খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা

খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি এক

-মূর্শেদূল মেরাজ

রিক্তা মা প্রায়শই বলেন, ‘শোন মেরাজ! সময় কইরা গণি শাহ্ বাবার দরবারে যাবিই যাবি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নবীনগর। তয় মনে রাখবি গণি শাহ্ বাবা কিন্তু গরম। ভীষণ গরম। বেয়াদবি করবি না। খবরদার।’

সেই থেকেই দয়াল বাবা গণি শাহ্’কে নিয়ে আগ্রহ বাড়তে লাগলো। যতদূর মনে পরে, দয়াল বাবার প্রথম ছবিটা দেখেছিলাম তাঁতীবাজারের ভাস্কর শংকর ধরের দোকানে বসে। গণি শাহ্ বাবার এক ভক্ত ছবিটা নিয়ে এসেছিলেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক সহকর্মী ছিল একসময়। তিনিও প্রায়ই বলতেন গণি শাহ্ বাবার কথা।

গণি শাহ্ বাবার দরবারে ওরশের সময় কি পরিমাণ লোক হয়। পাগল-মস্তান কেমন আসে। রাতব্যাপী কেমন গান হয়। সেই কত কথা হতো। তারপর যা হয়। সময়ের স্রোতে একসময় গণি শাহ্ বাবা মাথার ভেতর থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। রিক্তা মায়ের কথায় তা আবার জাগ্রত হলো।

সেই থেকে মনের মাঝে বাঞ্ছা নিয়ে ঘুরিফিরি। ভাবি যাবো যাবো। কিন্তু যাওয়া হয় না। অবশ্য সাধুগুরুপাগলরা বলেন, অলি-আউলিয়া-ফকির-পাগল কামেল সাধকদের দরবারে চাইলেই যাওয়া যায় না। তার জন্য নির্দিষ্ট সময় লাগে। ডাক লাগে। আর সেই ডাক আসলে ঘরে থাকা যায় না। যেতেই হয় সেই পথে।

আবার ডাক না আসলে যাওয়ার উপায়ও থাকে না। কিন্তু সেই ডাক আর আসছিল না কিছুতেই। ঘটা করে আয়োজন করেও যাওয়া হয়নি বেশ কয়েকবার। তারপর একদিন কিভাবে কিভাবে জানি ঠিকই যাওয়া হয়ে গেলো দয়ালের দরবারে।

আর যেয়েই বুঝলাম দয়াল বাবা গণি শাহ্’র দরবারে একবার গেলেই হবে না। যেতে হবে বারবার। বারংবার।

দয়ালের দরবারে গিয়েই পেয়ে গেলাম জাফর কাকাকে। বর্তমানে দরবারে দায়িত্বরত দশজন খাদেমের একজন হলেন খাদেম জাফর আহমেদ। ছোটখাটো মানুষটা পুরোটাই প্রেম আর বিনয়ে পরিপূর্ণ। অল্পসময়ের মধ্যেই আলাপ জমে উঠলো। শুনলাম-জানলাম দয়াল বাবা সম্পর্কে অনেক কিছু।

সেই আলাপচারিতার অংশবিশেষ সকলের সাথে ভাগাভাগি করে নিতেই। যতদূর সম্ভব জাফর কাকার জবানের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক ভাষাতেই তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আসলে কাকার ভাষাটা এতোটাই ভালো গেলে গেছে যে, তা আর প্রমিত শব্দে পরিবর্তন করার মন চাইলো না কিছুতেই।

তাই অল্প সময়ে যে মানুষটা দয়াল বাবা গণি শাহ্’র দরবারের খাদেম থেকে কাকা হয়ে উঠেছিল তার ভাষাতেই শ্রুতি লেখকের কাজটি করছি। যার নাম দিয়েছি- ‘খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা’

উনার গুরু সম্পর্কে তো আমরা জানতাম না। এমনিতে কুনুমিঞা পীর সাহেবের কাছে উনি যাইতো। রাহাত আলী শাহ্ হুজুরের কাছেও যাইতো। উনি যাইতো। কিন্তু উনি কিছু বলতো না। উনার বাইল্য জীবনে কিন্তু উনি মোল্লা পড়া পড়ছে। আমরা কিন্তু মোল্লা বংশধর।

খাদেম জাফর কাকার জবানে- এতো বৎসর আগের কথা ইতা কি আর মনো থায়ে? আমি কিন্তু একটু ছুডু সময় আসছি দয়াল বাবার কাছে। উনি আমারে আমার বাপের হাত থেইক্যা রাইখা দিসে। আমার বাপে আমারে লয়া আইছিল দয়াল বাবার কাছে।

