ফর্সা হাজীতে আরেক দফা

ফর্সা হাজীতে আরেক দফা

-মূর্শেদূল মেরাজ

ফর্সা হাজীতে আরেক দফা

টকিমোল্লা হয়ে আমরা চলে এসেছি ফর্সা হাজীতে। এই দফায় এদিকেই আমাদের সঙ্গ ভাগ ভাগ হয়ে যাবার কথা। আমরা যাবো ঢাকায়। একদল যাবে গাজিপুর। অন্যদল যাবে হুমায়ুন সাধু। সকলের একসাথে এই শেষ রজনীটা তাই ফর্সা হাজীতেই কাটানো হবে ধার্য করা হয়েছে।

পরদিন দুপুর ফর্সা হাজী থেকে যখন এবারের মিলনমেলায় ভাঙনের সুর বাজতে শুরু করেছে। তখন আমরা হাজী সাহেবের সমাধী ঘেড়া উঁচু বেদীটার উপর বসেছি দুপুরের সেবা নিতে। মাজারের পাশের কামরাটায় আমরা রাতভর গল্প-গুজব, আড্ডা-গানে পার করেছি।

দুপুরের এই মনোরম স্নিগ্ধ পরিবেশে আমরা প্রকৃতির মাঝে সেবা নিচ্ছি। সেবা যখন প্রায় শেষ পর্যায়ে তখন হঠাৎ মনে হলো পেছনে কেউ এসে দাঁড়িয়েছেন। ঘাড় ঘোরাতেই দেখি এক মা জননী এসে দাঁড়িয়েছেন। তার চোখে জল। আশিক পরিচয় করিয়ে দিলো।

বললো- আমার জেঠি।

জেঠিমা সেই সব দেখছেন না। তার চোখে জল। গায়ের ওড়না দিয়ে হাত দিয়ে ঠোট ঢেকেছেন। কান্নাটা দেখাতে চাইছেন না হয়তো। তারপর অনেকটা সময় নিয়ে ভেজা ভেজা কণ্ঠে আশিককে উদ্দেশ্যে করে বললেন, “বাবা তোমার জেঠার কাজটা যে তুমি করতেছো। সেই জন্য আমি অনেক খুশি। অনেক খুশি। অনেক খুশি।”

আশিকের মুখে আগেই শুনেছিলাম তার জেঠার কথা। তিনি জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছেন ফর্সা হাজীতে। শ্রীরামপুর বাজারের রবিউল পাগলের মাজারে তার বসার জন্য ছিল নির্দিষ্ট জায়গা। যেমন রাগি ছিলেন। তেমন ছিলেন গুরুবাদী মানুষ।

জেঠার গল্প প্রায়ই শুনি আমরা আশিকের কাছে। ফোনে খুঁজে খুঁজে ছবিও দেখিয়েছিল আশিক। সেই মানুষটা কেবল কল্প-কাহিনীর চরিত্র হিসেবেই ছিল। কিন্তু আজ এই মধ্যদুপুরে জেঠিমার চোখের অশ্রু দেখে সেই মানুষটা যেন জীবন্ত হয়ে গেলো।

অবশ্য যত দিন ধরে শুনে আসছি। আর যাওয়ার সময়ে এতোটাই দূরত্ব হয়ে গেছে যে কুড়ে ঘর পাকা হয়ে গেছে হয়তো। পুরো দরবারটা একেবারে আধুনিকভাবে গড়ে উঠছে। তারপরও বেশ লাগলো দরবারটা। মনে মনে আশা রইলো সপ্তাহ খানেকের জন্য এই দরবারের একটা ধ্যান কক্ষ দখল করে থাকতে হবে।

জেঠার কথা আরো শুনতে হবে। জানতে হবে। মনে মনে ভেবে রাখলাম। আসলে এভাবে মনে মনে কত কি তো ভেবে রাখি; পরে ভাববো বলে। কিন্তু সেই সময় সুযোগ কই পাই। তারপরও তালিকাটা যত্নে রাখি। সাঁই কৃপা করলে নিশ্চয়ই হবে।

সুমন দাস আর অজয় বাউল রওনা হয়ে গেছে গাজীপুরের দিকে। সেখানে ওদের একটা অনুষ্ঠান আছে। আমাদের নিয়ে যাওয়ার জন্য নানান গল্প দিয়েছিল। কিন্তু আমাদের ঠিকঠাক রাজি করিয়ে উঠতে পারলো না। শেষে তারাই রওনা দিয়েছে।

