাতে অনেক সাধুসন্ত ও দণ্ডীসন্ন্যাসী নিঃশব্দে যোগীরাজের ঘরে আসতেন এবং যোগীরাজের চরণতলে উপনীত হয়ে নানা জ্ঞানতত্ত্ব ও নিগূঢ় সাধনপ্রনালী শিক্ষা করতেন।

আবার ভোর হলে নিঃশব্দে কোথায় যেন তাঁরা চলে যেতেন। অনেক সময় সপ্তাহের পর সপ্তা যোগীরাজ না ঘুমিয়ে কাটাতেন।

একদিন ভক্তদের সামনে যোগীরাজ গীতাপাঠ করে তাঁর ব্যাখ্যা বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন এমন সময় হঠাৎ থেমে গিয়ে বললেন, তোমরা একটু চুপ করে বস। আমার মনে হচ্ছে বহুসংখ্যক নরনারীর জীবন ও চেতনার সঙ্গে জরিত হয়ে জাপানের কাছে এক সমুদ্রে ডুবে মরছি।

পরদিন সকালে খবরের কাগজে দেখা গেল, ঠিক ঐ সময়ই একটি জাহাজ জাপানের উপকূলে এসে ডুবে গেছে। তাতে অনেক যাত্রির মৃত্যু হয়। ভক্তরা বুঝতে পারলো নিমজ্জিত জাহাজের যাত্রীদের আর্তনাদ শুনতে পেয়েছিলেন যোগীরাজ শ্রী শ্যামাচরণ লাহেরী মহাশয়।

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!