তিনায় আমার বাপেরে কইছে, তুমি যাও। এইলারে দিয়া যাও। তখন আমার বয়স সাত-আট।

এরপর উনার লগে থাকতাম। উনার লগে নৌকায় থাকতাম। নৌকায় রাখতো। সময়ে ভাত খাওয়াছি। সিগারেট খাওয়াছি। এমুনো সময় গেছে উনারে সিগারেট খাওয়াইতে খাওয়াতে আঙ্গুলগুলা পুইড়া গেছে। দশ প্যাকেট-বিশ প্যাকেট সিগারেট খাইছে; বয়া থাইকা।

তখন এহনকার মতো এই জায়গায় কিচ্ছু ছিল না। একটা রাস্তা ছিল। রাস্তার মধ্যে থাকতাম। আর এই দিক দিয়া যত লোক যাইতো গালাগালি করতো আমরারে। কইতো, এই ল্যাংডা বেটা এইখানে পইরা থাকে। এই করে। হেই করে।

যত অকথ্য গালাগালি আছে আমগো করতো। বর্তমানে আমরা যেই জায়গাডায় আছি দয়ালের। এই ক্ষেতওয়ালা আমরারে যেই গালাগালি করছে একসম। আমরা ক্ষেতে পারা দিলোই। পরে তো জায়গা ছাইড়া দিয়া যাওন গা লাগছে। কিন্তু হের কিচ্ছু নাই অনে। আমরার দয়ালরে গালাগালি করছে হের কিচ্ছু নাই।

হের পুরা রাজ্যের সম্পদ আছিলো এই খানকার। সব বেঁচাকিনা শেষ। আর হেই সময় দয়ালে পারা দিলে গালাগালি করছে। হেই সময় এইখানে কিচ্ছু ছিল না। শুধু আমরাই কিছু লোক দয়ালের লগে ছিলাম। যারা বাইরে থেকে আসতো দয়ালের কাছে। ঢাকাত্তে, কেউ ময়মনসিংতে। রাজশাহীত্তে। সিলেটতে। কেউ চিটাগাংতে।

এইভাবেই দয়াল সম্পর্কে আস্তে আস্তে মানুষের কাছে প্রকাশ হইছে। দয়াল যখন এই এলাকায় আইস্যা ধরা দিলো। এই এলাকায় যে উনি ধরা দিছে তার ৫২ বৎসর চলতাছে। উনি যে একজন কামেল ব্যক্তি। একজন অলি।

এই জায়গায় আইসা উনি প্রকাশ হইছেন আস্তে আস্তে। এর আগে তো বিভিন্ন জায়গায় উনি ঘুরছে। দেশ-বিদেশে। কেউ জানতো না। চিনতো না। আমাদের বাড়িরতনই যখন বাইর হইছে। উনার ভাইরাই উনার খবার পাইছে না। যে উনি কই আছে।

আমার বাপে না। আমার চাচায় না। আমার জেডায় না। বইনেও না। কেউ খবর পাইছে না; কই আছে।

উনার গুরু সম্পর্কে তো আমরা জানতাম না। এমনিতে কুনুমিঞা পীর সাহেবের কাছে উনি যাইতো। রাহাত আলী শাহ্ হুজুরের কাছেও যাইতো। উনি যাইতো। কিন্তু উনি কিছু বলতো না। উনার বাইল্য জীবনে কিন্তু উনি মোল্লা পড়া পড়ছে। আমরা কিন্তু মোল্লা বংশধর।

আপনি বাইত্তন আইছেন। দয়ালের কাছে আইছেন নিয়ত কইরা। আপনার সুবিধা-অসুবিধা। আফনের জবাবটা আপনই পাইছেন। হাজার হাজার মানুষ ডেইলি আইছে। কেউই কোনো কথা কউন লাগছে না। আর হেইলা কাউরে কোনো ফু’ও দিসে না। কাউরে কোনো তাবিজও দিসে না।

আমার দাদা মোল্লাই কইরা গেছে। আমার চাচায় করছে। ইলাও করছে।

আমার বাবা উনার ভাই। আমি দয়াল বাবার ভাতিজা। দয়ালের ছোটই আমার বাপে ছিল।

উনার কাছে যখন আইসি নি। তখন উনি বইতে [বাড়িতে] যাইবো। তখন আমি পাছে খাঁড়া। দয়াল আমারে দেহায়া কয়, ইলারে দিয়া যাও। তুমি যাওগা। ইয়ার পর থেইক্ক্যা আইছি যে আইছিই। এরপর আর যাই নাই।

