ভবঘুরে কথা
শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ

গুরু
দীক্ষিত হইয়াও অনেকে সাধন করিতেছে না। ইহা যে কত বড় মূর্খতা, আর কত বড় ক্ষতি, অবোধ বলিয়া ইহা ইহাদের বুঝিবার সামর্থ্য নাই। সৎপ্রেরণা দিয়া ইহাদের প্রতিজনকে সাধনে উন্মুখ কর। নিজে সাধন কর। তাহা হইলে সকলে তোমার ইচ্ছার দাম দিবে,কথার মূল্য স্বীকার করিবে। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (১লা কার্তিক, ১৩৬৮)(৫২)

হরিওঁ লিখি বলি-লি-ণব নহ-ু লিখি বলিয়াই আমি প্রচলিত অর্থে গুরুবাদী নহি। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (১০ই আষাঢ়, ১৩৬৭) (৪৬)

গুরু-ঋণ শোধ
মাতৃঋণ, পিতৃঋণ, গুরুঋণ কেউ শোধ দিতে পারে না। তাই বলে কি কৃতজ্ঞতাও দেখাবে না? এই কৃতজ্ঞতা দেখাবার জন্যেই বার্দ্ধক্যে পিতামাতাকে প্রাণান্ত যত্নে প্রতিপালন কত্তে হয়, মৃত্যুর পরে পিন্ডোদকাদি দিয়ে তাঁদের তুষ্টি কামনা কত্তে হয়। গুরুদক্ষিণা দানের চেষ্টাও এই কৃতজ্ঞতার রূপান্তর।

এক এক গুরু এক এক প্রকারের দক্ষিণা পেয়ে খুসি হন বা শিষ্যকে কৃতজ্ঞ ব’লে মনে করেন। কারো দক্ষিণা রত্ন, কারো দক্ষিণা কাঞ্চন, কারো ভূমি, কারো বস্ত্র, কারো ধান্য, কারো গবাদি পশু। কিন্তু আমি তোদের নিকটে এর একটীও চাই না। আমি চাই, শিষ্যের যততুকু শক্তি আছে, ততটুকু দিয়েই জগতের অস্থিমজ্জাক্ষয়কারী অব্রহ্মচর্য্যের বিরূদ্ধে যুদ্ধ পরিচালনা। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (অখন্ড সংহিতা)

গুরু পূজা
গুরু পূজার কথা লিখিয়াছ। বাস্তবিকই গুরু-পূজা আত্মোন্নতির মূলস্বরূপ। কিন্তু গুরুদেবের প্রতিমূর্তি পুস্পাদির অঞ্জলি দ্বারা অর্চনা বা ধূপ-ধূনা কর্পূরাদির দ্বারা আরতিই কি একমাত্র গুরু-পূজা? গুরুদেবের চরণ-বন্দনা, পাদসংবাহন, অন্ন-বস্ত্র অর্থাদি দ্বারা তাঁহার পরিতোষণই কি একমাত্র গুরু-পূজা? আমি বলি এই সব অধম শ্রেনীর গুরু-পূজা। গুরুদত্ত সাধন ও জীবনাদর্শকে নিয়ত বুকে ধরিয়া রাখিয়া পরমকল্যাণে জীবনোৎসর্গই শ্রেষ্ঠ গুরু পূজা। গুরুদেবের ধ্যানের দ্বারা তাঁহার শুভ্র নিস্কলঙ্ক চরিত্রের স্মৃতির মধ্যে ডুবিয়া থাকার অভ্যাসেও কল্যাণ আছে, কিন্তু গুরুদত্ত সাধনের শক্তিতে বুক বাঁধিয়া, নির্ভিক প্রাণে স্বদেশ-সেবা বা জগদ্ধিতে-জীবনোৎসর্গ করার মধ্যে বৃহত্তর কল্যাণ বাস করে।