ফয়সাল এনায়েত, সুমন আরাফাত আর রকিব গেছে সাধুগুরু হুমায়ুন সাধুর আখড়ায়। আমি আর আশিক চলেছি রায়পুরার পীরপুরের মস্তানগঞ্জে। অনেক অনেক দিন ধরে এই দরবারের যাওয়ার ইচ্ছে। বহুদিন ধরেই শুনছি এই ধ্যানাশ্রমের কথা।

প্রতিবারই রায়পুরা গেলে ভাবি যাব। কিন্তু যাওয়া হয় না। এইবার তাই একটা দিন বেশি থেকে গেলাম। মনোবাসনাটা পূর্ণ করার জন্য।

আমরা যখন অটোরিক্সা নিয়ে মস্তানগঞ্জের ‘আশেকে পাঞ্জাতন খাজার দরবার’-এ উপস্থিত হলাম। তখন শোনার সাথে দেখা ঠিক মিলিয়ে উঠতে পারলাম না। আগে শুনেছিলাম ধ্যানাশ্রমের ছোট ছোট ধ্যান কক্ষগুলো কুড়ে ঘর। কিন্তু যেয়ে দেখলাম আধুনিক পাকা ঘর।

অবশ্য যত দিন ধরে শুনে আসছি। আর যাওয়ার সময়ে এতোটাই দূরত্ব হয়ে গেছে যে কুড়ে ঘর পাকা হয়ে গেছে হয়তো। পুরো দরবারটা একেবারে আধুনিকভাবে গড়ে উঠছে। তারপরও বেশ লাগলো দরবারটা। মনে মনে আশা রইলো সপ্তাহ খানেকের জন্য এই দরবারের একটা ধ্যান কক্ষ দখল করে থাকতে হবে।

আলাপচারিতা হলো দরবারের প্রধান দয়াল মাস্তান বাবা খাজা বুলবুল শাহ্’র সাথে। নিজের রচিত গানও শোনালেন তিনি। করলেন নানান আলোচনা। বিস্কুট ডুবিয়ে চা পান করে আমরা বেড়িয়ে পরলাম।

আপাতত আমরা অপেক্ষা করবো এই ভাবনার পাশাপাশি খেয়াল করলাম। পথে আসতে আসতে দুইজনেরই যথেষ্ট ক্ষুধা লেগেছে। একটু ঝাল ঝাল কিছু খেতে মন চাইছে। আমরা চর্ট জ্বেলে জ্বেলে খুঁজে বেড়াচ্ছি সেই রকম খাবার পাওয়া যায় কিনা।

পরবর্তী গন্তব্য ফতে আলী শাহ্ বাবার দরবার। অবশ্য এর আগে আরেকটা কথা বলতেই হয়। মস্তানগঞ্জ দরবারে যাওয়ার আগে একটা বাজারে আমরা থেমেছিলাম অল্প সময়ের জন্য। বাজারটার নাম ব্রাহ্মণবধুয়া। এই নাম কেনো হয়েছে তা জানতে পারিনি।

কিন্তু নামটা অদ্ভুত সুন্দর লেগেছে। এমন নাম শোনা যায় না। বহুদিন মনে থাকবে। আবার মস্তানগঞ্জ দরবার পরেছে দুই গ্রামের মাঝে। তাই ঠিকানায় লেখা অলিপুরা+রাধানগর। আহ্ কি সুন্দর। কি সুন্দর সহবস্থান। ইস্ সমাজটা যদি এমন হতো। সমাজের লোকজন যদি এমন হতো।

সমস্ত মানুষের, সমস্ত মতের মাঝে একটা যোগ চিহ্ন যদি বসিয়ে দেয়া যেত। সকলে যদি তা হাসি মুখে গ্রহণ করতো। সকলে যদি তা সম্মান করতো। তাহলে কি সুন্দরই না হতো।

কয়েকদিনের টানা রোদের তীব্রতার পর এক সন্ধ্যার বৃষ্টিতেই যেন আবার ধারিত্রী শীতল হয়ে গেছে। সেই পরশু বৃষ্টি হয়েছে কিন্তু আজও বেশ ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব। গ্রামের রাস্তা ধরে যেতে যেতে আমাদের মনে হয়েছিল একটু গরম কাপড় সাথে রাখলে মন্দ হতো না।

যখন ফতে আলী শাহ্’ বাবার দরবারে পৌঁছেছি তখন বিদ্যুৎ চলে গেছে। পুরো এলাকা অন্ধকার আচ্ছন্ন হয়ে আছে। দুই একটা দোকানে কুপি জ্বলছে। সেই আলোতে একটু আধটু দেখা যাচ্ছে। অবশ্য আমাদের দুইজনের হাতেই দুইটা চর্ট আছে।