এর একদেড় বৎসর পর উনার এক ভক্ত আছিলো। উনারে দিয়া আমার মোসলমানি করাইছে। আমারে আর একজনরে। আমাদের দুইজনরে। সেই ছুডু থাকতোই এইখানে।

দয়ালের বেশভূষা একই রকম ছিল। উনি তো কোনো সময় কাপড় পরেন নাই। ল্যাংডাই ছিল। শুধু অল্প একটু কাপড় ঐখানে থাকতো। এমুনোই।

উনার লীলা… তা দুনিয়ার ভাষায় বুঝান যাইতো না। একটা অলিরে কি আর মুহে বুঝান যায়? না দেখলে অনুভব করোন যায় না। উনার কার্যকলাপ ধরা মুশকিল। উনি কোনো দিনও… মনে করেন আপনি যে ঢাকাত্তেন আসছেন। ময়মনসিংতে আইসেন। কোনো দিনও আপনার উনার কাছে খুইল্ল্যা নালিশ দেওন লাগছে না।

কিয়ের লাইগ্গ্যা আইছেন উনি জানে। কিন্তু উনি এইখানে হাজার মানুষ খাঁড়য়া আছে… আপনি যেমুন দয়ালের কাছে কি ফরিয়াদ করছেন। আর উনায় যে কি জবাব দিছে। তা কেবল আপনই বুঝছেন। কওন লাগছে না, বাজান আমার পেট বেদনা। সারাও। আমার এইডা অয় না। এইডা সারাও।

আপনি বাইত্তন আইছেন। দয়ালের কাছে আইছেন নিয়ত কইরা। আপনার সুবিধা-অসুবিধা। আফনের জবাবটা আপনই পাইছেন। হাজার হাজার মানুষ ডেইলি আইছে। কেউই কোনো কথা কউন লাগছে না। আর হেইলা কাউরে কোনো ফু’ও দিসে না। কাউরে কোনো তাবিজও দিসে না।

আছে না একটা ফু দাও। একটা তাবিজ দাও। এসব কোনো কাজ কারবারের মধ্যে আছিলো না। আইছেন। কোনো মতে যদি উনার শরীরে বা পায়ে হাত লাগাইতে পারছেন। তাইলে মনে করছেন যেইডার লেইগ্গ্যা আইছেন সেইটা সাকসেস হইছে।

আমরা ওনার সাথে প্রথম থেইকাই থাকছি। রইছি। এক খেতার তলে ঘুমাইছি। একলগে খাইছি। উনারে খাওয়াইছি। কামই আছিলো এইডাই। ডিউটিই এইটা আছিলো আমরার। যেমন আমি আছি। আরো দুই চার পাঁচ ছয়জন ছিল।

আরো পুরানো ভাই আছে। আমরার আগেও যারা ছিল। হেরাও আছে।

এইখানে আসার পর আমরা এইখানেই থাকতাম। বর্ষাকালে নৌকায়। দেখছেন না নৌকা আছে? বর্ষাকালে এই নৌকায় থাকতাম। রাস্তার মধ্যে পানি। এইমুর দিয়া তো জমি ছিল। গলা পানি হইতো।

কইছে একটা দঁড়ি আইনা তাড়াতাড়ি গিট্টু দাও। উনার কার্যকলাপ ছিল এই। আমরারে যা করাইছে। যা অর্ডার দিছে আমরা তা করছি। কিন্তু এর পাছে-এর ব্যাকসাইটে কি; তা আমরা জানি না। এইডা উনিই জানেন ভালো। অনে আপনি আইছেন। আপনি কি কইতাছেন। আপনি কি করতাছেন।

শুকনার দিনে আমরা সড়কের সাইডেমাইডে থাকতাম আইলে। আর বর্ষাকাল আইলেই নৌকার মাঝে। নৌকাটা দেখছেন? নৌকাটার ভিতরে। নৌকা দিয়া আমরা এই গাং পুরাডা ঘুরতাম। এইফান যাইতাম। ঐফান যাইতাম। মেঘনা যাইতাম।

যখন বর্ষার সিজন তখন আমরা নৌকা দিয়া পুরা এলাকাই বাইতাম। আমরা আওয়ার পরে দেখছি উনি বইসা গেছেন। দয়াল বাবা তারপর থেইক্ক্যা কোনো দরবার যাইতো না। এদ্দুরি ঘোরাঘুরি। আর কোনো দৌড়াদৌড়ি করে নাই।