শিষ্য যদি বলে যে, গুরুমূর্ত্তি পূজায় আমি আনন্দ পাই, সাধনে জোর পাই, অতএব মারো আর কাটো আমি মূর্ত্তি পূজা কর্ব্বই, বক আর ঝক আমি তোমার ফটো ফুল দিয়ে সাজাবোই, চন্দনে চর্চ্চিত কর্ব্বই, পঞ্চ-প্রদীপে আরতি কর্ব্বই, তা’হলে কে ঠেকাতে যাচ্ছে বল? প্রাণ যা চায়, করে নাও বাবা, কোন বাধা নেই; কিন্তু গুরু-পূজায় যেখানে খুব সোর-গোল আরম্ভ হবে, জানবে, সেখানে তোমার ভিতরে ভন্ডামি এসেছে। যা কত্তে হয় কর,নিভৃতে কর, শুধু প্রাণের টানের দিক চেয়ে কর, বাইরে জাহির করার জন্য কিছু কর না। ভালবাসা বড় ভয়ঙ্কর জিনিষ,-একটু গভীর হলেই ভালবাসার বস্তুটীকে নিয়ে একেবারে ভগবানের আসনে বসায়। এই ভাবে স্ত্রী স্বামীকে কখনো কখনো বা স্বামী স্ত্রীকে, শিষ্য গুরুকে, কখনো বা গুরু শিষ্যকে, বন্ধু বন্ধুকে সাক্ষাৎ ঈশ্বর বা ঈশ্বরাবতার ব’লে মনে কচ্ছে। ভালবাসার উৎকর্ষ-পথের এটা একটা স্তর। অতএব একে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দেয়ার উপায় নেই। উর্দ্ধস্তরে উঠবার পথ-র একট-তু ভালবাসা যে-সেখানে তার গতিপথ বড় প্রচ্ছন্ন, বাইরের উচ্ছাস, বাইরের চাঞ্চল্য, বাইরের আড়ম্বরকে সে স্বভাবতঃই গোপন করে চলে। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ

গুরুশিষ্য
তুমি আমার শিষ্য হও নাই বলিয়া কুন্ঠিত হইবার কিছু নাই। শিষ্য বা অশিষ্য সকলের প্রতি আমার সমান প্রেম, সমান ভালবাসা। জগতে কেহই আমার পর নহে। কেহ শিষ্য না হইলেই আমার পর হইল আর কেহ মন্ত্রদীক্ষা লইয়া শিষ্য হইলেই আমার আপন হইল, এই জাতীয় কুসংস্কার আমার নাই। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ

আমি তোমাকে পা ছুঁইয়া প্রণাম করিতে দেই নাই বলিয়া দুঃখ করিয়াছ। কিন্তু বাবা, আমি যে আমার আপাদমস্তক সবকিছু লইয়া তোমার ভিতরে নিয়ত অবস্থান করিতেছি সেই খবর কেন রাখিতেছ না? বাহিরের চরণ-যুগল লইয়া অত মাতামাতি করিতেছ, অথচ আমি সহস্র চরণ-যুগল লইয়া তোমার প্রতি রোমকূপে বিচরণ করিতেছি। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ

দীক্ষার বয়স
দীক্ষা অল্প বয়সেই নেওয়া ভাল। আবাল্যসম্বর্দ্ধিত অভ্যাস মৃত্যু-কাল পর্যন্ত সুদৃঢ় থাকে,তার প্রভাব সুদূর- প্রসারী হয়। সংসারে কাম-কঁলুষে ডুবে গেলে তার পর মনকে ভগবানে বসান বড় আয়াস-সাধ্য হয়। এজন্যই প্রাচীনকালে আট বছর বয়সেই যজ্ঞোপবীত-সংস্কার হ’ত এবং জগতের কঠিনতম মন্ত্র গায়ত্রীতে তপ- হত। -য়-রে উপেক্ষা ক’রো ন-েই করিতে হবে ব্রহ্মের সাধনা। তবে একটি কথা আছে। বুদ্ধিবৃত্তি যার একান্ত স্থুল, তার বুদ্ধিবিকাশের উপযুক্ত বয়স পর্যন্ত অপেক্ষা করা সঙ্গত। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ

