টকিমোল্লায় গানের আসর

টকিমোল্লায় গানের আসর

-মূর্শেদূল মেরাজ

টকিমোল্লায় গানে আসর

এ বছরের শুরুতে সেই ফেব্রয়ারিতে ফর্সা হাজীর অনুষ্ঠানে যখন আমরা সকলে ব্যস্ত। এমন এক সন্ধ্যায় আশিক জানালো আগামীকাল আগে আগে কাজ শেষ হয়ে গেলে। আমরা সকলে মিলে টকিমোল্লার মাজারে যাব। সেখানে ওরশ আছে। প্রচুর মানুষ হয়। বিশাল বিশাল মহিষ দেয় ভক্তকুল।

বিশ-পঁচিশটার মতো মহিষ দিয়ে খিঁচুড়ি সিন্নি হয়। আমাদের দাওয়াত আছে। সবাই যাব’নে।

এইকথা শুনে আমরাও প্রস্তুতি নিলাম মনে মনে। অনেকেই মহিষের মাংস খাবে বলে উত্তেজিত। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতেই সব শেষ হলো। সেই যাত্রায় আর যাওয়া হলো না। কি যেন একটা ঘটেছে তাই ওরশের আনুষ্ঠানিকতা স্থাগিত করা হয়েছে।

পরে জেনেছি, টকিমোল্লার বংশধরটা নাকি ভক্তকুল মাজার পরিচালনা করবে। তা নিয়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় প্রশাসক ওরশ বন্ধ রাখতে বলেছে। তাই আর ওরশ হবে না বড় আকারে। শুধু গুরুকর্ম করা হবে। তাই আর আমাদের সেই যাত্রায় টকিমোল্লায় যাওয়া হয়নি।

কিন্তু আলোচনায় বারবার চলে এসেছে টকিমোল্লার কথা। সেই ঘটনার মাস দেড়েক পরে আশিক জানালো। এবার যাওয়া হচ্ছে টকিমোল্লার মাজারে। নরসিংদীর মর্জালে প্রতি বছর আধ্যাত্মিক মহোৎসব বলে একটা অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে আসছে বেশ কয়েক বছর ধরে।

এ বছর সেই অনুষ্ঠানটি করোনার অতিমারি সহ আরো কিছু কারণে বড় আকারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ছোট করে পালন করা হবে। আনুষ্ঠানের স্থানও পরিবর্তন করা হয়েছে। যেই গুরুকে ঘিরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন। তিনি হলেন জালাল উদ্দিন সাহেব।

আর এই জালালউদ্দিন সাহেব হলেন টকিমোল্লার ভক্ত। তার সমাধি মাজারও রয়েছে টকিমোল্লার মাজার প্রাঙ্গণেই। তাই আধ্যাত্মিক মহোৎসব যারা পালন করে। তারা এইবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গুরুর নামে অনুষ্ঠান হবে গুরুর মাজারে। অর্থাৎ টকিমোল্লার মাজার প্রাঙ্গণে।

যেহেতু টকিমোল্লার ওরশ এইবার হয়নি। তাই এখানে অনুষ্ঠান করারও একটা উদ্দেশ্য হতেই পারে। যাক এই অনুষ্ঠানের জন্য শিল্পী সহ আনুসাঙ্গিক দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে আশিকের উপর।

আশিক তাই আমাদের জড়ো করতে শুরু করলো। সেই উদ্দেশ্যে সুমন দাস বাউল এলো ঢাকায়। সাথে ছোটভাই অজয় বাউল। শিল্পী হিসেবে আরো থাকবে নরসিংদীর সুমন ক্বারী, শান্তা, লগ্না সহ অনেকেই। যন্ত্রীদের মধ্যে থাকবেন আমার অত্যন্ত পছন্দের গুরুজী হুমায়ুন করিব।

অন্ধ এই বাউল শিল্পী কি যে দরদ দিয়ে গান পরিবেশন করে। তা সামনে বসে না শুনলে অনুধাবন করা বেশ শক্ত। একাধারে তিনি বেশ কয়েকটা যন্ত্র বাজাতে পারেন। গানও গাইতে পারেন বেশ রসিয়ে রসিয়ে। কথাও বলেন বেশ সুন্দর ভঙ্গিতে।