উনি সবার সাথে বা সবার সামনে কথা বলতো না। কইলাম না ঐ যে আপনার জবাবটা আপনৈই পাইছেন। আমি কি চাইছি। আমার চাওয়ার জবাবটা আমিই পাইছি। এই যে আমরা অখন বয়া রইছি। কথা কইতেছি। উনি এইভাবে কোনো কথা কারো সাথে বলেন নাই।

আমার দেহাদেহি। আমার বয়সোত্তন আমি যদ্দুর বুঝছি-দেখছি। প্রায় সময়ই তো মনে করেন, আমরা চাইর-পাঁচজন লোকই তো নৌকায় থাকতাম। রাত্রে-গভীর রাত্রে। প্রায় সময়ই দেখা গেছে রাত তিনটা-চারটার সময় বয়া রইছি।

দয়ালের কাম দয়ালে করতাছে। আমরারে অর্ডার দিছে। কইছে- এইডা ধরো। ঐডা ধরো। আমরা ধরছি। দয়াল কইছে- তেনা দেও। তেনা দিছি। তেনা ধরছি। কইছে- সিগারেট খাওয়াও। সিগারেট খাওয়াইছি। কইছে- দঁড়ি আনো। গিট্টু দাও। গিট্টু দিছি।

কিন্তু সেই গিট্টুর মাহাত্ম্য কি সেইটা কিন্তু আমরা জানি না। একটা জিনিস। উনি যে উনার কর্ম করতাছে এইটা উনায়ই কইতে পারবো। তা আমরা জানি না। কিন্তু আমরা বাস্তবে এইডাই দেখছি যে, একটা রশ্মি আনো, রশ্মিটা ধইরা ঝাড়িঝুড়ি দিছে। কইছে- একটা তেনা আনো। তেনাটা ধইরা দিছে।

কইছে একটা দঁড়ি আইনা তাড়াতাড়ি গিট্টু দাও। উনার কার্যকলাপ ছিল এই। আমরারে যা করাইছে। যা অর্ডার দিছে আমরা তা করছি। কিন্তু এর পাছে-এর ব্যাকসাইটে কি; তা আমরা জানি না। এইডা উনিই জানেন ভালো। অনে আপনি আইছেন। আপনি কি কইতাছেন। আপনি কি করতাছেন।

এলাকার মানুষ হেরে পয়লা ভালোভাবে নেয় নাই। এরপর এইলা আস্তে আস্তে প্রকাশ হইছে। দয়াল বাবার লাইগ্গ্যা এলাকার বহুত মানুষের গালাগালি আমরা খাইছি। এহন তো মালিকের ইচ্ছায় দেহেন কত্তো বড় বাজার। অহনে কিন্তু লুইট্টা-পুইট্টা এলাকার লোকই খাইতাছে।

তা আফনেরডা আফনের লগে বুঝতাছেন। বা অনেকেই আইছে কিন্তু দেখা গেছে তার বোগলেই যাইতে পারে না। গালাগালি কইরা শেষ করছে। এমুনো সময় গেছে প্রচুর মারতো মাইনষেরে। যেসম উনার কাছে যাইতো। অনেকে তো ডরে বোগলে গেছে না।

আমরারে ধরণ লাগছে, ভাই আমারটা একটু কইয়া দেন। দয়ালের কাছে একটু ইয়া কইরা দেন। তাগো লইয়্যা গেলে মাইর আমরারও খাওন লাগছে। কথাটা বুঝছেন নি? এমুন প্রায় সময়ই। আমরা এমুনো বারি খাইছি।

নৌকায় সাতটা দশটা হুক্কা কিনোন লাগছে। আগে দয়াল হুক্কা খাইতো। সেই হুক্কা ধইরা রাখতাম। যেমন মনে করেন আপনই আইছেন। আয়া দয়ালের পায়ে ধইরা সেলাম করছেন। টুস কইরা হুক্কা দিয়া মাইর দিয়া কইছে, তুই কইলি না?

ত হেইডা ভাইঙ্গা গেছে গা। তয় আরেকটা দেওন লাগছে। হেই সমকা আমরা তো ছুডু। হেই সময় তো বুঝি না। যদি বুঝতাম তাইলে না অনুভব করলাম অইলেওলে। তখন যদি আমরা বুঝি, অকটু চিন্তা করি, আমি আমার মুর্শিদের সাথে, আমার গুরুর সাথে কি করলাম। তাইলি হেইডা অনুভব করা যায় কি যে করলাম।

ঐ যে কইছি না বাচ্চা মানুষ আমরা বুঝি না। আমরা বাচ্চা ছিলাম। বুঝছিনা। উনায় তো উনার কাজ উনার কাম উনি কইরা গেছেন। এমুনু দিন গেছে যে বৃষ্টিয়ে আমরা একটা ছাত্তি দিয়া চার-পাঁচ জনে বইসা থাকছি।

