মাওলা আলীর বাণী: ১১

মাওলা আলীর বাণী: ১১

২৫১
সংকল্প ভঙ্গ করে, নিয়ত পরিবর্তন করে এবং সাহস হারিয়ে আমি মহিমান্বিত আল্লাহকে জানতে পেরেছিলাম।

২৫২
এ দুনিয়ার তিক্ততাই পরকালের মিষ্টতা এবং দুনিয়ার মিষ্টতা পরকালের তিক্ততা।

২৫৩
আল্লাহ বহু-ঈশ্বরবাদ থেকে পবিত্র করার জন্য ইমান প্রতিষ্ঠিত করেছেন। আত্মশ্লাঘা থেকে পবিত্র থাকার জন্য সালাত। জীবিকার উপায় হিসাবে যাকাত। মানুষের পরীক্ষা হিসাবে সিয়াম। দ্বীনের খুঁটি হিসাবে হজ্ব। ইসলামের সম্মান হিসাবে জিহাদ।

সাধারণ মানুষের কল্যাণের জন্য আমরা বিল মা’ রুফ। ফেতনা-ফ্যাসাদ নিয়ন্ত্রণের জন্য নাহি আনিল মুনকার। সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য জ্ঞাতিত্বের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ। রক্তপাত বন্ধ করার জন্য কিসাস। হারামের গুরুত্ব অনুধাবনের জন্য শাস্তির ব্যবস্থা। বুদ্ধিমত্তা রক্ষা করার জন্য মদ্যপান নিষিদ্ধ।

সততা জাগিয়ে দেয়ার জন্য চৌর্য বৃত্তি বাতিল। মনোরম অবস্থা বজায় রাখার জন্য ব্যভিচার নিষিদ্ধ। বংশবৃদ্ধির জন্য সমকামিতা নিষিদ্ধ। কোন বিষয় প্রমাণ করার জন্য সাক্ষী। সত্যের মর্যাদা বৃদ্ধির জন্য মিথ্যা প্রতিহত। বিপজ্জনক অবস্থা থেকে রক্ষা করার জন্য শান্তি রক্ষা।

উম্মাহর শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য ইমামত এবং ইমামতের প্রতি সম্মান হিসাবে ইমামদের মান্য করা নির্ধারণ করেছেন।

২৫৪
যদি তুমি কোন অত্যাচারীকে শপথ গ্রহণ করাতে চাও তবে তাকে এভাবে শপথ করতে বলো, ‘আমি আল্লাহর শক্তি ও কুদরতের বহির্ভূত।’ এরূপ মিথ্যা শপথের জন্য তাঁর শাস্তি দ্রুত নেমে আসবে।

আর যদি সে আল্লাহর নামে শপথ করে যিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই। তাহলে তার শাস্তি দ্রুত হবে না। কারণ সে মহিমান্বিত আল্লাহর একত্ব প্রকাশ করেছে।

২৫৫
হে আদম সন্তানরা, তোমাদের সম্পদ বিষয়ে তোমরা নিজেরাই প্রতিনিধি হও এবং মৃত্যুর পর তোমার সম্পত্তি কী করবে তা জীবিত থাকতেই করে যেয়ো।

২৫৬
ক্রোধ এক প্রকারের উন্মত্ততা কারণ ক্রোধান্বিত ব্যক্তি পরবর্তীতে অনুশোচনা করে। যদি সে অনুশোচনা না করে তবে তার উন্মত্ততা সুনিশ্চিত হয়ে দাঁড়ায়।

২৫৭
ঈর্ষা না থাকলে শারীরিক সুস্থতা অর্জিত হয়।

২৫৮
আলী কুমায়েলকে বলেন, ‘হে কুমায়েল! তোমার লোকজনকে আদেশ কর যেন তারা মহৎ বৈশিষ্ট্য অর্জনের জন্য দিনে বের হয়ে যায় এবং অভাবের তাড়নায় যারা রাতে ঘুমাতে পারে না তাদের দেখার জন্য রাতে বের হয়।

কারণ সর্ব শ্রোতা আল্লাহর নামে আমি শপথ করে বলছি, যদি কখনো কেউ অন্যের হৃদয়কে খুশি করতে পারে তবে আল্লাহ তার জন্য এমন বিশেষ নেয়ামত নির্ধারণ করে রেখেছেন যা দুঃখের দিনে প্রবাহিত পানির মতো এসে বিতাড়িত বন্য উটের মতো দুঃখকে তাড়িয়ে দেবে।

২৫৯
যখন তুমি বিপদ বা দুরবস্থায় পড়বে তখন দান-সদকার মাধ্যমে আল্লাহর সঙ্গে ব্যবসা করো।

২৬০
বেইমান লোকের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা মানে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস হারানো। আর বেইমানকে অবিশ্বাস করা মানে আল্লাহর ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা।

২৬১
অনেক লোক আছে যাদেরকে ভালো ব্যবহার দ্বারা ক্রমান্বয়ে শাস্তির দিক নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এবং অনেকে মোহাচ্ছন্ন হয়ে আছে। কারণ তাদের সম্পর্কে ভালো কথা বলা হচ্ছে। অথচ সময় দেয়ার চেয়ে কঠোর পরীক্ষা মহিমান্বিত আল্লাহ আর কিছুই করেন নি।

২৬২
আলীর বর্ণিত হাদিস- ‘অবস্থা যখন এমন হয় তখন ধর্মীয় নেতা রুখে দাঁড়াবে এবং জনরা শরৎকালের বৃষ্টিবিহীন মেঘের মতো তার চারপাশে ভিড় জমাবে।’