যাক সব ঠিকঠাক হলো। অনুষ্ঠান হবে ১৩ মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ রোজ শনিবার। একদিন আগে পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটা শেষ পর্যন্ত সম্ভব হলো না। আমি আর সুমন দাস রওনা দিলাম অনুষ্ঠানের দিন দুপুরে। গুলিস্তান থেকে বাসে চেপে বসলাম।

শীতের শেষ হতে না হতেই এবার কঠিন গরম পরে গেছে। তীব্র গরমের অসহ্য হয়ে এসি বাসে বসে আছি। বাস ছাড়তে অনেকটা দেরি করলেও টানছে খারাপ না। প্রত্যাশিত জ্যাম যে সব সড়কে হওয়ার কথা ছিল সেখানে জ্যাম পেলাম না।

সেগুলোতে উঠলে যেমন আরাম পাওয়া যায় না। এই ব্যাটারী রিক্সার অনুভূতি তেমন না। সেই একটা অটো রিক্সা নিয়ে আমরা পাঁচ জনে চলেছি টকিমোল্লার মাজারে। আমাদের জন্য আশিকের বাড়িতে রিক্সা দাঁড়িয়ে ছিল। বৃষ্টি কমে আসতেই আমরা রাস্তা পার হয়ে সিএনজিতে চড়ে সোজা আশিকের বাড়িতে।

ভাবলাম আগে আগেই পৌঁছে যাওয়া যাবে। কিন্তু মাধবদী পার হতে না হতেই শুরু হলো বৃষ্টি। বছরের প্রথম বৃষ্টি পেলাম। তাও বাসের মধ্য বসে। এসি বাসের ছাদ গড়িয়ে নামতে লাগলো জল। যদিও আমাদের পাশটায় সেই যন্ত্রণা ছিল না। কিন্তু অনেকেই ভিজছিল। পায়ের নিচে জল গড়াতে শুরু করে দিল।

পাঁচদোনা যেতে না যেতে বৃষ্টি ঝড়ে রূপ নিলো। রাস্তায় এখানে সেখানে গাছ ভেঙ্গে পরে আছে দেখলাম চলতে চলতে। এসি গাড়ির কাঁচ ঘোলা হয়ে যাচ্ছে দ্রুত। বাস এগোতে পারছে না কিছুতেই। তারপরও দক্ষ চালক ধীর লয়ে বাস চালিয়ে গেলো। ঐ দিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, সেখানেও প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে।

আমরা যখন বাস থেকে বারৈচা নামবো। তখন বৃষ্টির তেজ আরো বেড়েছে। রাস্তার পাড়ে জমেছে পানি। কি করে নামবো? এই ঝড়-জলের মধ্যে। তারপরও নামতেই হবে। নেমে আমরা দৌড়ে একটা দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম।

কয়েক সেকেন্ডের এই দৌড়ের মাঝেই ভিজে চপচপ হয়ে গেলাম দুইজনে। রাস্তা পেরিয়ে সিএনজিতে উঠতে হবে। প্রথমে যাব আশিকের বাসায়। কিন্তু বৃষ্টির যে তেজ। তাতে রাস্তা পেরুনো সহজ না মোটেও। কি আর করা সেখানেই দাঁড়িয়ে থাকা।

ছোট্ট দোকানখানা অনেক মানুষ আশ্রয় নেয়ায় সেখানেও দাঁড়ানোর বিশেষ জায়গা নেই। বৃষ্টি কমছে না কিছুতেই। তবে বাতাসটা ধরে এসেছে। প্রচণ্ড খিদেও পেয়েছে। তারউপর ভিজে চপচপে অবস্থা। দাঁড়ানোর জায়গাও নেই।

ব্যাগ থেকে গামছা বের করে আপাতত একটু গা শুকিয়ে নিলাম। অপেক্ষা বৃষ্টি থামার। কিন্তু সেই লক্ষণ নেই। কি আর করা আশপাশের মানুষ দেখতে লাগলাম। আর সুমন দাস ব্যস্ত হয়ে পরলো তার ফোন নিয়ে। অনেকটা সময় পর যেখন আকাশ অন্ধকার করে সন্ধ্যা নেমেছে তখন একটু বৃষ্টিটা ধরে আসলো।