আবার এমুনু সময় গেছে দয়াল কইছে ছাত্তিটা ফালায়া দাও। বৃষ্টি পরতাছে। বিজলী পরতাছে। ঠাডা বিজলী। ঝড় তুফান হইলে বুঝেনই তো কি অবস্থা।

এইখানে এই ঘরদুয়ার কিচ্ছু ছিল না। তহনো এলাকায়, মানুষ বিদেশী যারা আইতো। তাগো গাইলাইতো। কইতো- এক পাগল আইছে আরেক পাগলের কাছে।

এলাকার মানুষ হেরে পয়লা ভালোভাবে নেয় নাই। এরপর এইলা আস্তে আস্তে প্রকাশ হইছে। দয়াল বাবার লাইগ্গ্যা এলাকার বহুত মানুষের গালাগালি আমরা খাইছি। এহন তো মালিকের ইচ্ছায় দেহেন কত্তো বড় বাজার। অহনে কিন্তু লুইট্টা-পুইট্টা এলাকার লোকই খাইতাছে।

আমরা আর কয়জন মানুষ? আমার বাপ-চাচারা কয়জন আছে? বা উনার ভক্তবৃন্দ এখানে কয়জন আছে যে খাইতাছে? পুরাডা লুইট্টা তো হেরাই নিতাছে। যে বাজার এখানে জমছে তা তো লুইট্টা হেরাই খাইতাছে। এলাকার দেহেন কত স্বার্থ এহন চলতাছে।

(চলবে…)

খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি দুই>>

……………………….
আঞ্চলিক ভাষার কিছু শব্দার্থ-

আওয়ার= আসার।
আন্তারে= আনতে পারে।
আমরাও= আমাদেরও।
আমরার= আমাদের।
ইলা= উনি।
উনায়ই = উনিই।
এখন= এখন।
এলান= এইটা।
কিয়ের= কিসের।
খাঁড়া= দাঁড়ানো।
গাং= নদী।
চাইর= চার।
চুইক্ক্যা= চুক্তি করে।
ছুডু= ছোট।
জওব= জবাব।
থায়ে = থাকে।
থাইকা=থেকে।
পাছে = পেছনে।
বইন= বোন।
বয়া= বসে।
বাইল্য= বাল্যকাল।
বোগলে= কাছে।
বিছরাইয়া= খোঁজ করে।
লাইগ্গ্যা= জন্য।
মুহে= মুখে।
মুর= পাশ।
তহনো= তখনো।
সমকা= সময়ে।
সম= সময়।
হাপের লেজ= সাপের লেজ।
হেইলা = উনি।
হেইলারে = তাকে।
হেই = সেই।
হেই সমকা= সেই সময়।

………………………..
আরো পড়ুন-
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি এক
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি দুই
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি তিন
খাদেম জাফর কাকার জবানে গণি শাহ্ বাবা: কিস্তি চার

……………………………….
ভাববাদ-আধ্যাত্মবাদ-সাধুগুরু নিয়ে লিখুন ভবঘুরেকথা.কম-এ
লেখা পাঠিয়ে দিন- [email protected]
……………………………….

প্রাসঙ্গিক লেখা

2 Comments

  • স্বরুপ , রবিবার ২৫ জুলাই ২০২১ @ ১১:০৬ পূর্বাহ্ন

    পর্যায়ক্রমে দয়াল বাবা গনিশাহ্ (রঃ) – এর ভক্ত ছেলে মঈনুল সুলতান মিলন শাঁহ্ এর সাক্ষাৎকার নেওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছি।।।।ওনি একজন গুনী মনে হয়।।দয়াল সম্পর্কে অনেক জানে।।দয়াল এর একান্ত মনে হয়।।

    পর্যায়ক্রমে ওনার সাক্ষাৎ ও নেওয়া হোক।।আশা করছি ওনার কাছ থেকে অজেক কিছু জানার আছে আমাদের।।

    • ভবঘুরে , মঙ্গলবার ২৭ জুলাই ২০২১ @ ৫:৪১ অপরাহ্ন

      ধন্যবাদ আপনার যুক্তিপূর্ণ মতামতের জন্য। উনার সাথে যোগাযোগের ব্যবস্থা করবেন। যাতে উনার সাক্ষাৎকার নিতে পারি। অসংখ্য ধন্যবাদ। পাশে থাকবেন। জানাবেন। জয়গুরু।।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

error: Content is protected !!