পাপীর দীক্ষা
আত্ম-সংশোধনের শক্তি পাবে বলেই ত’ দীক্ষা দেওয়া। পাপিকে আমি উপেক্ষা করি কি করে? দীক্ষার শক্তিতে লম্পট লাম্পট্য ছাড়ে, পানাসক্ত মদ্যপান ত্যাগ করে,চির-নিন্দুক পরনিন্দা পরিহার করে। এরূপ বহু দৃষ্টান্ত আছে। পাপিকে আমি -া করব না। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (১৭ই ফাল্গুন, ১৩৪৮)

মন্দিরের পুরোহিতের চাকুরী পাইয়াই মনে করিয়া বসিও না যে তুমি ভক্ত হইয়াছ, পুস্পচয়নের অধিকার পাইয়াই ভাবিও না যে তুমি ভক্ত হইয়াছ। ভোগ-রাগ সাজাইবার নির্দ্দেশ পাইয়াছ বলিয়াই মনে করিও না যে তুমি ভক্ত হইয়াছ। ভক্তের প্রথমে মরে অহঙ্কার তারপরে যায় মৃত্যুভয়। কর্ত্তৃত্বাভিমান ও ভয় থাকা পর্য্যন্ত নিজেকে ভক্ত বলিয়া জাহির করা আর ‘ভক্তি’ কথাটিকে গালি দেওয়া এক কথা। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (পথের সাথী পৃষ্ঠা ১০)

বহুপন্থার দোষ-গুণ
অনেক কে দেখা যায়, এক স্থানে গুরুপদেশ গ্রহণ করে তার পরে নানা স্থানে নানা মতের, নানা পথের উপদেষ্টাদের সঙ্গে মিশতে আরম্ভ করে। এর ভালর দিকটা এই যে, একটা বস্তুকেই নানা দিক দিয়ে নানাভাবে দেখবার রুচি,প্রভৃত্তি ও সামর্থ্য জন্মে। মন্দের দিক এইযে, পরস্পর বিরোধী বলে মনে হয়, একই বিষয় নিয়ে নানা যুক্তি শুনে শুনে -হানি -ির সঙ্গে সঙ্গে সাধনে নি-ৎসাহতা, নিরুদ্যমতা, অবিশ্বাস ও এমনকি বিদ্বেষ পর্যন্ত এসে পড়ে। যেমন মধু-মক্ষিকা নানা ফুল থেকে মধু আহরণ কর্ত্তে গিয়ে অনেক সময় এমন মধু আহরণ করে, যা স্বাদে মধুর হলেও কাজে বিষ। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ 

মন্ত্র লইয়া সাধন না করা
মন্ত্র লয় কিন্তু তারা না করে সাধন,
ব্রত লয় কিন্তু তাহা না করে পালন,
বীজ কিনে কিন্তু -বপন,-নে কিন্তু নাহি করে অধ্যয়ন,
মন্দির গড়িয়া তাহে না করে অর্চণা,
গাভী কিনি’ তারে নাহি দেয় তৃণ-ক্ণা,
বিবাহ করিয়া স্ত্রীকে না করে রক্ষণ,
বৃক্ষ রুপি’ নাহি করে সলিল সিঞ্চন,
মূলধন লভি’ নাহি করে ব্যবসায়,
অলক্ষিতে সেইজন অধঃপথে যায়।
-শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (১৭ই বৈশাখ, ১৩৩৯)

