মাওলা আলীর বাণী: ২০

মাওলা আলীর বাণী: ২০

৪৭০
সহায়হীনের অস্ত্র হলো গিবত করা।

৪৭১
অনেকেই কুকর্মে জড়িয়ে পড়ে এজন্য যে, তা সম্পর্কে তাকে ভালো ধারণা দেয়া হয়।

৪৭২
এ দুনিয়া তার নিজের জন্য সৃষ্টি করা হয়নি-অন্যের জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে।

৪৭৩
বনি উমাইয়াদের নির্ধারিত সময় আছে যার মধ্যেই তারা শেষ হয়ে যাবে। সময় আসবে যখন তাদের মধ্যে মতদ্বৈধতা দেখা দেবে এবং তখন হায়েনাও তাদেরকে আক্রমণ করে ক্ষমতাচ্যুত করবে।

৪৭৪
আনসারদের প্রশংসা করে আলী বলেছিলেন- আল্লাহর কসম, তারা তাদের উদারতা ও মধুর কথা দ্বারা ইসলামকে এমনভাবে লালন-পালন করেছে। যেমন করে একটা উট শাবককে লালন করা হয়।

৪৭৫
চক্ষু হলো পিছনের ফিতা।

৪৭৬
তাদের একজন শাসক এসেছিল। সে ন্যায়পরায়ণ ছিল এবং তাদেরকে ন্যায়পরায়ণ করেছিল যতক্ষণ পর্যন্ত না সম্পূর্ণ দ্বীন প্রস্ফুটিত হয়েছিল।

৪৭৭
এমন এক দুঃসময় আসবে যখন ধনবানরা তাদের ধনসম্পদ দাতে কামড়ে ধরে রাখবে অথচ এমন স্বভাব তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজেদের মধ্যে উদারতার কথা ভুলে যেয়ো না।’ (কোরান ২:২৩৭)

এসময় দুষ্ট লোকেরা ওপরে ওঠে যাবে এবং ধার্মিকদের হীনাবস্থা হবে। এ সময় অসহায়গণের সহায় সম্বল ক্রয় করা হবে অথচ রাসূল (সা) অসহায়দের সহায় সম্বল ক্রয় করতে নিষেধ করেছেন।

৪৭৮
আমাকে নিয়ে দুধরণের লোক ধ্বংসের পথে যাবে-

১. যারা আমাকে ভালোবাসে অথচ অতিরঞ্জিত করে।
২. যারা আমাকে ঘৃণা করে ও মিথ্যা দোষারোপ করে।

৪৭৯
কেউ একজন আণীকে আল্লাহর একত্ব ও ন্যায়বিচার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে প্রত্যুত্তরে তিনি বলেন, একত্ব অর্থ হলো তুমি তাকে তোমার কল্পনা দ্বারা সীমাবদ্ধ করতে পারবে না এবং ন্যায়বিচার অর্থ হলো তুমি তাকে কোন প্রকার দোষারোপ করতে পারবে না।

৪৮০
জ্ঞান সংক্রান্ত বিষয়ে জ্ঞানীদের নীরবতায় কোন মঙ্গল নেই। যেমন মঙ্গল নেই অজ্ঞদের কথা বলাতে।

৪৮১
বৃষ্টির জন্য প্রার্থনায় আলী বলেন, হে আল্লাহ! আমাদের জন্য বৃষ্টি দিন বাধ্য মেঘ হতে, অবাধ্য মেঘ হতে নয়।
৪৮২
কেউ একজন বলেছিল, ‘হে আলী! যদি আপনি আপনার পাকা চুলে কলপ দিতেন।’

তখন তিনি বললেন, ‘চুলে রং করা এক প্রকার সাজসজ্জা। কিন্তু এখন আমরা শোকাহত অবস্থায় আছি।’

৪৮৩
সে ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদে শহীদ অপেক্ষাও বেশি পুরস্কৃত হবে যে অসৎ হবার উপায় উপকরণের মাঝে সৎ থাকে। সৎ ব্যক্তির পক্ষে ফেরেশতাদের একজন হওয়াও সম্ভব।

৪৮৪
আত্মতুষ্টি এমন এক সম্পদ যা কখনো শেষ হয় না।

৪৮৫
আলী জিয়াদ ইবনে আবিহকে আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাসের স্থলে পারস্যের ফারস নামক স্থানে প্রেরণকালে আগাম রাজস্ব আদায় নিষিদ্ধ করে দীর্ঘক্ষণ আলাপ করেন। তখন তিনি বলেন- ন্যায়ের সাথে কাজ করো এবং উগ্রতা, জবরদস্তি ও অবিচার পরিহার করে চলো, কারণ জবরদস্তি করলে তারা তাদের বাসস্থান ফেলে চলে যাবে এবং অবিচার তাদেরকে অস্ত্রধারণ করতে বাধ্য করবে।

৪৮৬
সবচেয়ে নিকৃষ্ট পাপ সেটি যেটিকে পাপী হালকাভাবে গ্রহণ করে।

৪৮৭
শিক্ষাগ্রহণ করা অজ্ঞদের জন্য আল্লাহ বাধ্যতামূলক করেননি। কিন্তু শিক্ষা দেয়া জ্ঞানীদের জন্য তিনি বাধ্যতামূলক করেছেন।

৪৮৮
সবচেয়ে নিকৃষ্টতম সহচর সে যার জন্য আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়।

৪৮৯
যদি কোন ইমানদার তার ভাইকে ক্রুদ্ধ করান, এতে বুঝা যায় তিনি তাকে পরিত্যাগ করেছেন।

(চলবে…)

…………………………….
সূত্র: নাহজ আল-বালাঘা

…………………………….
আরো পড়ুন:
মাওলা আলীর বাণী: ১
মাওলা আলীর বাণী: ২

মাওলা আলীর বাণী: ৩
মাওলা আলীর বাণী: ৪
মাওলা আলীর বাণী: ৫
মাওলা আলীর বাণী: ৬
মাওলা আলীর বাণী: ৭
মাওলা আলীর বাণী: ৮
মাওলা আলীর বাণী: ৯
মাওলা আলীর বাণী: ১০
মাওলা আলীর বাণী: ১১

মাওলা আলীর বাণী: ১২
মাওলা আলীর বাণী: ১৩
মাওলা আলীর বাণী: ১৪
মাওলা আলীর বাণী: ১৫

মাওলা আলীর বাণী: ১৬
মাওলা আলীর বাণী: ১৭
মাওলা আলীর বাণী: ১৮
মাওলা আলীর বাণী: ১৯
মাওলা আলীর বাণী: ২০

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!