রায়পুরায় বেশ ব্যাটারী রিক্সা চলে। এই রিক্সাগুলো বেশ। এটা না রিক্সা। না অটো। না ভ্যান। মাঝামাঝি একটা কিছু। তবে বসলে বেশ রাজকীয় ভাব আসে মনে। অনেক জায়গাতেই এখন এ ব্যাটারী রিক্সা চলে। তবে রিক্সায় ব্যাটারী বসিয়ে যে ইঞ্চিন রিক্সা করা হয়।

সেগুলোতে উঠলে যেমন আরাম পাওয়া যায় না। এই ব্যাটারী রিক্সার অনুভূতি তেমন না। সেই একটা অটো রিক্সা নিয়ে আমরা পাঁচ জনে চলেছি টকিমোল্লার মাজারে। আমাদের জন্য আশিকের বাড়িতে রিক্সা দাঁড়িয়ে ছিল। বৃষ্টি কমে আসতেই আমরা রাস্তা পার হয়ে সিএনজিতে চড়ে সোজা আশিকের বাড়িতে।

সেখানে ভেজা কাপড় পাল্টে উঠে বসেছি ব্যাটারী রিক্সায়। যদিও এখানে এটি অটোরিক্সা নামে পরিচিত। ছোটভাই রকিব আমাদের পৌঁছানোর আগেই আশিকের বাড়িতে এসে আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। সাথে পথ থেকে যুক্ত হয়েছে আরেক ছোট ভাই রুমন।

তবে তিন পুত্র নিয়ে তিনি বেশ আছেন। বাড়ির বিশাল এক ঘর ছেড়ে দিয়েছেন সাধুগুরুপাগলদের জন্য। মামীও বেশ গুরুভক্ত মানুষ। তাদের গুরুঘরটা আমরা এক রাতের জন্য আমাদের দিয়ে দেয়া হলো। নিউটন ভাই আমাদেরকে এই ঘরে রেখে মঞ্চের কি অবস্থা তা জানবার জন্য চলে গেলেন।

ও এখন লালন রুমন নামে পরিচিত। সাথে প্রিয় মনা ভাই। এক অটোরিক্সায় পাঁচজনে বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যায় চলেছি। ফোনে জেনেছি ঝড়বৃষ্টিতে টকিমোল্লার মাজারে অনুষ্ঠানের জন্য করা মঞ্চ ভেঙ্গে পরেছে। বিদ্যুৎও নেই পুরো রায়পুরায়। কাঁদাজলে সব টইটুম্বুর।

এরমাঝে গান হবে কিনা। লোকজন আসবে কিনা সেসব নিয়ে সংশয় সন্দেহ নাই মনে। যার অনুষ্ঠান তিনি কি করেন। সেটা নিতান্তই তার বিষয়। এসব ভাবনা আমাদের নয়। মহতরা মাঝেমধ্যে আমাদেরকে সেবা করার সুযোগ দেয় মাত্র।

তাদের লীলা বোঝার ক্ষমতা আমাদের নেই। স্বল্প জ্ঞানে সেই চেষ্টা না নেওয়াই উত্তম। সেসব গভীর ভাবনার বিষয়। আপাতত প্রচণ্ড খিদে লেগেছে সেটা টের পাচ্ছি। পথ বেশি না। আধঘণ্টার মতো সময় লাগবে। রায়পুরা বাজারে অটোরিক্সা দাঁড় করিয়ে আপাতত পুড়ি-সিঙ্গারা কিনে নেয়া হলো। খেতে খেতে যাওয়া যাবে।

ভাঙ্গাচোড়া জলে ডুবা রাস্তা পেরিয়ে যখন আমরা পৌঁছালাম। তখন হাতের চর্টই ভরসা। চারদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকার। জেনারেটরও কাজ করছে না। একদিকে জেনারেটর ঠিক করার কাজ চলছে। অন্যদিকে মঞ্চ দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।

তবে জলকাঁদায় কাজটা সহজ নয়। একটু সময় লাগবে। আমরা গিয়ে বসলাম আমাদের রাত্রিজাপনের আশ্রয় তুষার মামার ঘরে। বাবা জাহাঙ্গীরের ভক্ত তুষার মামা। ভদ্রলোকের কণ্ঠটা খাদে নামানো। মনে হয় অনেক কষ্ট করে কথা বলেন।