মন্ত্র দিলাম, শিষ্য করিলাম, জীবনের মতন তোমাদিগকে আমার দাসত্বের নিগড়ে বাঁধিলাম, বর্ষে বর্ষে তোমাদের কাছ হইতে টাকার থলি উপহার লইলাম, আর খুসি হইয়া তোমাদিগকে আশীর্ব্বাদ-পত্র পাঠাইলাম, তোমাদের সঙ্গে আমার এইটুকুই সম্পর্ক নহে। আমি কি তোমাদের কাছে কোনও আদর্শ ধরিতে পারিয়াছি? আমি সত্যিই তোমাদের জীবন-যাপন-প্রণালীর মধ্যে কোনও নূতন প্রেরণা, নূতন উদ্দীপনা, নূতন মূল্যায়ন সৃষ্টি করিতে পারিয়াছি? আমি কি তোমাদিগকে অচলায়তনের প্রস্তরপুঞ্জ ভাঙিয়া কারাগারের বাহিরে উন্মুক্ত দিবালোকে সাহস-সহকারে আসিয়া দাঁড়াইবার জন্য কোনও পাথেয় দিতে পারিয়াছি? তোমরা আগে যাহা ছিলে, তাহা হইতে তোমাদের কোনও নূতনতর পরিবর্তন বা বিবর্ত্তন সাধন করিতে কি আমি পারিয়াছি? তোমাদের আজ আমাকে কঠোর ভাবে বিচার করিয়া দেখ- আমি – দ্বারা পূর্ণ সুখী হইতে না পারিয়া থাকি, তবে তাহা কি একা তোমাদের দোষ? আমার কি তাহাতে কোনও দোষ নাই? আমি চা-, আজ তোমরা আমাকে অতিশয় তীক্ষ্ণভাবে বিচার কর, আমাকে আগুনে পুড়িয়া পুড়িয়া, আমি খাঁটি সোণা কি না, তাহার একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসিয়া উপনীত হ-্রীশ্রী স্ব- -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (১৫ই আশ্বিন, ১৩৬৭)

আমি গুরু হইয়াছি বলিয়া এমন কিছু হইয়া যাই নাই যে, তোমরা আমাকে ভয় করিবে। তোমা-র দোষ,ত্রুটি, দূর্ব্বলতা -সব কিছু আমি স্নেহের দৃষ্টিতে দেখিয়া থাকি। আমার নিকটে সর্ব্বদা নিঃসঙ্কোচ হইও। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (২২শে বৈশাখ, ১৩৬৭)

দীক্ষা
দীক্ষা ব্যতীতও যে ঈশ্বর দর্শন হইতে পারে, এই সত্যের উপরে মানুষের শ্রদ্ধা আসা আবশ্যক। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (ধৃতং প্রেম্না-৪র্থ খন্ড পত্র নং ৭)

সেই জন্য দীক্ষাকালে তোমাদের প্রতি জনকে সুস্পষ্ট রূপে ব-া দিতে আমার কখনো ভুল হয় না যে, নি-দের দলবৃদ্ধির চেষ্টা কেহ করিও না, প্রত্যেকে সাধন করিয়া বলিয়ান হও। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (ধৃতং প্রেম্না-চতুর্থ খন্ড)

অণ্ণপ্রাশন
কাহারও অণ্ণপ্রাশন করিতে চাহ বেশ ত’! সমবেত উপাসনায় নিবেদিত কোনও মিষ্টদ্রব্য নিয়া অণ্ণের সহিত মিশাইয়া শিশুর মুখে দাও। তাহাতেই অণ্ণপ্রাশন হইয়া যাইবে। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (ধৃতং প্রেম্না-৩খন্ড)

