স্বামী নিত্যানন্দ গিরির বাণী: বারো

স্বামী নিত্যানন্দ গিরির বাণী: বারো

: ধন- সম্পদ :

বাবা-মা শেখায় হতে হবে ধন সম্পদের অধিকারী
ছেলে জানে বাবার সেই তো উত্তরাধিকারী,
“সম্পদ”এর অর্থ অনেকভাবে করে থাকে জ্ঞানী
মূঢ়ের দল তারা ঐ নিয়ে করে কানাকানি।।১

আমরা যেমন শুনেছি ‘অমৃত’ হল শ্রেষ্ঠ সম্পদ
সে অমৃত পেলে কোথাও নেই কোনো বিপদ,
ধন-সম্পদ সংসারে প্রতিমুহূর্তে বাড়ায় ভয়
গীতার ভাষায় অমৃত সম্পদে থাকবে অভয়।।২

দুই প্রকারের সম্পদ বর্ণন, গীতার ষোড়শ অধ্যায়ে
আসুরিক ও দৈবীসম্পদ, জেন গুরুর কাছেস্বাধ্যায়ে,
পুরুষোত্তম বলেন, মোরে জানে যেই জন
সংসারে তাকে বাস্তবিক বলে জ্ঞানী সেই জন।।৩

আসুরিক প্রকৃতির লোক এই ভবে যারা
জানেনা আমার স্বরূপ দূরে থাকে তারা,
বিবিধ কামনা বশে নানা যজ্ঞ তারা করে
সত্য ধর্ম কিছু নাই কেবল পাপ কর্ম করে।।৪

কাম-কামনায় মত্ত, প্রকৃত শাস্ত্র জানে না
সৃষ্টির রহস্য আর ঈশ্বরের অস্তিত্ব বোঝেনা,
আমি ই সকলের প্রভু, অসুর ভাবে মনে মনে
সংসারের অনিষ্ট সাধন করে প্রতিক্ষণে।।৫

ঐসব অসুরগণে ভগবান ধ্বংস করেন
আবির্ভূত হন ধরায়, অবতার রূপ ধরেন,
পূর্বজন্মের কর্মফল ভুগতে হবে এ জন্মে নিশ্চয়
পরিণাম স্বরূপ ধনী-গরীব সুখ-দুঃখ প্রাপ্ত হয়।।৬

অসুর ধর্ম -অধর্ম মানে না, না জানে সদাচার
কুখাদ্য পরপীড়ন স্বভাব তাদের, করে অত্যাচার,
কাম ক্রোধ আর লোভ তিনটি নরকের দ্বার
আসুরিক ব্যক্তি তারা এতেই যুক্ত বারবার।।৭

স্বাধ্যায় যজ্ঞ তপশ্চর্যা, যারা সদা করে দান
অহিংসা সত্য প্রিয় ভাষণ, ত্যাগে কর্তৃত্বাভিমান,
পরনিন্দা বর্জন সর্বভূতে দয়া ও কোমল স্বভাব
শাস্ত্রবিরুদ্ধ আচরণে লজ্জা, ব্যর্থ চেষ্টার অভাব।।৮

দেশ কাল পাত্র ভেদে হয় সমাজের মে গঠন
সমাজের উন্নতিতে দৈবী সম্পদ, একান্ত প্রয়োজন,
আসুরিক প্রবৃত্তিতে কখনো শান্তি আসে না মনে
দৈবীর পরশে সদা সর্বত্র স্বর্গ থাকবে প্রাণে।।৯

শাস্ত্র-ই হল প্রমাণ কর্তব্য ও অকর্তব্য নির্ধারণে
শাস্ত্রের বিধান মেনে চলবে সংসার জীবনে,
সদ্ গুরুরকাছে শিখবে সদা সুন্দর আচরণ
কপটতা ছেড়ে বিনম্র হয়ে, করবে তার বন্দনা চরণ।।১০

………………….
দেখুন:
স্বামী নিত্যানন্দ গিরির সকল বাণী

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!