তবে তিন পুত্র নিয়ে তিনি বেশ আছেন। বাড়ির বিশাল এক ঘর ছেড়ে দিয়েছেন সাধুগুরুপাগলদের জন্য। মামীও বেশ গুরুভক্ত মানুষ। তাদের গুরুঘরটা আমরা এক রাতের জন্য আমাদের দিয়ে দেয়া হলো। নিউটন ভাই আমাদেরকে এই ঘরে রেখে মঞ্চের কি অবস্থা তা জানবার জন্য চলে গেলেন।

তার বর্ণনা এতোটাই মনোরম যে আমরা কয়েকজন মুগ্ধ হয়ে শুনে গেছি। তবে তাকে মঞ্চে বক্তৃতা দিতে আগে দেখা হয়নি। সকলে যখন গুটি গুটি পায়ে মঞ্চের দিকে চলে গেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আফজার চাচা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে শুরু করেছে।

নিউটন ভাইয়ের পরিবারই এই আয়োজন করে থাকে গুরুর নামে। পরে জেনেছি, উনাদের পরিবারের ভাইবোনরা যে যে দেশে থাকেন। সেই সেই দেশে একই দিনে সকলে গুরুর স্মরণে ওরশ পালন করে এই দিনে। তারা পরিবারের সকলেই টকিমোল্লা ভক্ত জালালবাবার ভক্ত।

আমরা সুস্থির হয়ে বসতে বসতে সিন্নি চলে আসলো। ঝড়বাদলা হলেও, ইতিমধ্যেই নাকি ২৪ ডেগ সিন্নি বিরতণ হয়ে গেছে। সিন্নি সেবা চলবে রাতভরই।

একে একে অন্যান্য শিল্পীরাও চলে আসলো। সুমন ক্বারী ভাই চলে আসলো আমাদের আস্তানায়। সকলে মিলে আড্ডা-আলোচনা চলতে লাগলো। সময় গড়াতে লাগলো। আড্ডায় জনসংখ্যা বাড়তেই লাগলো। বিদ্যুতের কোনো দেখা নেই। যতদূর জানা যাচ্ছে আজ আর আর বিদ্যুৎ আসার সম্ভাবনা নাই।

রাত দশটারও অনেকটা পরে আশিকের বাবা চলে আসলেন। মঞ্চ মোটামুটি ঠিকঠাক করা হয়েছে। অনুষ্ঠান শুরু হবে। উদ্বোধন করবেন আশিকের বাবা ‘আফজাল সাহেব’। মুক্তিযোদ্ধ আফজাল সাহেবের বিশাল একটা রাজনৈতিক পরিচয় আছে। এই লেখায় সেই পরিচয় আর টানলাম না।

তিনি আমাদের চাচা। এই পরিচয়ই তারচেয়েও অনেক বড় আমার কাছে। ফর্সা হাজীর অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাওয়ার পর একদিন ভোরে তিনি হাঁটতে যাওয়ার আগে আমাদের সাথে আড্ডায় জমেছিলেন। আমরা সকলে তখন মাত্র ঘুমাতে যাব।

সেই সময় তিনি আমাদের পথ আটকে একাত্তুরের লোমহর্ষক সব যুদ্ধের কাহিনী বলতে লাগলেন। কি করে তিনি ট্রান্সফর্মার ব্লাস্ট করেছিলেন। কি করে বেঁচে ফিরেছিলেন। রেডিও বহন করে কি ভাবে হাঁটতেন। সেই সব কত কত কথা। বলেছিলেন রাজনৈতিক জীবনের গল্প-কাহিনী।

তার বর্ণনা এতোটাই মনোরম যে আমরা কয়েকজন মুগ্ধ হয়ে শুনে গেছি। তবে তাকে মঞ্চে বক্তৃতা দিতে আগে দেখা হয়নি। সকলে যখন গুটি গুটি পায়ে মঞ্চের দিকে চলে গেছে। আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে আফজার চাচা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিউটন ভাইয়ের বাবা মঞ্চে রইলেন। মেতে রইলেন সংগীতের মায়াজালে। টকিমোল্লা থেকে যখন আমি আর আশিক ফিরছিলাম পরদিন অনেকটা বেলা করে। তখন নিউটন ভাইয়ের বাবার মাঝে গুরুর দরবারের আসবার যে উচ্ছ্বাস দেখেছিলাম।