২৬৩
সে হলো বহুমুখী প্রতিভাধারী বক্তা।

২৬৪
আলী বর্ণিত হাদিস- ‘ঝগড়া-ফ্যাসাদ থেকে দূরে থাক কেননা ঝগড়া-ফ্যাসাদ ধ্বংস বয়ে আনে।’

২৬৫
মেয়েরা যখন বাস্তবতাকে বুঝার বয়সে উপনীত হয় তখন পিতৃপক্ষীয় আত্মীয়রাই তুলনামূলকভাবে মনোনয়নের যোগ্য।

২৬৬
ইমান হৃদয়ে ‘লুমাজাহ’(এক প্রকার উজ্জ্বল সাদা দাগ) সৃষ্টি করে। ইমান যত উন্নতি লাভ করে লুমাজাহ তত বৃদ্ধি পায়।

২৬৭
যদি কোন লোকের কু-ঋণ থাকে তবে তা আদায়ের পর অতীতের জাকাত প্রদান করা অবশ্যকর্তব্য।

২৬৮
জিহাদে সৈন্য পরিচালনাকালে আলী বলতেন, ‘যতদূর সম্ভব নারীর চিন্তা-ভাবনা থেকে বিরত থেকে এবং তাদের কথা মনে না করতে চেষ্টা করো।’

২৬৯
একজন কৃতকার্য তীরন্দাজের মতো হয়ো, যে প্রথম নিক্ষেপেই কৃতকার্য হবার জন্য সম্মুখ পানে মনোনিবেশ করে তাকিয়ে থাকে।

২৭০
যখন যুদ্ধ চরমে পৌঁছলো তখন আমরা আল্লাহর রাসূলের মাধ্যমে আশ্রয় চাইলাম এবং আমাদের মধ্যে তিনিই ছিলেন শত্রুর সব চাইতে নিকটবর্তী।

২৭১
মুয়াবিয়ার সৈন্য আল-আনবার আক্রমণ করেছে শোনামাত্র আলী উন্মুক্ত তরবারি হাতে বেরিয়ে পড়লেন এবং নুখায়লাহর কাছে লোকেরা তাকে থামিয়ে ফেলে বললেন, ‘হে আলী, তাদের শায়েস্তা করতে আমরাই যথেষ্ট।’

আলী তখন বললেন- তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধেই তোমরা আমার জন্য যথেষ্ট নও কাজেই কী করে অন্যের বিরুদ্ধে তোমরা আমার জন্য যথেষ্ট হবে? (২৭ নং খোৎবায় এ বাণীটি ভিন্ন প্রেক্ষিতে বর্ণিত)

২৭২
হারিছ ইবনে হাওত আলীকে বললেন, ‘আপনি কি বিশ্বাস করেন। আমি এ কথা কল্পনা করতে পারিনি যে, জামালের লোকেরা ভ্রান্ত পথে ছিল।’

আলী বললেন, ‘হে হারিছ! তুমি তোমার নিচে দেখেছো। তার উর্দ্ধে কিছু দেখনি কাজেই তুমি সব তালগোল পাকিয়ে ফেলেছো। নিশ্চয়ই, তুমি ন্যায়কে জানতে না, সেকারণেই তুমি ন্যায়পরায়ণকে স্বীকৃতি দিতে পারনি। তুমি ভ্রান্ত পথকে চিনতে না ফলে ভ্রান্ত পথের অনুসারীগণকে তুমি চিনতে পারনি।’

হারিছ বললো, ‘তাহলে আমি সাদ ইবনে মালিক ও আবদুল্লাহ্ ইবনে উমরের পর্যায়ভুক্ত হব।’

আলী বললেন, ‘নিশ্চয় সাদ ও আবদুল্লাহ্ ন্যায়ের পক্ষে আসেনি অন্যায়কেও পরিত্যাগ করেনি।’

২৭৩
ক্ষমতার অধিকারীরা যেন সিংহ সওয়ার-পদমর্যাদার জন্য যে ব্যক্তি ঈর্ষাকাতর তার অবস্থা শুধু তিনিই জানেন।

২৭৪
অন্যদের মধ্যে যারা শোকাহত। তাদের কল্যাণ করো তাহলে তোমরা শোকাহত হলে তারাও কল্যাণকর কাজ করবে।

২৭৫
জ্ঞানীদের কথা যদি যথার্থ হয় তবে তা সমাজের ব্যাধির ঔষধ স্বরূপ কিন্তু তাতে যদি ভ্রান্তি থাকে। তবে সমাজ রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে।

(চলবে…)

…………………………….
সূত্র: নাহজ আল-বালাঘা

…………………………….
আরো পড়ুন:
মাওলা আলীর বাণী: ১
মাওলা আলীর বাণী: ২

মাওলা আলীর বাণী: ৩
মাওলা আলীর বাণী: ৪
মাওলা আলীর বাণী: ৫
মাওলা আলীর বাণী: ৬
মাওলা আলীর বাণী: ৭
মাওলা আলীর বাণী: ৮
মাওলা আলীর বাণী: ৯
মাওলা আলীর বাণী: ১০
মাওলা আলীর বাণী: ১১

মাওলা আলীর বাণী: ১২
মাওলা আলীর বাণী: ১৩
মাওলা আলীর বাণী: ১৪
মাওলা আলীর বাণী: ১৫

মাওলা আলীর বাণী: ১৬
মাওলা আলীর বাণী: ১৭
মাওলা আলীর বাণী: ১৮
মাওলা আলীর বাণী: ১৯
মাওলা আলীর বাণী: ২০

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!