শিষ্যরূপী জানোয়ার
শ্রীশ্রীবাবামণি বলিলেন, আজকাল শিষ্যেরা গুরুদেবের কাছ থেকে একটা মন্ত্র নিয়ে মনে করে যেন গুরুদেবকে কৃতার্থ করে দিল। তার মত একজন শিষ্য পেয়ে কি অমুক অঞ্চলে গুরুদেবের পসার বাড়ে নি? তার মত একজন প্রতিষ্ঠাবান বা কৃতবিদ্য শিষ্য কি গুরুদেব সহজে পেতেন? সে যদিও একটি কাণাকড়িও গুরুদক্ষিণা দেয় নি, কিংবা দেবার অভিপ্রায়ও পোষণ করে না, তবু তার মত ব্যক্তি যে গুরুদেবের শিষ্য বলে নিজেকে পরিচিত করে এতেই কি গুরুদেবের নাম-মর্য্যাদা বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয় নি? গুরুদেবে- কি তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকা উচিৎ নয়? কোন কোন শিষ্য আবার এরকমও মনে করে যে, গুরুদেব হিমালয়ে বসে বহু বৎসর তপস্যা করলে কি হয়, তিনি এতদিন বনে জঙ্গলে বসে যে সত্যকে উপলব্দি করলেন, শিষ্য ত’ এক বছর ঘরে বসে সাধন করেই তা উপলব্দি করেছে, সুতরাং গুরুদেবের শ্রেষ্ঠতা কোথায়? কোন কোন শিষ্য এরকমও মনে করে,-“গুরুদেব সাধক-পুরুষ হলেও আমার মত সাংখ্য, বেদান্ত, ন্যায়, বৈশেষিক প্রভৃতি পড়েন নি, ক-বা আমার মত হেগেল, ক্যান্ট, স্পিনোজা, স্পেন্সর, মিল কোমটের অবগত নন। কোন কোন শিষ্য এই রকম অভিমানও পোষন করে,-“লোকে-ুরুদেবকে মহাপুরুষ বলে জ্ঞান করলেও আমার মত প্রকৃত ত্যাগী তিনি এখনো হতে পারেন নি, তাঁর ত’ দেখছি কেবলি বিষয় ল-্সা, কেবলি বহির্ম্মুখ শত কাজে রুচি, কেবলি বাহ্য ব্যাপারে আসক্তি। এই রকম করে জগতে যে কত গুরুর কত রকমের শিষ্যরূপী সব পোষা জানোয়ার আছে, তার ইয়ত্তা নেই। কেউ মনে করে “গুরুদেব আমার মন্ত্রদাতা হলেও শিবপূজা-রহস্য আর গীতার তত্ত্ব আমার মত বোঝেন না। কেউ বা মনে করে,-গুরুদেব ব্যাখ্যান খুব ভাল দিলেও আমার মত কীর্ত্তন করতে পারেন না, এই বিষয়ে তিনি আমার চেয়ে নিকৃষ্ট। কেউ বা মনে করে, -গুরুদেব অবশ্য আদর্শ-পরিবেশনের কাজে পটু, কিন্তু কর্ম্মপরিচালনা কি আর আমার মত ভাল রকম জানেন? কেউ বা মনে করে,-“গুরুদেব আমাদের হিতের জন্য যে সব উপদেশ বাণী বলেন, সেগুলো সম্পর্কে তাঁর প্রকৃত তত্ত্বোপলব্দি কিছুই নেই, কিন্তু আমি যে সব কথা বলি, সবই সম্পূর্ণরূপে তত্ত্বোপলব্দির সাক্ষাৎ ফল। মহা মন্দভাগ্য বশে গুরুরা এই জাতীয় সব নিকৃষ্ট শিষ্যকে দীক্ষা দিয়ে থাকেন। কিন্তু এই সব অপাত্র-শিষ্যেরা একজনও গুরুবাক্য পালনের জন্য জীবনে কোনও মহান ত্যাগ বা বিরাট সার্থহানি স্বীকার করতে সমর্থ হয় না। নামেই তারা শিষ্য থাকে, কাজে শিষ্য কখনো হয় না। –অখন্ড সংহিতা-একাদশ খন্ড।

গুরুগিরির উভয় সঙ্কট
কেহ যদি গুরুগিরি না করেন, তাহা হইলে একশ্-নীর ত্রাণেচ্ছু ব্যক্তিদের পরিত্রাণের পথ কন্টকাকীর্ণ হইয়া থাকে। আবার যিনি গুরুগিরি করেন, তিনি ক্রমশঃ নিজ আধ্যাত্মিক অধিষ্ঠান হইতে স্খলিত হইয়া পতিতই হইতে থাকেন। ইহা গুরুগিরির নিদারুণ সঙ্কট। এই কারনেই আমার অনুবর্ত্তিগণ সর্ব্বপ্রকার গুরু-অভিমান বিসর্জ্জন দিয়া আমার ধর্ম্মকে-্রচার করিবেন এবং নিজেদের উপরে ব্যক্তিগত ভাবে যাহাতে নবদীক্ষিতেরা গুরুভাব আরোপ না করেন, তদ্রুপ ভাবে ধর্ম্মের প্রসার-সাধন করিবেন। -শ্রীশ্রী স্বামী স্বরূপানন্দ (অখন্ড সংহিতা, ত্রয়োদশ খন্ড)

নির্মাতা
ভবঘুরে কথা'র নির্মাতা

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!