আমিও একা একা বেড়িয়ে পরলাম মঞ্চের দিকে। জেনারেটরে অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। তারপরও ঝকঝকে মঞ্চটা দেখা যাচ্ছে অনেকটা দূর থেকে। বৃষ্টিজলের পরও এতো মানুষ অনুষ্ঠান স্থলে জড়ো হবে এতোটা আশা করিনি। মানুষজন দেখে বেশ ভালোই লাগলো।

প্রচুর মানুষ আফজাল চাচার মজা করে কথা বলার ভঙ্গিতে হেসে গড়াগড়ি খাচ্ছে। আমিও কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে সেই দলে সামিল হলাম। মানুষ চাইলে কি করে অসুন্দরকেও সুন্দর করতে পারে। চারদিকে প্রতিরোধ-প্রতিহিংসা থাকলেও সকলকে নিয়ে কি করে এক হতে হয় এটাই সম্ভবত রাজনীতি।

বিষয়টা কুৎসিতভাবেও করা যায়। আবার অনেক নান্দনিকভাবেও করা যায়। সেই রকমই একটা নান্দনিকতা দেখতে দেখতে গানে ঢুকে গেলাম। সাঁইজির বাণী সহ অন্যান্য মহতের বাণীর ভেতর দিয়ে অনুষ্ঠান যখন শেষ হলো তখন পূর্বাকাশে আলো ফুটতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠান শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিউটন ভাইয়ের বাবা মঞ্চে রইলেন। মেতে রইলেন সংগীতের মায়াজালে। টকিমোল্লা থেকে যখন আমি আর আশিক ফিরছিলাম পরদিন অনেকটা বেলা করে। তখন নিউটন ভাইয়ের বাবার মাঝে গুরুর দরবারের আসবার যে উচ্ছ্বাস দেখেছিলাম।

তখন একটা ভাবনা বারবার ভাবাচ্ছিল। একটা পরিবারের সকলে যখন আনন্দ নিয়ে একই মত বিশ্বাস করে। তখন বিষয়টা কতই না সুন্দর হয়ে ওঠে। কতই না আনন্দময় হয়ে ওঠে। কতই না প্রফুল্ল থাকে সেই পরিবারের মানুষগুলো।

মনের ভাবগুলো ভাগাভাগির জন্য খুঁজে নিতে হয় না ভিন্ন কোনো জগৎ-সংসার। আহ্। মনটাই ভালো হয়ে গেলো। জয় হোক মানুষের। জয় হোক। জয় হোক। জয় গুরু।।

(চলবে…)

<<সাঁইজির ধাম হয়ে পাককোলা- দুই ।। ফর্সা হাজীতে আরেক দফা>>

………………………..
ভবঘুরে খেরোখাতা: পর্ব এক
ভবঘুরে খেরোখাতা: পর্ব দুই
মনোমোহনের পথে : প্রথম কিস্তি
মনোমোহনের পথে : দ্বিতীয় কিস্তি
মনোমোহনের পথে : তৃতীয় কিস্তি
দয়াময় থেকে দয়ালের দরবারে : কিস্তি এক
দয়াময় থেকে দয়ালের দরবারে : কিস্তি দুই
শাহান শাহ্’র দরবারে : পর্ব এক
শাহান শাহ্’র দরবারে – পর্ব দুই
লোকনাথ বাবার আশ্রম হয়ে মহারাজের আশ্রমে : এক
লোকনাথ বাবার আশ্রম হয়ে মহারাজের আশ্রমে : দুই
লোকনাথ বাবার আশ্রম হয়ে মহারাজের আশ্রমে : তিন
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি- এক
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি- দুই
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি : তিন
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি : চার
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি : পাঁচ
নিরা গোঁসাইয়ের মতুয়া মহাসম্মেলন- এক
নিরা গোঁসাইয়ের মতুয়া মহাসম্মেলন- দুই
সাঁইজির ধাম হয়ে পাককোলা- এক
সাঁইজির ধাম হয়ে পাককোলা- দুই
টকিমোল্লায় গানে আসর
ফর্সা হাজীতে আরেক দফা
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-এক
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-দুই
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-তিন
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-চার
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-পাঁচ

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!