বাবার দরবারের দরজায় তালা। জানা গেলো, খাদেম সাহেব নামাজ পড়তে গেছেন। উনি ফিরলে দরবার খোলা হবে। এই দরবারে মানুষের মেলা বসে শনি আর মঙ্গলবার। আমরা এসেছি সোমবারে। তাই এতো সুনশান চারপাশ।

আপাতত আমরা অপেক্ষা করবো এই ভাবনার পাশাপাশি খেয়াল করলাম। পথে আসতে আসতে দুইজনেরই যথেষ্ট ক্ষুধা লেগেছে। একটু ঝাল ঝাল কিছু খেতে মন চাইছে। আমরা চর্ট জ্বেলে জ্বেলে খুঁজে বেড়াচ্ছি সেই রকম খাবার পাওয়া যায় কিনা।

তারপর ফুলকপির তরকারি দিয়ে যে রুমি মা খাওয়ালেন। সেই রাতে আর ভাত খাওয়ার প্রয়োজনই পরে নাই। আসলেই এই রুটি খাইলে খাইতেই হবে। পাতলা রুটি খেতে খেতে অভ্যাস হয়ে গেছে। মোটা রুটি খেতেও যে এতো স্বাদ তা এতোদিন পর আবার টের পেলাম।

দোকানে দোকানে ঘোরাই সার হলো। তেমন কিছুই পাওয়া গেলো না। তবে ঘুরতে গিয়ে বুঝলাম, ফতে শাহ বাবা বিশাল মেলা বাসইছে। প্রচুর দোকানপাট, আনন্দবাজার গড়ে উঠেছে বাবার দরবার ঘিরে। দোকানে দোকানে বিভিন্ন মাপের হাড়ি-পাতিল-ডেগচি, চামুচ-থালা-বাটি, জ্বালানি কাঠ সব কিছু স্বল্পদামে ভাড়া দেয়া হয়।

প্রতি শনি ও মঙ্গলবারে এখানে অগণিত ভক্ত-আশেকানদের মিলন মেলা বসে বাবার দরবারকে কেন্দ্র করে। সেসময় যাতে ভক্ত-আশেকানরা নিজেদের মতো নিজেরা রান্না করে খেতে পারে তার জন্য এসব ব্যবস্থা। অনেকেই বললো, শনি-মঙ্গলবার আসতেন তাইলে দেখতে পেতেন।

আমরা অবশ্য হিসেব করেই মাঝামাঝি সময়ে গিয়েছি। যাতে নিরবতাটা দেখতে পাই। শান্তি করে ঘুরে ফিরে বেড়াতে পারি।

ঝাল ঝাল কিছুই না পেয়ে যখন আমরা দরবারের কাছাকাছি দোকানটার সামনে বসে মন মরা হয়ে ডাল ভাজা খাচ্ছি। তখন বিদ্যুৎ চলে আসলো। চারপাশ ঝকঝক করে উঠলো। দরবারের আলো না জ্বললেও চারপাশের আলোয় দরবার আলোকিত হয়ে উঠলো।

সেই সময় আবিষ্কার করলাম পাশের দোকানের মা জননী ঘুম থেকে উঠে বসেছেন। বিশাল বোলে গুলানো আটা দেখে জানতে চাইলাম- কি বিক্রি করেন মা?

মা জননী বললেন- আটার রুটি।

বাহ্ তাহলে আমাদের একটু খাওয়ান।

মা হাসি মুখে বললেন, বসেন। দিতেছি। এই রুটি খাইলে শুধু খাইতেই চাইবেন। একটু বসতে হবে। আমি বানাইতেছি।

তারপর ফুলকপির তরকারি দিয়ে যে রুমি মা খাওয়ালেন। সেই রাতে আর ভাত খাওয়ার প্রয়োজনই পরে নাই। আসলেই এই রুটি খাইলে খাইতেই হবে। পাতলা রুটি খেতে খেতে অভ্যাস হয়ে গেছে। মোটা রুটি খেতেও যে এতো স্বাদ তা এতোদিন পর আবার টের পেলাম।

আসলেই তাই। আমিও এমনটাই ভাবি। প্রত্যেকেরই নিজের একটা সময় থাকে। যে সময় সে বিকাশ লাভ করে। ক্ষুদ্র মানুষ জীবনের কোনো ক্ষণে সলতার মতো জ্বলে নিভে যায়। কেউ কেউ জীবদ্দশায় বিকাশ লাভ করে। কেউ বা দেহত্যাগ হাজার বছর পরে।

শেষে তালা দেয়া দরবারে ডেকে তুললাম খাদেম সাহেবকে। প্রথমে একটু আড় চোখে তাকালেও পরিচয় দেয়ার পর খোলা হলো দরজা। দরবার দেখালেন। হাসি মুখে আলাপ হলো। বিদায় নেয়ার সময় বললেন, থাইকা জান। এতো রাইতে কই যাইবেন।

খাদেম সাহেব ফতে আলী শাহ্ বাবা সম্পর্কে বিশেষ কিছুই বলতে পারলেন না। তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছেন বাবার মাজার। তবে আগে এমন কিছুই ছিল না। তার হাতেই প্রথম দরবার পাকা হয়েছে। তিনি সেই থেকেই আছেন।

রাতেও এইখানেই থাকেন। দরবার এখন জমে উঠেছে। ভক্ত-আশেকানের গম গম করে। একসময় এমন কিছুই ছিল না। বাবা কোথা থেকে এসেছেন, কবে এসেছেন তেমন কিছুই তিনি বলতে পারলেন না। তবে এটুকু বললেন, সম্ভবত শাহ্জালালের সাথেই তিনি এসেছিলেন।

বাবার দরবারে আলো জ্বালানো। বাবার খেদমত করা। ভক্ত-আশেকানদের দরবারে বসবার সুযোগ করে দেয়াই এখন কর্ম তার। এতেই তার আনন্দ। ফোকলা দাঁতে হাসতে হাসতে বললেন। বাবার অনেক কারামত আছে, তবে সেসব বলে বোঝানো যায় না। বুঝে নিতে হয়।

অটোরিক্সা দিয়ে ফিরতে ফিরতে আশিক বলছিল, এক একজন সাধক আসলে এক একটা সময় বিকাশ লাভ করে। কেউ দেহ রাখার পরেই বিকাশ পায়। কেউবা অনেক পরে। নিজের সময় মতোই হয় মনে হয়। যেমন এখন ফতে আলী শাহ বাবার সময়।

তিনি এখন জাকিয়ে বসেছেন। দিনদিনই জমজমাট হয়ে উঠছে দরবার।

আসলেই তাই। আমিও এমনটাই ভাবি। প্রত্যেকেরই নিজের একটা সময় থাকে। যে সময় সে বিকাশ লাভ করে। ক্ষুদ্র মানুষ জীবনের কোনো ক্ষণে সলতার মতো জ্বলে নিভে যায়। কেউ কেউ জীবদ্দশায় বিকাশ লাভ করে। কেউ বা দেহত্যাগ হাজার বছর পরে।

এই সব হিসেব সহজ কথায় বলা কঠিন। আসলে সহজ বিষয়টাই তাই। অনেক কঠিন বিষয় বুঝে নিলে সহজকে বোঝা যায়। সহজকে জানা যায়। সহজকে মানা যায়।

(চলবে…)

<<টকিমোল্লায় গানে আসর ।। সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-এক>>

………………………..
ভবঘুরে খেরোখাতা: পর্ব এক
ভবঘুরে খেরোখাতা: পর্ব দুই
মনোমোহনের পথে : প্রথম কিস্তি
মনোমোহনের পথে : দ্বিতীয় কিস্তি
মনোমোহনের পথে : তৃতীয় কিস্তি
দয়াময় থেকে দয়ালের দরবারে : কিস্তি এক
দয়াময় থেকে দয়ালের দরবারে : কিস্তি দুই
শাহান শাহ্’র দরবারে : পর্ব এক
শাহান শাহ্’র দরবারে – পর্ব দুই
লোকনাথ বাবার আশ্রম হয়ে মহারাজের আশ্রমে : এক
লোকনাথ বাবার আশ্রম হয়ে মহারাজের আশ্রমে : দুই
লোকনাথ বাবার আশ্রম হয়ে মহারাজের আশ্রমে : তিন
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি- এক
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি- দুই
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি : তিন
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি : চার
সীতাকুণ্ডের ঝড়ঝড়িতে গড়াগড়ি : পাঁচ
নিরা গোঁসাইয়ের মতুয়া মহাসম্মেলন- এক
নিরা গোঁসাইয়ের মতুয়া মহাসম্মেলন- দুই
সাঁইজির ধাম হয়ে পাককোলা- এক
সাঁইজির ধাম হয়ে পাককোলা- দুই
টকিমোল্লায় গানে আসর
ফর্সা হাজীতে আরেক দফা
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-এক
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-দুই
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-তিন
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-চার
সাঁইজির ধাম হয়ে নহির সাইজির হেমাশ্রমে-পাঁচ

প্রাসঙ্গিক লেখা

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!